banglanewspaper

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: অজ্ঞ কৃষক আকবর আলীর পায়ু পথে ফোঁড়া উঠায় ব্যাথায় কাতর হয়ে ছুটে যান লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বরখাস্ত প্রাপ্ত উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ওমর ফারুকের তানিশা মেডিকেল সেন্টারে। ফোঁড়া দেখে কেটে ফেলার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। গরিব মানুষ বাহিরে অপারেশন করা ব্যায় বাহুল্য, তাই কম টাকায় (৩ হাজার) ওমর ফারুকে তানিশা মেডিকেল সেন্টার চেম্বারের গত শুক্রবার অস্ত্রপাচার করেন।

আকবর আলী আদিতমারী উপজেলা সদরের বসিনটারী গ্রামের মজিদ মিয়ার ছেলে।

অস্ত্রপাচার করে অনেক গুলো ময়লা বেড় হয় ফোঁড়া থেকে। ফলে ব্যাথা ও যন্ত্রনা কিছুটা কমে আসে। চিকিৎসকের কথা মত পরপর তিন দিন ওই তানিশা মেডিকেল সেন্টারে ওমর ফারুকের মাধ্যমে ড্রেসিং করেন আকবর আলী। সোমবার (৪ জুন) হঠাৎ রাত থেকে ব্যাথা ও যন্ত্রনা বেড়ে যায়। ক্ষত স্থান থেকে বেড় হতে থাকে দুর্গন্ধযুক্ত রস। ব্যাথায় আবারো অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার(৫ জুন) দুপুরে তাকে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করেন তার পরিবার। সেখানে তার অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎকরা ওই দিন রাতেই তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। 

আকবর আলীর স্ত্রী নুর নাহার জানান, গরিব মানুষ কম খরচের আশায় ওমর ফারুকের কাছে অপারেশন করে নিয়েছি। তার পরামর্শ মতে চলেছি। সোমবার রাতে হঠাৎ ব্যাথায় ছটফট করায় ওমর ফারুকের কাছে নিলে তিনি আবারো চিকিৎসা পত্র দেন। কিন্তু তার চিকিৎসা কোন কাজে না আসায় মঙ্গলবার ওমরের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, ডাক্টাররা বলেছেন কাটা জায়গায় ইনফেকশন হইছে। আবার অপারেশন করতে হবে। হামরা গরিব মানুষ এত টাকা কোথায় পাব। মরার উপর খরার গাঁ।

স্থানীয়রা জানান, উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ওমর ফারুক সরকারী ঔষধ ও প্যাথলজিক্যাল সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে উপজেলা সদরের গ্রামীন ব্যাংক মোড়ে তানিশা মেডিকেল সেন্টার গড়ে তুলেন। লাইসেন্স ছাড়াই ব্যক্তিগত এ চিকিৎসা কেন্দ্র খোলার দায়ে গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার আখরাতুন নেছা ভ্রাম্যমান আদালতে ওমর ফারুককে হাতে নাতে আটক করে এক বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। সেখানে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবারো চালাচ্ছে তার সেই অবৈধ তানিশা মেডিকেল সেন্টার নামে চেম্বার খ্যাত মিনি ক্লিনিক। ভ্রাম্যমান আদালত থেকে সাজা প্রাপ্তির পর থেকে উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে বরখাস্থ রয়েছেন ওমর ফারুক।

তবে ওমর ফারুক তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকার লোকজন আমাকে গরিবের ডাক্টার বলে ডাকেন। কম টাকায় চিকিৎসা দেই বলেই লোকজন এ নামে ডাকেন তাকে। হাসপাতালের পানি মিশ্রিত ঔষধ দিয়ে ড্রেসিং করায় তার ক্ষত স্থানে ইনফেকশন হয়েছে। তিনি অস্ত্রপাচার নয় এ রোগীর একদিন মাত্র ড্রেসিং করেছেন। বরখাস্থাদেশ স্থায়ী করার জন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নবিউর রহমান বুধবার দুপুরে জানান, ওই রোগী এর আগে হাসপাতালে আসেন নি। সুতরাং ড্রেসিং করার প্রশ্নেই আসে না। হাসপাতালের ঔষধে পানি মিশ্রণের কথাটি সম্পন্ন ভুল বলেছেন ওমর ফারুক। তাছাড়া হাসপাতালের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তাকে অনেক আগে একই কারনে সাজা দিয়েছেন আদালত। যার কারনে তাকে  বরখাস্ত করেছেন কর্তৃপক্ষ। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

ট্যাগ: banglanewspaper জামিন