banglanewspaper

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত কয়েক বছরে চালু হওয়া নতুন বিভাগগুলোতে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেই সঙ্গে সহায়ক সুযোগ-সুবিধার অভাবে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। নতুন বিভাগগুলোর অধিকাংশই চলছে খ-কালীন শিক্ষক দিয়ে। একদিকে যেমন নেই পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ অন্যদিকে সেমিনার লাইব্রেরি ও গবেষণাগারের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

বিভাগগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে ব্যাংকিং ও ইন্স্যুুরেন্স বিভাগ এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ খোলা হয়। দুইটি বিভাগে আটটি ব্যাচে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩৮২ জন। আর শিক্ষক আছেন মাত্র সাতজন।

অন্যদিকে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে আইন অনুষদের অধীনে খোলা আইন ও ভূমি প্রশাসন, জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের অধীন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান, বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান এবং প্রকৌশল অনুষদের অধীনে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ খোলা হয়। এ বিভাগগুলোয় মোট ব্যাচ ১২টি। ৪২০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১১ জন। হিসেব অনুযাযী, ছয়টি বিভাগে মোট ২০টি ব্যাচে ৮০২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১৮ জন।  যেখানে প্রতি ৪৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক একজন। অথচ ১৭ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন করে শিক্ষক থাকার নিয়ম রয়েছে বলে জানায় রেজিস্ট্রার দফতর।

শুধু যে শিক্ষক সংকট তাই নয়। বিভাগগুলোর সেমিনার লাইব্রেরিতেও রয়েছে বই ও জার্নাল সংকট। নেই শিক্ষকদের বসার মতো পর্যাপ্ত জায়গা। ফলে এসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্রমাগত পঠন-পাঠনে পিছিয়ে পড়ছে। এদিকে নতুন চালু হওয়া ৬টি বিভাগের এমন সংকটের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও নতুন ৯টি বিভাগ খোলার জন্য অনুমতি চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে। তবে ইউজিসি মাত্র একটি বিভাগ খোলার অনুমতি দিয়েছে।

চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তরুণ হাসান বলেন, বিভাগে অন্তত ১৫ জন শিক্ষক প্রয়োজন। সেখানে তিনজন স্থায়ী ও ছয়জন অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে চলছে। তাছাড়া তিন ব্যাচের জন্য শ্রেণিকক্ষ আছে দুইটি। এতে করে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এমএ বারী বলেন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটের কথা জানালে ইউজিসি প্রথমে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিয়োগের প্রাথমিক অনুমোদন দেয়। এখন ইউজিসির পরিবর্তিত নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে আবারো তাদের অনুমতি লাগবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, সব সমস্যা সমাধানের  চেষ্টা করছি। শ্রেণিকক্ষ বাড়াতে কয়েকটি অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণ সম্পূর্ণ করার কাজ চলছে। এছাড়া নতুন করে বহুতল অ্যাকাডেমিক ভবন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সেটা হলে শ্রেণিকক্ষের সমস্যা আর থাকবে না।
 

ট্যাগ: banglanewspaper রাবি