banglanewspaper

এস,এম,আশরাফুল হক রুবেল কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রাম জেলা জুড়ে পাগলা কুকুর আতংক বিরাজ করছে। গত ৩ দিনে কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, রাজারহাট, ভুরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুসহ প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ পাগলা কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিয়েছে ১২২জন। এরমধ্যে শুধু কুড়িগ্রাম পৌর এলাকারই ২০জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার ছোট-বড় বাজার ও শহরগুলোতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়ে গেছে। দীর্ঘদিনে ধরে সরকারী ভাবে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনে কোন ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ করে গত ৩দিন ধরে এসব বেওয়ারিশ কুকুর মানুষজনকে আচমকা কামড়াতে শুরু করলে আতংক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে।

কুড়িগ্রাম পৌর সভার বানিয়াপাড়া গ্রামের সুজা মিয়া(৪৮), বাসস্টান্ডপাড়ার আব্দুল হাকিম(৪৫), শাহীন(৫০) জানান, আমরা রাস্তায় চলার সময় হঠাৎ করে দুই থেকে ৩টি কুকুর এক সাথে এসে আক্রমন করে কামড় বসিয়ে চলে যায়। এখন বাধ্য হয়ে সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে এসেছি।

এদিকে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকাসহ উপজেলাগুলোতে পাগলা কুকুরের আক্রমনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় পথ চারীদের মাঝে পাগলা কুকুরের আতংক বিরাজ করছে। রাস্তায় কুকুর দেখলেই সে পথে আর হাটার সাহস পাচ্ছেন না অনেকেই।

এব্যাপারে কুড়িগ্রাম পৌরসভার মেয়র আব্দুল জলিল পৌর এলাকায় বেওয়ারীশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধিপাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বেওয়ারিশ কুকুর নিধনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুকুর নিধন করা যাচ্ছে না। আমরা খুব শীঘ্রই একটা ব্যবস্থা নিবো।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন কর্নারের ইনচার্জ মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শিশুসহ ১২২জনকে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে মধ্যে যাদের ক্ষত বেশি তাদেরকে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সাথে র‌্যাবিক্স আইজিও দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডাঃ এসএম আমিনুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে। যেহেতু কুকুর নিধন করা নিষেধ সেহেতু কুকুরকে ভ্যাকসিন দেয়ার চিন্তা ভাবনা চলছে।

ট্যাগ: Banglanewspaper কুড়িগ্রাম