banglanewspaper

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুর শহরের মাছিমপুর এলাকায় অবস্থিত সংখ্যালঘু পরিবারের একটি ক্লিনিক ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ দিন ধরে এ বিষয় নিয়ে সৃষ্ট নানা ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে  ক্লিনিক ও সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে জটিলতার কারণ।

সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে পিরোজপুর সার্জিকেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারের মালিক ডাঃ বিজয়কৃষ্ণ হালদারের পরিবারের নিরাপত্তা ও সম্পদ ভোগের অধিকার নিশ্চিত করতে  প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ওবায়দুল হক পিন্টু এ ক্লিনিকসহ সম্পত্তি অর্ধেক কিনে নিয়ে পুরোটা দখল করেছে। তবে ওবায়দুল হক পিন্টু দাবী করেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা এ জটিলতা তৈরির পিছনে রয়েছে। তিনি ক্লিনিক ও ভবনের অর্ধেক কিনেছেন, যার যাবতীয় প্রমান রয়েছে।

জানা যায়, পিরোজপুর শহরের সার্জিকেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারের ৫তলা ভবন দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী ওবায়দুল হক পিন্টুর বিরুদ্ধে। পাচঁতলা এ ভবনের ৫ম তলায় অবস্থিত ক্লিনিকের আবাসিক ডাক্তারের জন্য নির্বারিত বাসাটিতে বসবাস করেন ডাঃ বিজয়কৃষ্ণ হালদার ও তার পরিবার। এ বাসার বিদ্যুৎ, পানির লাইন কেটে দিয়েছে পিন্টু এবং এক প্রকার অবরুদ্ধ অবস্থায় বিজয়কৃষ্ণের পরিবারকে বসবাস করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিজয় কৃষ্ণের স্ত্রী সাবেক উপাধ্যক্ষ গীতা রানী মজুমদার। তার স্বামী ডাঃ বিজয়কৃষ্ণ হালদার বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ।

বিজয়কৃষ্ণ হালদারের এক সময়ের ব্যবসায়িক পার্টনার পিন্টু এখন তাদের হয়রানী করছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ৫ম তলা বাসায় তালাবদ্ধ। কেউ নেই সেখানে সার্জিকেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারের কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায় এ প্রতিষ্ঠান নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার শুরুর কথা। এসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই প্রতিষ্ঠানের শুরু ২০০৬ থেকে এখানে আছেন, যাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন ডাঃ বিজয়।

সার্জিকেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনেষ্টিক সেন্টার ম্যানেজার অসীম শেখর মজুমদার জানান, ওবায়দুল হক পিন্টু এ প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ন ও সম্পত্তি বলতে ভবনের অর্ধেক কিনে নিয়েছেন। বিজয়কৃষ্ণ হালদার অসুস্থ হবার পরে তার স্ত্রী এ দখলের  অভিযোগ তুলছেন। মূলত বিজয়কৃষ্ণ হালদারের অসুস্থতার সুযোগে তাকে আড়ালে রেখে প্রভাবশালী একটি পক্ষ এ জটিলতা করছে। অসীম শেখর মজুমদার আরো জানান, গীতা রানী সম্পর্কে তার আত্মীয়। তিনি তাকে একাধিক বার জানিয়েছেন বিজয় বাবু অসুস্থ হবার আগে পিন্টুর কাছে সম্পত্ত্বি বিক্রি করেছেন, যার প্রমানও রয়েছে। তাই দুইপক্ষ বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা ভাল। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু লোকের প্ররোচনায় তিনি জটিলতা মিটিয়ে ফেলতে আগ্রহী হচ্ছে না।

সার্জিকেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারের আরেক কর্মকর্তা প্রনব সাহা জানান, মূলত ডাঃ বিজয়কৃষ্ণ হালদারের অসুস্থতার কারনে তাকে আড়ালে রেখে এখন এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।

ক্লিনিকের পাশ্ববর্তী বাসিন্দা ও এক আইনজীবী জানান, এক সময় ব্যবসায়ী পিন্টু ও বিজয়কৃষ্ণ হালদারের মধ্যে ভাল সম্পর্ক ছিল। তারা ছিল পার্টনার। এ সম্পত্তির অর্ধেক পিন্টুর কাছে বিক্রি করা হয়েছিল শুনেছি। আবার মাঝে মাঝে পুলিশ প্রহরায় বিজয়কৃষ্ণ হালদারের পরিবারকে থাকতেও দেখা গেছে। তবে

