banglanewspaper

মো. মোজাম্মেল ভূইয়া, আখাউড়া: ব্রাক্ষণবাড়িয়ার জেলার আখাউড়া স্থলবন্দরে আখাউড়া-আগরতলা রোডে নিরাপত্তার নামে অনিরাপদ স্পীড ব্রেকার নির্মাণ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

প্রায় প্রতিদিন ওই স্পীড ব্রেকারের কারণে দূর্ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকি নিয়ে চলছে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, রিক্সা, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল দিয়ে চলাচল করা যাত্রীরা।

জেলার আখাউড়া সীমান্ত ঘেষা আগরতলা সড়ক দিয়ে সেনারবাদী, উমেদপুর, বাউতলা, রাজেন্দ্রপুর, জয়নগর ও ছয়ঘড়িয়া গ্রামের মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল নিত্যদিনের। সড়ক মহাসড়কে স্পীড ব্রেকার দেওয়া অবৈধ হলেও কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিতভাবে এই সড়কে স্পীড ব্রেকার তৈরি করা হয়েছে।

স্থলবন্দর রাজস্ব কর্মকর্তা শ্যামল কুমার বিশ্বাসের নির্দেশক্রমে স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে অনেক উচু করে পাশাপাশি তিনটি স্পীড ব্রেকারটি নির্মান করা হয়েছে। স্পীড ব্রেকার গুলো নির্মাণ করা হয়েছে স্থলবন্দর কাস্টমস অফিস বরাবর।

ফলে আখাউড়া-আগরতলা রোড দিয়ে ছোট যানবাহন (যেমন- সিএনজি, অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল) উল্টে গিয়ে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে। প্রায় সময় যান উল্টে বড় দূর্ঘটনা ঘটে আহত হয় যাত্রীরা। এই স্পীড ব্রেকারের কবলে পড়ে রিকশা থেকে পড়ে পা ভাঙা বা মোটরবাইক উল্টে গিয়ে আহত মানুষের সংখ্যা কম নয়।

স্পীড ব্রেকারগুলোর আগে পরে নেই কোন প্রতিকী চিহ্ন বা সতর্কবার্তা। এই বন্দর দিয়ে ভারতের আগরতলা থেকে আসা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই স্পীডব্রেকারের কারণে।

পারভেজ ডালিম নামের এক মোটরসাইকেল চালক জানান, অস্বাভাবিক উঁচু স্পীড ব্রেকারগুলোতে গাড়ির গতি কমিয়ে উঠার চেষ্টা করলে গাড়ি স্পীড ব্রেকারের ওপর উঠাতে কষ্ট হয়।

তাই বাধ্য হয়ে গতিতে চালিয়ে উঠতে হয়ে। মাঝে মধ্যে ওই স্পীড ব্রেকারগুলোতে উঠতে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। জয়নগরের বাসিন্দা মোঃ আমজাদ বলেন, আমি মরেই যেতাম আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছে রমজান মাসে এই স্পীড ব্রেকারের দুর্ঘটনা থেকে।

রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মোঃ এমরান কবিরের কাছে মৌখিক অভিযোগ সাথে সাথে করার পর তিনি আমাকে বলেন এই ¯পীড ব্রেকার মাদকের জন্য দেওয়া হয়েছে।

চেকপোষ্ট জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন বাউতলা গ্রামের বাসীন্দা তিনি বলেন, বড় ধরণের বিপদ থেকে আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন। তারপরও আমার এক পায়ে অনেক বড় আঘাত পেয়েছি।

আখাউড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর এমরান কবির সাথে যোগাযোগ করলে বলেন, আমরা আমাদের কাজের সুবিধার জন্য এটা নির্মাণ করেছি। আমরা ভাল জানি এখানে স্পীড ব্রেকার প্রয়োজন আছে কি না। দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, প্রথম প্রথম কেউ জানে না তাই এমন দূর্ঘটনা ঘটছে তবে কিছু দিন যাওয়ার পর ঠিক হয়ে যাবে।

এই বিষয়ে আখাউড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা শ্যামল কুমার বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে আমরা স্পীড ব্রেকারটি নির্মিত করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন স্পীড ব্রেকার নির্মাণের অনুমতি আমি দেয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

ট্যাগ: Banglanewspaperস্পীড ব্রেকার