banglanewspaper

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: হাওড় নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় বোরো মৌসুমে চাল সংগ্রহ শুরু হলেও ধান সংগ্রহের কোন রকম খবর না থাকায় ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কেন্দুয়ার হাজার হাজার কৃষক।

সূত্রে জানা গেছে,নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে ২১০০ মেঃটন চাল সংগ্রহের বরাদ্ধ পেয়ে গত ১৪ মে হতে চাল সংগ্রহ শুরু করেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। কিন্তু এ বছর ধান সংগ্রহের বরাদ্ধ না থাকায় ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বি ত হচ্ছে হাওড় অ ল খ্যাত কেন্দুয়া উপজেলার কৃষকরা। ধান সংগ্রহ অভিযান না থাকায় কেন্দুয়ার হাট-বাজার গুলোতে ধানের খুব একটা কদর নেই। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় বিআর-২৮ এক মণ ধান ৫৮০ থেকে ৬২০ এবং বিআর-২৯ ধান ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড ধানের মূল্য আরো কম।

কেন্দুয়া কৃষি অফিস মতে চলতি বোরো মৌসুমে ২০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে এ বছর বোরো আবাদ করা হয়েছে। এতে হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন হয়েছে ৩.৬৬ মেঃটন ধান। আর ২০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে মোট উদপাদন হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার ১১৫ মেঃটন। কেন্দুয়ায় জনসংখ্যা অনুযায়ী এক বছরে খাদ্যের চাহিদা রয়েছে ৬০ হাজার মেঃটন। বোরো মৌসুমে প্রায় ১৪ হাজার মেঃটন ধান উদ্বৃত্ত হলে আমন মৌসুমে উৎপাদিত ধানও হবে উদ্বৃত্ত। এ অবস্থায় কেন্দুয়া উপজেলা হাজার হাজার কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বি ত হওয়ার আশঙ্খা দেখা দিয়েছে।

কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর বৈরী আবহাওয়া মাঝে অতি কষ্টে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই করতে হয়েছে। এ কাটা জমিতে যে ধান পেয়েছি তার বেশি খরচ করতে হয়েছে। সরকার যদি ধান সংগ্রহ করতে তাহলে বাজারে ধানের (ধরটা) দাম আরেকটু বাড়তো এবং আমাদেরও পোষাত।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চন্দন কুমার মহাপাত্র জানান,ধান ফসলের উপর নির্ভরশীল কেন্দুয়ার কৃষকরা। এ উপজেলায় উদ্বৃত্ত খাদ্য হয়। কেন্দুয়ায় যদি ধান সংগ্রহ না করা হয় কৃষকরা খুবই কষ্ট পাবে।

কেন্দুয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহের এখন পর্যন্ত কোন বরাদ্ধ পায়নি। চাল সংগ্রহের জন্য ২১০০ মেঃটন বরাদ্ধ পেয়ে ১৭টি মিলারের সাথে চুক্তির মাধ্যমে চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে।
 

ট্যাগ: banglanewspaper কেন্দুয়া