banglanewspaper

মাদক নির্মূল অভিযানে আমি শতভাগ সমর্থন করলেও এটা কোন ভাবেই সমর্থন করছিনা - কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যাক্তির প্রকৃত নাম ঠিকানা- একরামুল হক, পিতা- মৃত আব্দুস সাত্তার, গ্রাম- কায়ুকখালী পাড়া, টেকনাফ পৌরসভা। কিন্তু র‍্যাব বলছে নিহতের নামঃ একরামুল হক, পিতা মোজাহার, গ্রাম নাজিরাপাড়া (পৌরসভার বাইরে)!

অথচ টেকনাফের ইয়াবা গড়ফাদারদের তালিকায় যে একরামের নাম উল্লেখ আছে তা হলো - একরাম হোসেন।

নাম এবং ঠিকানার এতো বড় বিভ্রান্তি থাকার পরেও কেন বা কার ইশারায় কোন কোন্দলের জেরে কাউন্সিলর কে হত্যা করে কাদের স্বার্থ রক্ষা করেছে কক্সবাজার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী! এ প্রশ্নটা দু'দিন যাবৎ মাথা থেকে সরাতে পারছিনা। আবার এটাও সত্যি যে টেকনাফ সহ কক্সবাজার জেলার প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই কোন না কোন সদস্য ইয়াবাসেবী এবং খুচরা ব্যবসার সাথেও জড়িত।

তবে বাংলাদেশের মাদক ব্যবসায়ী তালিকার ১ নম্বর আসামী হাজ্বী সাইফুল সিএন্ডএফ এর ঠিকাদারির নামে অবাধে টেকনাফ, কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের সম্ভাব্য সব গুলো পয়েন্ট দিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ পাহারায় ইয়াবার চালান দেশে ঢুকিয়েছে বছরের পর বছর ধরে। তখন কক্সবাজারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিস্তেজ থেকে বরং সাহায্য করেছে। এবং এবার যখন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন ঠিক তখনই নাকি সেই শীর্ষ মাদক বনিককে খুঁজে পাচ্ছেনা কক্সবাজারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী! এটা পাগলকেও বিশ্বাস করাতে কষ্ট হবে কিন্তু আমাদের সেটা ই বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে!

সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হলো সেই হাজ্বী সাইফুল আগাগোড়া বিএনপি নেতা হলেও বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেও তার দৌরত্ম্যে সামান্যতম ভাটা পরেনি বরং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সহ প্রশাসনের কিছু দূর্নীতিবাজ লোকের সহযোগীতায় তার ব্যবসা আরো বেগবান হয়েছে।

ইয়াবা বিক্রির টাকায় সেই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে আবার 'সি আই পি ' সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। এসবই সম্ভব হয়েছে দূর্নীতিবাজ সহযোগীদের বদৌলতে। বিশেষ করে জামাত বিএনপির মদতদাতা হিসেবে বিতর্কিত চট্টগ্রামের বর্তমান মেয়রের সাথে হাজ্বী সাইফুলের অন্তরঙ্গতার বিভিন্ন খবরসহ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ কিছুদিন থেকেই ভেসে বেড়াচ্ছে। এবং কিছু কিছু স্থানীয় অনলাইন পোর্টেলে বলা হচ্ছে যে, মেয়রের হেফাজতে বেশ নিরাপদেই রয়েছে দেশের শীর্ষ মাদক সম্রাট হাজ্বী সাইফুল।

যার নাম দেশের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী তালিকার ১ নম্বরে সেই সাথে যে একজন 'সি আই পি ' তাকে খুঁজে না পাওয়ার তথ্য কি সত্যি ই বিশ্বাসযোগ্য? আমাদের দেশের শতশত বিচক্ষণ এবং চৌকশ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে যারা , অত্যন্ত দক্ষতা এবং সাহসীকতার সাথে দেশ থেকে সন্ত্রাসীদের বড় বড় ঘাটি উপড়ে ফেলেছে, মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যখন দেশের কল্যানের স্বার্থে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পারেণা এমন কোন কাজ নেই বলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চাচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে টেকনাফ অর্থাৎ শীর্ষ মাদক সম্রাটের জন্মস্থানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর অত্যন্ত জনপ্রিয় কাউন্সিলার কে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে হত্যা করে কক্সবাজারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাদের মদত দিচ্ছে! কেনই বা সাইফুল কে খুঁজে না পাওয়ার নাটক সাজাচ্ছে ?

