banglanewspaper

এম মতিউর রহমান মামুন: 'ঐ-আমাদের গ্রামের মাটি, ঐ আমাদের ধাত্রী যার কোলে প্রতিদিন জন্ম নিচ্ছে এক একটি দেশ'/"কোথায় প্যারিসের আর্টিস্ট সম্প্রদায়ের উদ্দাম উন্মত্ততা আর কোথায় আমার কালীগ্রামের সরল চাষী প্রজাদের দুঃখ দৈন্য-নিবেদন! এদের অকৃতিম ভালোবাসা এবং এদের অসহ্য কষ্ট দেখলে আমার চোখে জ্বল আসে।...

বাস্তবিক এরা যেন আমার একটি দেশ জোড়া বৃহৎ পরিবারের লোক" (ছন্নপত্র ১১১) পতিসর থেকে রবীন্দ্রনাথের লেখা ওই চিঠিগুলো  নিয়ে বাংলা একাডেমিতে আলাপ করছিলাম মহাপরিচালক শামসুজাজামান স্যারের সঙ্গে । আমাকে কাছে পেলে  স্যার প্রায়ই পতিসর ও ররীন্দ্রনাথ কে নিয়ে আলোচনা করতেন।

রবীন্দ্রাথের দীর্ঘ ৪৬ বছরের পতিসরে আসা-যাওয়া এবং সাহিত্য কর্মের বাইরে যে গ্রামোন্নয়ন, আধুনিক সমাজ গড়ন, শিক্ষা, কৃষি ও ব্যাংক ব্যাবস্থা নিয়ে কাজ করেছিলেন সেই বিষয়গুলো নিয়ে মাঝে মধ্যেই টেলিভিশনে গোলটেবিলে আলোচনতে বসতাম। তা থেকে একশত বছর পরে তার কতটুকু আমরা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, পতিসরের বর্তমান কি অবস্থা এসব বিষয় আলোচনায় উঠে আসতো। সেদিন ৩  মে ২০১৬ এমন আলোচনায় করছিলাম আমরা। কারণ ১০ মে বাংলা একাডেমি পতিসরে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিবসের সমাপনি অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা ও সমাজ ভাবনা নিয়ে আলোচনার বিষয় নির্ধারণ করেছে।

আলোচনার মাঝে আমার ফোনটা বেজে উঠলো, দেখলাম রবীন্দ্র জার্নালের সম্পাদক  ইসরাফিল আলম। আমাকে বললেন ' জানি তুমি ব্যাস্ত আছো, ধৈর্য্য  এবং আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাও, মনে রাখবে রবি ঠাকুরের জন্ম মানেই বাঙালিদের জন্ম। আর একটি বিষয় তুমি আমাকে পরিস্কার করে বলো, ররীন্দ্রনাথ ঠাকুর পতিসর থেকে শেষ বিদায় ভাষণে যেন বলেছিলেন'? আমি ফোনেই  বলতে শুরু করলাম "সংসার থেকে বিদায় নেওয়ার পূর্বে তোমাদের দেখার ইচ্ছা ছিল তা আজ পূর্ণ হল, তোমরা এগিয়ে চলো- জনসাধারণের জন্য সবার আগে চাই শিক্ষা- এডুকেশন ফাস্ট, সবাই কে শিক্ষা দিয়ে বাঁচাও। ইচ্ছা ছিল মান সন্মান- সম্ভ্রম সব ছেরে দিয়ে বাকি জীবনটা তোমাদের মত সহজ সরল হয়ে তোমাদের নিয়ে কাটিয়ে দিব।

কি করে বাঁচতে হয় তোমাদের নিয়ে মিলেমিসে সেই সাধনাই করবো। কিন্তু এ বয়সে তা আর হবার নয়। আমার সময় ফুরিয়ে এসেছে, তোমরা নিজের পায়ে দাড়াতে দাড়াও। তোমাদের কে আমি বড় ভালোবাসি - তোমাদের দেখলে আমার মায়া হয়। তোমাদের কাছে আমি অনেক কিছুই পেয়েছি, বিনিময়ে কিছুই তোমাদের দিতে পারিনি, ঈশ্বর তোমাদের সহায় হোউক এই কামনা নিয়ে পরলোকে চলে যাবো"। সেখানে ছিলেন অবসরে যাওয়া একজন সচীব, আধ্যাপক গবেষক, কিছু গুনি মানুষ তাঁরা আমাদের কথা মনদিয়ে শ্রবন করছিলেন।

