banglanewspaper

স্বরূপকাঠী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: স্বরুপকাঠি উপজেলা ও নাজিরপুর উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে স্বরূপকাঠি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ৪৩ হাজার গ্রাহকের গলার কাটা স্বরূপকাঠি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরত ষ্টাফগন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত এক সপ্তাহে বিদ্যুতের সরবারহ বাড়লেও অফিস কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের দিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা। কথায় কথায় মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্যকরন ও জরিমানা করার হুমকি দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের দমিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে খোদ কর্মকর্তাদের উপরেই।

সরজমিনে শনিবার (২ জুন) কৌরিখাড়া জোনাল অফিসে ডিজিএমের রুমে দেখা যায় একাধিক গ্রাহক হয়রানীর বিষয়ে অবগত করছেন ডিজিএমকে। এসময় ডিজিএম তার সাধ্যমত পল্লী বিদ্যুতের অফিস নিয়মের ধোয়া তুলে বিষয়গুলোকে সমাধানের চেষ্টা করলেও গ্রাহক সন্তুষ্ট হতে পারছেনা। সুটিয়াকাঠির মোঃ সুজন ডিজিএমের সামনেই জানান বিগত মে মাসের ১৫ তারিখে তার বাড়ির বিল্ডিংয়ের সমস্থ বকেয়া বিল পরিশোধ করেছেন। কিন্ত আজ রবিবার সকাল ১০ টায় বিদ্যুৎ অফিসের সিনিয়র লাইন ম্যান আবুল বাশার ও মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার নুরুল হক বসতঘরের সংযোগ কেটে দেন।

সুজন জানান শুধু মাত্র প্রতিহিংসার বর্শবর্তি হয়ে আমাকে হয়রানী করার জন্য বসত ঘরের সংযোগ বিচ্ছিন্য করা হয়েছে। গতবছর নভেম্বর ডিসেম্বর চলতি বছর জানুয়ারী ফেব্রুয়ারী মার্চ মাসে আমার ১০১-১০২০ হিসাব নম্বরের মিটারে কোন কারন ছারাই ৫ মাসে ৫শত টাকা করে ২৫শত টাকা জরিমানা করে।বিষয়টি  নিয়ে এপ্রিল মাসে আমি চ্যালেঞ্জ করলে ডিজিএম কি কারনে জরিমানা করা হয়েছে তা নুরুল হকের কাছে জানতে চান। কারন বিলের কাগজে জরিমানার অর্থ লেখা থাকলেও কারন লেখা ছিলনা। ওই সময় ডি জি এম মিটার রিডার নুরুল হককে আমার সামনে বসে ভর্ৎসনা করেন। আর এ কারনেই আজ প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ১৮ দিন আগে বিল পরিশোধ করার পরও আমার বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেন।এছাড়া অফিসে অভিযোগ করেন যে আমি তাদেরকে মারধর করেছি এবং মিটার রিডার ও তাদের গাড়ি আটকে রেখেছি। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে নিয়ে অফিসে গেলে ডিজিএমের সামনেই অফিস ষ্ঠাফদের মিথ্যা ধরে ফেলেন সাংবাদিক।

তখন ডিজিএমের কাছে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান অফিস ষ্ঠাফদের এই হয়রানির বিষয়ে কি ব্যবস্থা নিবেন জানতে চাইলে ডিজিএম আমাকে আবেদন করতে বলেন এবং আমি আবেদন দিয়ে আসি। এ ঘটনার ১ ঘন্টার মধ্যেই আমার বসতঘরের মিটারে পূনঃ সংযোগ দিয়ে আসে তবে মিটারের তালাটি খোলা রেখে আসে।এরকম একাধিক হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে এই অফিসে কর্মরত হিসাব শাখায় বিল সংগ্রাহক, মিটার রিডার ও লাইনম্যানদের বিরুদ্ধে।

একাডেমী স্কুলের প্রতিষ্টাতা জহুরুল হক লাল মিয়ার ছেলে ডিজিএমের সামনে অভিযোগ করেন হিসাব শাখায় কর্মরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন শেষ তারিখে বিল দিতে এসে লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে আছি। হটাৎ করে নগদ গ্রহনকারী বলছে আজ আর টাকা নেয়া হবেনা কাল আসেন। কিন্ত দেখা যায় তখনও বিল নেয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ের একঘন্টা বাকি আছে। ওই গ্রাহক পরের দিন বিল দিতে গেলে তাকে গুনতে হয় বাড়তি জরিমানার টাকা।  

এসময় বিদ্যুৎ অফিসে উপস্থিত দৈহারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রগতী মন্ডল বলেন এ প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে বলেন, আমার নির্বচনি এলাকায় তিন বছর ধরে খারাবাক গ্রামের রাম নামে এক ব্যক্তি একটি মিটার ব্যবহার করে আসছে। গত মাসে কোন বিল বকেয়া না থাকলেও সংযোগ বিচ্ছিন্য করে মিটারটি নিয়ে আসে অফিস। আমি এ বিষয়ে ডিজিএমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটি অবৈধভাবে দেয়া হয়েছিল তাই কেটে এনেছি। যেহেতু প্রতিমাসে অফিস থেকে বিলের কাগজ দেয়া হয়, তিন বছর পর্যন্ত বিল পরিশোধ করা হয় তাহলে এটি কিভাবে অবৈধ হলো জানতে চাইলে ডিজিএম বলেন মিটারটি নির্দিস্ট দুরত্বের বাইরে তাই। চেয়ারম্যান বলেন ডিজিএম ওই গ্রাহককে নতুন করে অনলাইনে আবেদন করতে বলেছেন।  

এ ব্যাপারে ডিজিএম সাইফুল ইসলাম বলেন সুজনের মিটার সংযোগ তাৎক্ষনিক দেয়া হয়েছে। সুজনের অভিযোগ হাতে পেলেই লাইনম্যান ও মিটার রিডারের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবো। তবে কারো কোন অভিযোগ থাকলে আমাকে লিখিত জানালে আমি ব্যবস্থা গ্রহন করতে দেরি করিনা।

ট্যাগ: banglanewspaper স্বরূপকাঠি