banglanewspaper

মো. মোজাম্মেল ভূইয়া, আখাউড়া (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ঈদকে সামনে রেখে আখাউড়া উপজেলার দর্জিকারিগররা এখন মহা ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। সারা দিনতো কাজ করছেই সেই সাথে গভীর রাত পযর্ন্ত চলছে তাদের কাজ। নতুন ফ্যাশনের পোশাক তৈরীতে অনেকেই ছুটছেন দর্জি দোকানগুলোতে।

টেবিলের ওপর স্তূপ করে রাখা আছে বিভিন্ন ডিজাইনের থান কাপড়। এক দিকে চকচকে ধারালো কাঁচির চালান আর অন্য দিকে মেশিনের ঘর ঘর আওয়াজ। ব্যস্ত দর্জিদের যেন ফুসরত নেই দম ফেলার। কারন আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ঈদ। ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক তৈরী করতে হবে ঈদের আগেই। তাই বাহারি ডিজাইনের চমক দেওয়া পোশাক দেওয়ার প্রতিযোগিতায় ঘুমহীন রাত কাটাতে হচ্ছে কারিগরদের।

গার্মেন্টস পোশাকের প্রতি নতুন প্রজম্মের লোকদের আগ্রহ থাকলেও এখনো ফুরিয়ে যায়নি দর্জি তৈরী করা পোশাকের কদর। অনেকেই গার্মেন্টস পোশাকের চেয়ে গজ কাপড় কিনে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দর্জি থেকে তৈরী করা পোশাক বানাতে আগ্রহ বেশী। তাইতো অধিকাংশ নারী পুরুষ ও শিশুদের পোশাক তৈরী করতে দর্জির দোকান গুলোতে ছুটে চলছেন। কারণ ঈদ বলে কথা। ঈদের পোশাক তৈরী করতে আখাউড়া পৌর শহরসহ উপজেলার দর্জিদের সুদিন চলায় তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মেশিনের একটানা শব্দ চলছে সকাল থেকে রাত অবধি। আর এটা চলবে চাঁদ রাত পযর্ন্ত। তাইতো সময় মতো পোশাক ডেলিভারি দিতে দিন রাত চলছে তাদের ক্লান্তিহীন কাজ।

স্থানীয় বাজারগুলোতে গামের্ন্ট পোশাকের চাহিদা বেশী থাকলেও দর্জির দোকানগুলোতে বর্তমানে চলছে অর্ডর নেওয়ার কাজ। দোকানীরা জানায় শবেবরাতের পর থেকেই ঈদের পোশাক বানানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে।

গত বছর ২৫ রোজার পর অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারা জানায় শবেবরাতের পর থেকেই তাদের কারিগরদের ছুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । কোন কোন দর্জির দোকানে কাজের প্রচুর চাহিদা থাকায় মৌসুমী কারিগর ভাড়া করে এনে কাজ করাচ্ছেন।

সরজমিনে আখাউড়া পৌর শহরের সড়ক কাজার, মসজিদ পাড়া, রাধানগর, কলেজ পাড়া, খরমপুরসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায় দর্জি দোকানীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল থেকেই গর.র.র.র শব্দ শোনা যায় রাত অবধি পযর্ন্ত। এর মধ্যে কেউ সেলাই, কেউ বোতাম, কেউ মাপ ঝোক কাপড় কাটাসহ যে যার মতো কাজ করছেন। প্রতি বছর রমজান মাস এলেই এ ভাবেই ব্যস্ত
হয়ে পড়েন দর্জি ও কারিগররা।

সেই সাথে গ্রামাঞ্চলে গড়ে উঠা দর্জির দোকান গুলোতে সমান তালে অর্ডার নেওয়ার কাজ বাড়ছে। টেইলার ও কারিগরদের যেন দম ফেলার জো নেই। তবে দর্জির দোকান গুলোতে ব্লাউজ,সেলোয়ার, কামিজ শার্ট প্যান্ট,পাঞ্জাবী, ছোট বাচ্চাদের পোশাকসহ বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষের পোষাক তৈরীর কাজ করছেন। তবে তুলমামূলক ভাবে দর্জির দোকানগুলোতে ছেলেদের ছেয়ে মেয়েদের ভীড়ই বেশী। শহরের বেশী ভাগ দর্জির দোকানে এমব্রয়ডারি,ব্লক, কারচুপিসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করানো হয়। সড়ক বাজারের আলিফ টেইলার্স,এর মাজেদুল ইসলাম বলেন, ঈদে প্রতেটি মানুষই চাই নতুন পোশাক পড়তে। এবছর কাজের চাহিদা বেশ ভাল রয়েছে। তিনি বলেন কাজের যে চাহিদা মনে হচ্ছে ২৫ রোজার পর থেকে নতুন করে অর্ডার নেওয়া সম্ভব হবে না।

তবে যারা নিয়মিত এখান থেকে পোশাক বানায় এ ক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্ন কথা। তবে আগের চাইতে পোশাক বানানোর মজুরী তেমন বেশী বাড়েনি বলে তিনি জানায়।

ট্যাগ: Banglanewspaper আখাউড়া