টেকনাফে কথিত ক্রসফায়ারে মৃত কাউন্সিলরের জনপ্রিয়তা ই প্রমাণ করে যে, মৃত কাউন্সিলর কোন ভাবেই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন না। তাছাড়া তার ভাঙাচোরা বাড়ি ঘরের ছবির সাথে তার সন্তানদের বেশভূষা এবং সংসার চালানোর ধরণ, লোকের কাছে দায়-দেনা র কথা বিচার করলেও বোঝা যায়। এবং তার জানাজায় লাখো মানুষের আহাজারি ও প্রমাণ করেছে যে, তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় সরকার দলীয় নেতা ছিলেন। একজন কুখ্যাত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর জানাজায় কোন ভাবেই এমন জনসমুদ্রের কথা কল্পনা করাও বোকামী, এটা যে নিছক চাতুরী ছিলো তাও প্রমাণ করেছে স্থানীয় জনগণ। কার বা কাদের স্বার্থ সিদ্ধির বলী হতে হলো কাউন্সিলর একরামকে এই প্রশ্ন এখন টেকনাফ, কক্সবাজার সহ সমগ্র দেশবাসীর।

দু'দিন আগেও বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় মাদক সম্রাট হাজ্বী সাইফুল, এমপি বদি সহ বদি'র ৫ ভাইয়ের সম্পৃক্ততার কথা তালিকাসহ ফলাও ভাবে প্রচার করা হলেও সে সব শীর্ষ তালিকার কাউকেই আজ অবধি ক্রসফায়ার তো দুরের ব্যাপার আটকের খবর পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছেনা।

অথচ একজন জনপ্রিয় সরকার দলীয় কাউন্সিলর একরাম, যার সাথে এমপি বদি'র আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলে (রাঘববোয়ালদের আড়াল করে চুনোপুঁটি ধরে) উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হত্যা করে ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধ বলে চালিয়ে সারা দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এতো দিনের অর্জিত সুনাম কে কলঙ্কে পরিণত করার মতো স্পর্ধা কক্সবাজার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গোটা কয়েক দূর্নীতিবাজ সদস্য কোথায় পেলো?

টেকনাফের এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যা কান্ড ঘটিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গুপ্ত দূর্নীতিবাজ সদস্যরা পুরো মিশনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ঘৃণ্য চেষ্টা করেছে কিনা সেটাও এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে। সারা দেশের প্রকৃত দেশপ্রেমী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক বিরোধী এই অভিযান কে প্রশ্নবিদ্ধ করে থামিয়ে দিয়ে কুচক্রীদের সাথে একত্ব হয়ে শীর্ষ মাদক সম্রাটদের বাচানোর জন্য এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে কি না সেটা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তদন্ত করে প্রকৃত দোষিদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার দাবী এখন সামগ্র দেশবাসীর।

জামাত বিএনপির ঘাটি খ্যাত বৃহত্তর চট্টগ্রামের কক্সবাজার টেকনাফ সহ পার্বত্য অঞ্চল গুলোতে শুধু মাদক নয় সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ শিবির রয়েছে। এবং আজো সে সব এলাকায় জামাত - বিএনপির ইশারায় স্থানীয় প্রশাসন পরিচালিত হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত অত্যাচারীত হচ্ছে সে সব দলীয় সান্ত্রাসীদের দ্বারা তার ওপর রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ও টাকার বিনিময়ে জামাত বিএনপির সাথে মিশে মাদক বিক্রি সহ সব ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সহায়তা করছে বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রতিনিয়ত প্রকাশ হওয়ার পরেও স্থানীয় প্রশাসন সেই সব সন্ত্রাসীদের আটক না করে, কোন এককালে ইয়াবা ব্যবসায়ী পরিবারের সাথে আত্মীয়তাকারী একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিককে এভাবে হত্যা করে রাঘববোয়ালদের আড়াল করার অপচেষ্টা মেনে নেয়া যাচ্ছেনা, মেনে নিতে পারছেনা বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ বাংলার মানুষ।

 

লেখিকাঃ
সাংবাদিক,
মাকসুদা সুলতানা ঐক্য। 

 

 

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: banglanewspaper চুনোপুঁটি