তিনি আরো জানান, অর্ধেক যেমন পিন্টু কিনে নিয়েছে শুনেছি, পাশাপাশি পিন্টু কিছু ক্ষেত্রে অধিক প্রভাব দেখিয়েছেন।

গীতা রানী মজুমদার জানান, তাদের পুরো সম্পতি দখল করে আছেন পিন্টু। তাদের বাসার পানি ও বিদুৎতের লাইন কেটে দেয়া হয়েছে। এমনকি তাদের নানা হুমকি দেয়া হয়েছে। গীতা রানীর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে অদিতি মজুমদার জানায়,তার এক প্রকার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের উপর হামলাও হয়েছিল। তবে অনন্যা মজুমদার ক্লিনিক ও সম্পত্তির অর্ধেক ওবায়দুল হক পিন্টুর কাছে বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন তার বাবা যখন সুস্থ ছিল তখন পিন্টুর কাছে ২ কোটি টাকায় এ অংশ বিক্রি করেছে বলে তাদের জানিয়েছে। পুরো সম্পতি ও ক্লিনিক বিক্রির কথা মিথ্যা।

এ বিয়য়ে ওবায়দুল হক পিন্টু জানান, শহরের প্রভাবশালী এক নেতা ক্লিনিকটি দখলে নিয়ে হাসপাতাল করতে চেয়েছিল বিজয়কৃষ্ণ হালদারের অসুস্থতার আগে থেকেই। তিনি এখন এ সব জটিলতা তৈরি করছেন গীতা রানীকে দিয়ে। এ ক্লিনিক ও ভবন তিনি কিনেছেন। তাকে অর্ধেক ২০১৪ সালে রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন বিজয়কৃষ্ণ হালদার। প্রথমে ২ কোটি টাকায় অর্ধেক কিনেছেন, যা তাকে রেজিষ্ট্রি করে দেয়া হয়েছে। এর পরে আরো ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা দিয়েছি বাকী অংশের জন্য। কিন্তু রেজিষ্ট্রি করে দেবার আগে আসুস্থ হয়ে পরেন বিজয়কৃষ্ণ হালদার।

আর তারা যে বাসাটিতে থাকে সেটি তার ক্রয় করা অংশের মধ্যে, যা দলিলে চিহিৃত করে দেয়া আছে। এখন তার নামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করে তাকে বেকায়দার ফেলার চেষ্টা করছেন বিজয়কৃষ্ণ হালদারের স্ত্রী গীতা রানী। তিনি এ বিষয়টি ফয়সালার জন্য জেলার প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যে কয়টি সংগঠন আছে তাদের কাছে লিখিত আবেদন করেছে। তারা চেষ্টা করলেও গীতা রানী কোন সারা দিচ্ছে না।

সাংস্কৃতিক সংগঠন উদিচির পিরোজপুর জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক খালিদ আবু জানান, এক সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক ছিল বিজয়কৃষ্ণ হালদার। তিনি বিভিন্ন ধার দেনার কারনে অর্ধেক ওবায়দুল হক পিন্টুর কাছে বিক্রি করেছে। পিন্টু বিষয়টি মিমাসাং করার জন্য কাগজপত্র নিয়ে তাকে সহ অনেকের কাছে ধর্না দিয়েছিল। পিন্টুর দেয়া টাকা ফেরত দিলে তিনি সম্পতি ছেড়ে দিবেন অথবা বাকী সম্পত্ত্বির জন্য আরো যে দাম দিতে হয় সেটা দিতেও রাজি। এ প্রস্তাব গীতা রানীকে বিভিন্ন মাধ্যমে দেয়া হয়েছে বলে শুনেছি,তারপরেও বিষয়টি নিয়ে জটিলতা কেন কাটছে না বুজতে পারছি না।

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির জানান, ক্লিনিকের মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আদালত এ বিষয়ের মিমাংশা করবে। তবে গীতা রানী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা বিষয়ে পুলিশ সজাগ সৃষ্টি রাখছে। তাকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।

ট্যাগ: Banglanewspaper পিরোজপুর