banglanewspaper

নিশান, একটি গাছের নিচে বসে ভাবছে। কত সুন্দর এই পৃথিবী, কত রঙের গাছপালা, কত বিচিত্র প্রাণীর সমাহার,সাথে ৭০০কোটির ও বেশি মানুষের বসবাস আজ এই পৃথিবীতে।

পৃথিবী তোমার জন্ম ঠিক কত তারিখ,  সঠিক তথ্যটা আমার জানা নেই।তবে তুমি যেদিন জন্ম নিয়েছিলে সেই দিনটাতে পরিবেশ নামক একটি শব্দও জন্ম নিয়েছিলো। যাকে ইংরেজিতে বললে দাঁড়ায় Environment. 
কোন এক বইয়ে পড়েছিলাম ১৯৭৪ সালের ৫ জুন না কি প্রথম বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয় "ওয়ানলি ওয়ান আর্থ ডিউরিং এক্সপো'৭৪ " প্রতিপাদ্য নিয়ে স্পোকেন, ইউনাইটেড স্টেটে।

খবরের কাগজে পড়লাম ২০১৮ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবস আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুষ্ঠিত হবে নয়া দিল্লি, ইন্ডিয়ায়। এবারে প্রতিপাদ্য বিষয়ঃবিইট প্লাস্টিক পলুশন।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ১০ বার আন্তর্জাতিক ভাবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে ।যার মধ্যে ঢাকায় ২ বার, সিলেটে ৬ বার,
রাজশাহীতে  ১ বার, রংপুরে ১ বার সর্বোমোটে ১০ বার।

যে কোন কিছু বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন পরিবেশ।পরিবেশ শব্দটা আমাদের জীবনের একটি মূল্যবান শব্দ।আমাদের জীবনের চলার প্রত্যেকটি ধাপে পরিবেশ শব্দটি মিশে আছে।

এত সুন্দর পরিবেশ কারা? কীভাবে? কেন? নষ্ট করছে,এই রকম নানা প্রশ্ন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে নিশানের।

সে  প্রশ্নগুলো  নিয়ে চিন্তা করে;কারা এই পৃথিবীটাকে নষ্ট করছে?
সে ভাবে, পৃথিবীকে কারা পরিচালিত করছে?
-অহ! মানুষ, মানে আমরা আমাদের পৃথিবীকে ইচ্ছা মত ব্যবহার করছি। আজ মানুষ সভ্য, সভ্যতার প্রতিশ্রুতিতে মানুষ আজ ব্যস্ত
তাদের সৌখিন জীবন নিয়ে। তারা একবারো ভাবে না, এই সুন্দর পৃথিবীকে নিয়ে।তারা ভাবে না তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে নিয়ে।
সৌখিন জীবনের জন্য আজ আমরা,
কত কি না ব্যবহার করছি?

-রান্নার জন্যঃগ্যাস চালিত চুলা,বিদ্যুৎ চালিত চুলা,ওভেন,ম্যাজিক চুলা,ইলেক্ট্রনিক কত রকমের রান্নার সামগ্রী। কিন্তু আমরা আমাদের সুখের জন্য ব্যবহার করছি কিন্তু কখনো চিন্তা করিনি,এইসব ব্যবহারের ফলে পৃথিবীর কি কোন ক্ষতি হচ্ছে কি না?
পৃথিবী ক্ষতির মুখে পড়ছে কি না?
পৃথিবীর পরিবেশ অসুস্থ হয়ে পড়তেছে কি না?

কারো চিন্তা নেই, আজ সবাই নিজের সুখে সবাই ব্যস্ত,নিজের ব্যথা নিয়ে সবাই দিশেহারা কিন্তু পৃথিবীর পরিবেশ যে অসুস্থ হচ্ছে দিন দিন সে দিকে কারো খেয়াল নেই,থাকবেই বা কেন পরিবেশটা যদি নিজের হত, তাহলে অনেক পরিচর্যা করতো।


আজ, নিত্য নতুন আমরা কত রকমের জীবন সামগ্রী ব্যবহার করছি,যত্রতত্র আমরা ফেলে দিচ্ছি, ড্রেন আজ শুধু কাদে কিন্তু সেই কান্না কেউ শুনতে পায় না,ড্রেন এক রকম বিপদ সংকেত দেয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে, কিন্তু তখনো আমরা চুপ মেরে বসে থাকি,৫ জুন আসলে কত লক্ষাধিক ব্যানার আর শোভাযাত্রা বের হয়।দিন ফুরিয়ে গেলে সেই আগের মতন।

ক্যান্ট খেয়ে, অপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেখানে সেখানে ফেলে চলে যাছি, একবারো ভাবছিনা এর ফলে আমাদের কত ক্ষতি হচ্ছে।

আজ কত নদী আর কাদে না,কারণ কি? কারণ তাদেরকে আমরা আর ব্যথা দেই না,যত অপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, সবকিছু নদীর বুকে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছি, এই বিড়াট ভাগাড়ে সে নিশ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারছে না,আর সাথে বুকে সব কষ্ট চাপা পড়ে যাচ্ছে ফলে

কষ্টের অভাবে, নদীগুলো আজ কাদে না, শুকিয়ে গেছে তাদের চোখের পানি, সমস্ত কষ্টগুলো আবর্জনা হয়ে চাপা পড়ে গেছে।

আজ কত কনক্রিটের দেয়াল,যে দিকে চোখ যায় শুধু অভ্রভেদী কনক্রিটের দালান।এই কনক্রিট তৈরি করতে গিয়ে, কত বিপুল পরিমানে এই পরিবেশকে কার্বনডাইঅক্সাইড অনায়াসগম্য হতে হয়েছে সে কথা সকলের না জানার কথা নয়?

আজ আমাদের গ্লোবাল ওয়ার্মিং একটা বড় সমস্যা,গ্রীন হাউজ গ্যাস,ওজন স্তর ক্ষয়,নিত্য নতুন তৈরি হচ্ছে কত শত রোগ! অকালে প্রাণ যাছে এই জীব-জগতের এসব কিছুর জন্য আমরা দায়ি।।

আমরা সভ্য,কিসে সভ্য,ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা চিন্তা করে না তার কখনো সভ্য হতে পারে না।

নিশান,যে গাছটির নিছে বসে ছিলো সে দিব্য কর্ণে শুনতে পেলো।
গাছটি বাঁচতে চাই।
তোমরা থামাও তোমাদের পরিবেশ ধ্বংসের অপকর্ম।
আমি পরিবেশের উপাদান, আমিও বাঁচতে চাই।

শাফিউল কায়েস
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রাহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,গোপালগঞ্জ।
বিষয়: পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
অনার্স (১ম বর্ষ)

ট্যাগ: banglanewspaper শাফিউল কায়েস