স্যার আমার কাছে জানতে চাইলেন আমি কার সঙ্গে কথা বললাম? প্রতিত্তোরে  বললাম 'রবীন্দ্র জার্নালের সম্পাদক এম, পি ইসরাফিল আলমের  সঙ্গে। স্যারের দু'চোধ ছল-ছল করছিল, কিছু সময় নিরব থেকে বললেন আমাদের দেশ এবার অনেক এগিয়ে যাবে।আমি জিজ্ঞাস করলাম কেন? স্যার বললেন ' একজন সংসদ সদস্য যখন ফোনে সাহিত্যচর্চা করেন তার মানে বুঝতে হবে আমরা অনেক এগিয়ে যাচ্ছি'। তিনি আরও বলেছিলেন আমি ভেবেছিলাম কখন হয়তো আর আত্রাই বা পতিসরে আমার যাওয়া হবেনা, রক্তাক্ত জনপদ আত্রাই রাণীনগর যাঁর কারণে যেতে পারছি তাঁতে আমাদের পক্ষে ধন্যবাদ জানিও'।  আজ আমার ও জিজ্ঞাসা আমরা এক সময় আত্রাই রাণীনগরের মানুষ শুধু বেঁচে থাকার করুণ আকুতি করেছিলাম ইসরাফিল আলমের কাছে। তাঁর কাছে আমাদের প্রার্থণা ছিলো ' হে বীর' তুমি আত্রাই রাণীনগর বাঁচাও, তুমি ছাড়া কে বাঁচাবে!  মানুষ মরছে তাকে বাঁচাও। সকল মানুষ মিলে যে দিন বাঁচতে পারবো সেই দিন আমাদের রাজনীতি সত্যে হবে'। কথা আমার নয় আত্রাইয়ের বাঘা নেতাদের। 

অজস্র ধারার বহুমাত্রিক প্রতিভার মানুষ মোঃ ইসরাফিল আলমের সঙ্গে আমার পবিচয় পতিসরে ' রবীন্দ্র সাহিত্য পরিষদ' প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে। পতিসর তখন বই শূণ্য ছিল। রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের কাচারি বাড়ির চারিদিক টা ছিল অবৈধ

দখলদারদের হাতে জিম্মি। বাড়ির মধ্যে চলতো খেলা ধুলা, সভা সমাবেশ, বারান্দায় রীতিমত চলতো চাল -ডাল বিক্রি, নিচে মাছের আড়ৎ। ঠিক এমন সময় পতিসর  'সাহিত্য পরিষদে'র জন্য প্রায় লক্ষাধিক টাকার বই, হারমোনিয়ান নিয়ে তাঁর প্রিয় সাংবাদিক বন্ধু দিনেশ দাস' সহ পতিসরে আসেন   ইসরাফিল আলম । বই বিতরণ অনুষ্ঠান রীতিমত পরিনত হলো বিশাল কর্মি সভাতে। ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতা দ্বাবি তুললেন আপনাকে নৌকা মার্কার প্রার্থী হিসাবে দেখতে চাই। প্রতিত্তরে ইসরাফিল বলেছিলেন ' আমি সাধারণ মানুষ, ঢাকাতে রাজনিতী করি, আপনাদের সংগে আসার তেমন পরিচয় নেই, আপনাদের জন্য আমি কি করতে পারবো?

জনতা বলেছিল 'আমরা চেঁয়ে থাকতে চাই' ইসরাফিল আলম বলেছিলেন  'আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন এত বড় দ্বায়িত্ব আমি নিতে পারবোনা'। কার কথা কে শোনে, সবাই শ্লোগান দিল ' ইসরাফিলের নৌকা চাই। জনতার চাওয়াই পূর্ন হ'ল ইসরাফিল আলম এম, পি হ'ল।  তিনি সর্ব হাস্যজ্জল মানুয়, কখনো নেতা কর্মিদেব সঙ্গে রেগে কথা বলতে দেখিনি। বরং নেতা কর্মি যত রেগেই যাক মাথায় পরশ দিয়ে শান্ত করেন। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা শুনেন মন দিয়ে, দুঃখ, কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করেন ।

আত্রাই রাণীনগরে নির্য়াতিত মানুষেকে যথাযথই সহযোগিতা করছেন । জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, সর্বহারা মুক্ত আত্রাই-রাণীনগর গড়ে তুলে জনতার চাওয়া তিনি পূর্ন করেছেন।  বিধায়  মোঃ ইসরাফিল আলম মানুষের মনের মাঠে আছেন, আছেন ভোটের মাঠেও। তাই আজ আমি ইসরাফিল আলমকে বলি, যে যাই বলুক, যাই করুক না কেন রবীন্দ্রনাথ, মহাত্মাগান্ধী পদচারিত আত্রাই রাণীনগরে তাঁদের আদর্শে প্রতিষ্ঠা করতে আগামী দিনে আপনাকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। কেননা বঙ্গবন্ধু কন্যা আপনাকে এলায় পাঠিয়েছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে, হাসি ফুঁটাতে, তাই সেদিকে লক্ষ রেখেই আপনাকে এগুতে আরও অনেক পথ। আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিলাম কবিগুরু পতিসরে বলেছিলেন ' ঐ - আমাদের  মা- ঐ আমাদের  ধাত্রী' আপনাকেও বলতে হবে ঐ আত্রাই রাণীনগর আমার -মা আমার ধাত্রী।

লেখকঃ রবীন্দ্রস্মতি সংগ্রাহক ও গবেষক

ট্যাগ: banglanewspaper রানীণগর