banglanewspaper

মো. মোজাম্মেল ভূইয়া, আখাউড়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে ঢাকা পর্যন্ত যেতে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ১০টি টিকিট বরাদ্দ। চারদিন সাপ্তাহিক বন্ধ বাদে ট্রেনটি মোট ২৭ দিন চট্টগ্রাম থেকে আখাউড়া হয়ে ঢাকার দিকে যায়।

অর্থাৎ এক মাসের জন্য মোট ২৭০টি আসনসহ টিকিট বরাদ্দ ছিল। অথচ সংশ্লিষ্টদের এক হিসেব থেকে দেখা গেছে, ওই সময়ে টিকিট কেটে ট্রেনটিতে আখাউড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাতায়াত করেছে দুই হাজার নয়শ’ ৭৭ জন যাত্রী।

আখাউড়া থেকে নিয়মিত চলাচলকারি যাত্রী, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ স্টেশনের প্রধান সমস্যা ট্রেনের টিকিট। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে যাতায়তের জন্য ট্রেনের খুব একটা কমতি না থাকলেও টিকিট সংকটের কারণে যাত্রীদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কালোবাজারিদের হাতে টিকিট চলে যাচ্ছে বলে দুর্ভোগ আরো বেশি।

গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের আরো কিছু দুর্ভোগ চোখে পড়ে। লোকবল সংকটের কারণে সেবা পাচ্ছে না যাত্রীরা। ট্রেন আসার বিষয়ে নিয়মিত ঘোষণা দেয়া হয় না বলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। অতিরিক্ত হকারের কারণেও দেখা দেয় নানা সমস্যা। স্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগারের টয়েলেটের অবস্থা খুবই নাজুক। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। পুরো স্টেশন জুড়েই নোংরা পরিবেশ। সরকারি বাসভবনের অবস্থা নাজুক বলে খুব একটা ভালো নেই রেলওয়ে জংশনে কর্মরত-কর্মচারিরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া দেশের অন্যতম রেলওয়ে জংশন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী থেকে চলাচলকারি আট জোড়া আন্ত:নগর ও ১২ জোড়া মেইল ট্রেন আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এছাড়া আরো কয়েকটি আন্ত:নগর ও মালবাহী ট্রেন আখাউড়া হয়ে দেশের বিভিন্ন দিকে চলাচল করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আখাউড়া থেকে দেশের বিভিন্নস্থানে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করে। গত মে মাসে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে শুধুমাত্র আন্ত:নগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৪৪ লাখ তিন হাজার ২৪৪ টাকার। অন্যদিকে সরকারি ও বেসরসারি ব্যবস্থাপনায় চলাচলকারি মেইল ও কমিউটার ট্রেনের টিকিট বিক্রি হয় আরো কয়েক লাখ টাকার।

সূত্র জানায়, যাত্রী অনুযায়ি এখানে টিকিটের সংখ্যা খুবই কম। বিশেষ করে ঢাকাগামী আন্ত:নগর ট্রেনের টিকিট একেবারে হাতেগুনা। এর মধ্যে মহানগর গোধূলির ২০টি, মহানগর এক্সপ্রেসের ৪৮টি, উপকুল এক্সপ্রেসের ৪০টি, তূর্ণা নিশিতার পাঁচটি, চট্টলা এক্সপ্রেসের ১০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে, যা খুবই অপ্রতুল।

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মমিন বাবুল বলেন, ‘এ স্টেশনে টিকিট সংকটই সবচেয়ে বড় সমস্যা। মাইকে নিয়মিত ঘোষণা দেয়া হয় না বলে যাত্রীদেরকে ভুগান্তিতে পড়তে হয়।’ ইদানিংকালে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা বেড়ে গেছে, যারা চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে আমাদের সমিতির সভা ডাকা হয়েছে।’

আখাউড়া সচেতন নাগরিক ফোরামের সহ-সভাপতি মো. মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের প্রধান সমস্যা ট্রেনের টিকিট। রেলপথে যোগাযোগে অনেক উন্নতি হলেও চাহিদা অনুযায়ি ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না বলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আমি নিজেও অনেক সময় ব্ল্যাকারদের কাছ থেকে টিকিট কিনি।’

আখাউড়া রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের জন্য যেসব বাসা রয়েছে এগুলো অনেক পুরোনো এবং একেবারেই থাকার অনুপোযোগী। কিছু কিছু বাসা মেরামত করা হলেও কতদিন পর্যন্ত বসবাস করা যাবে তা বলা যাচ্ছে না।’

আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, ‘ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে যাওয়ার জন্য আখাউড়া থেকে এখন বেশ কয়েকটি ট্রেন রয়েছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রচেষ্টায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ট্রেনের যাত্রাবিরতি হয়েছে আখাউড়াতে। আশা করছি মন্ত্রী মহোদয়ের মাধ্যমে আমরা টিকিটের সমস্যার সমাধানও করতে পারবো।’

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘ট্রেনের টিকিটের সমস্যাই এখানে বড় সমস্যা। চাহিদা অনুযায়ি যাত্রীদেরকে আসনসহ টিকিট দেয়া যাচ্ছে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাইকে ঘোষণা করার কোনো লোক না থাকায় সেটা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। তবে স্টেশনের দোকানদার রাজন মিয়া মাঝে মাঝে নিজ উদ্যোগেই ঘোষণা দিয়ে থাকেন।’

ট্যাগ: Banglanewspaper আখাউড়া