banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বীকৃত পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী না থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলেও এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) ভাইস প্রিন্সিপাল ডা: আবুল হোসাইনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে এ কলেজের ২০১৬-১৭ বছরে ৯ কোটি টাকার ভারী যন্ত্রপাতি কেনার ঘটনায় নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ উচ্চারিত হলেও কোন তদন্তই শুরু হয়নি। 

এদিকে, এই দুই ঘটনার কোন সুষ্ঠু সমাধান না হলেও সিন্ডিকেটের পছন্দের চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে বসাতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের পেশাজীবী সংগঠনের এক নেতার ভাই পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছেন। অন্য এক চিকিৎসকের মাধ্যমে সুনাম কুড়ানো হাসপাতালটির উন্নয়ন কর্মকান্ডকে জোরালো সমর্থন করা চিকিৎসকদের বদলীর মুখে পড়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। এসবের নেপথ্যে মোটা অংকের লেনদেন হয়েছে বলেও খবর ছড়িয়ে পড়েছে। 

জানা যায়, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) স্বীকৃত পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী না থাকার পরেও পেশাজীবী এক সংগঠনের নেতার বন্ধু হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) ভাইস প্রিন্সিপালের পদে নিয়োগ পেয়েছেন ডা:এ.কে.এম.আবুল হোসাইন। 

তিনি নিজে লন্ডনে ডিপ্লোমা ইন গাইনোকোলজিস্ট অ্যান্ড অবস্ট্রেটিকস্ (ডিজিও) করেছেন বলে দাবি করলেও গোল বেঁধেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. আনোয়ারুল হক ফরাজীর বক্তব্যে। 

তিনি নিশ্চিত করেছেন, ‘ডা. একে এম আবুল হোসাইনের এমবিবিএস ছাড়া ১৫৩২১ নম্বর নিবন্ধনে আরও কোনো গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি নেই।’ এ বিষয়টি জানাজানি হবার পর তোলপাড় চলছে হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে। 

এরপরেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা বিএমডিসি এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন ওঠেছে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়াতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা। 

একই সূত্রের অভিযোগ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) ২০১৬-১৭ বছরে ৯ কোটি টাকার ভারী যন্ত্রপাতি কিনতে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠলেও এ ঘটনার কোন সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। ২০১৭ সালের মার্চ মাসের দিকে আরডেন্ট সিস্টেম নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে অতি উচ্চমূল্যে ওই কাজ দেয়া হয়েছে। 

এসব অভিযোগের সত্যাসত্য যাচাই-বাছাই করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তেরও দাবি ওঠলেও সবাই নির্বিকার। এ ঘটনারও কোন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে আইনি প্রক্রিয়ার মুখে পড়তে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে।

এদিকে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের চিকিৎসকদের বদলী তালিকা নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেছে একটি সিন্ডিকেট। সরকার দলীয় পেশাজীবী এক সংগঠনের নেতার ভাইয়ের মধ্যস্থতায় ইতোমধ্যেই এ তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে বলে গুঞ্জণ ছড়িয়ে পড়েছে। 

একই সঙ্গে হাসপাতালের টেন্ডার কমিটির বৈঠকে অংশ না নিতে এক সদস্যকে পেশাজীবী সংগঠনের ওই নেতা ইতোমধ্যেই বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে। মূলত সিন্ডিকেটের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতেই নতুন এক মিশন নিয়ে দৃশ্যপটে এবার আবির্ভূত হয়েছেন ওই নেতা নিজেই। এতে করে আবারো হাসপাতালে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা। 

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বুধবার (৩০ মে) ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে বিভাগীয় চিকিৎসকদের বদলী সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো: আব্দুল গণি এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সভাতেই মূলত হাসপাতালের চিকিৎসকদের বদলীর তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়। 

সূত্র মতে, এ বদলীর নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন পেশাজীবী সংগঠনের এক চিকিৎসক নেতার ভাই। তাঁর হয়ে এ তালিকা প্রস্তুতের কাজ করছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালের আতœীয় ও হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের এক চিকিৎসক। 

পরবর্তীতে ওই তালিকা পৌঁছে দেয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশক্রমে অন্ত:বিভাগীয় বদলীর জন্য সপ্তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের বদলীর জন্য গঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির একজন ওই ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে। 

মূলত তাদের অনুগত, পছন্দ নয় কিংবা হাসপাতালের চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডের সঙ্গে আছেন এমন চিকিৎসকদের বেছে বেছে এই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে বলেও খবর চাউর হয়ে ওঠেছে। আবার এ পদে স্থলাভিষিক্ত করা হবে নিজেদের অনুসারী-অনুগামীদের। এ মিশনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন পদোন্নতি ও সংগঠনের পদলোভী গুটিকয়েক চিকিৎসক। 

অসমর্থিত একাধিক সূত্র বলছে, প্রতিবারই বিভাগীয় এ বদলীর বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেন পেশাজীবী সংগঠনের ওই নেতার ভাই। আর এর মাধ্যমে প্রতি বারই মোটা দাগে লেনদেনও হয় বলে গুঞ্জণ রয়েছে। এ তৎপরতার সঙ্গে বদলী কমিটির অন্য কোন সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন সম্পৃক্ততা নেই। 
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বদলীর বিষয়টি একটি রুটিন ওয়ার্ক। অযথা কাউকে বদলী করা হবে না। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক স্বচ্ছতার সঙ্গেই এ কাজটি করেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তি মহল বিশেষেরই অপপ্রচার।

ট্যাগ: banglanewspaper দুর্নীতি