banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর, (গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে “ব্লু ওয়াইল্ড বিস্ট”এর আরো তিন নতুন অতিথি যোগ হয়েছে।

জানা যায় গত, রোববার (৩ জুন) মা “ব্লু ওয়াইল্ড বিস্ট” তিনটি বাচ্চা প্রসব করে। 

এ প্রথম সাফারি পার্কে কোন ব্লু ওয়াইল্ড বিস্ট বাচ্চা প্রসব করে বলে জানায় পার্ক কর্তৃপক্ষ। এ তিনটি নিয়ে পার্কে এ পরিবারের সদস্য সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৩তে। ইতোপূর্বে এ পার্কে ওই পরিবারে ৪টি পুরুষ ও ৬টি মাদি ব্লু ওয়াইল্ড বিস্ট সহ মোট সংখ্যা ছিল ১০। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার মোঃ সরোয়ার হোসেন জানান ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এ পার্কে পূর্ণবয়স্ক ১১টি ব্লু ওয়াইল্ড বিস্ট আনা হয়েছিল। যদিও তাদের মধ্য থেকে একটি বিস্ট অসুস্থয় হয়ে মারা যায়। বিড়ল প্রজাতির এ প্রাণিগুলো আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দেশগুলোতে প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণ করতে দেখা যায়। এরা সাধারণত তৃণভূমিতে এক সঙ্গে পালে চলাফেরা করতে পছন্দ করে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের শেষদিকে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে তারা প্রজনন করে থাকে। এরপর সাড়ে ৮মাস হলে তারা বাচ্চা প্রসব করে থাকে। প্রতিবার এরা সাধারণত একটি করে বাচ্চা প্রসব করে থাকে যাদের ওজন হয় সাধারণত ১৯ কেজির মত। যদিও প্রথমে জন্মনেয়া বাচ্চাদের গায়ের রং ধূসর (টনি ব্রাউন) হয়। পরবর্তীতে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার বর্ণ হয় নীলাভ ধূসর ধারন করতে থাকে।

জন্মের প্রথম আট মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত বাচ্চার মায়ের সঙ্গে থাকে ও দুধ পান করে। পরে তারা স্বাধীণ ভাবে বিচরণ করে থাকে এবং এক সপ্তাহ পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘাস খেতে চেষ্টা করে। এরা ছোট ঘাস ক্ষেতে বেশি পছন্দ করে। পুরুষ বাচ্চারা দুই বছর এবং মাদি বাচ্চারা ১৬মাসে প্রজননক্ষম হয়। প্রকৃতিক পরিবেশে ব্লু বিস্ট ২০বছর এবং আবদ্ধ পরিবেশে ২৪বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। 

তিনি আরো বলেন, প্রসবের কয়েক মিনিট পর বাচ্চা ওঠে দাঁড়ায় এবং দৌঁড়াতে শুরু করে। বাচ্চারা এখন আফ্রিকান সাফারিতে মায়েদের সঙ্গে সঙ্গে খেলা করে বেড়াচ্ছে, দৌঁড়াচ্ছে। বাচ্চা তিনটি মাদি না পুরুষ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। মানুষ দেখলে তারা নিরাপদ দূরত্বে সরে যাচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে তাদের কাছে যেতেও দেয়া হচ্ছে না। 

ট্যাগ: banglanewspaper শ্রীপুর