banglanewspaper

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া: নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসুচির ৪টি প্রকল্পে ভিআইপি শ্রমিক বেশি কাজ হয় শুধু কাগজে আর কলমে। ভূয়া শ্রমিক দেখিয়ে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের পায়তারার অভিযোগ উঠেছে। দেখার যেন কেহ নেই।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে,২০১৭-১৮ অর্থবছরের কর্মসৃজন কর্মসুচির (২য় পর্যায়ে) আওতায় রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নে এবার ৪টি  প্রকল্পে ২১ লাখ ৪ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ২ শত ৬৩ জনকে সপ্তাহে পাঁচ দিন ২০০ টাকা মুজুরি হারে শ্রমিক হিসেবে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। সারা উপজেলার ন্যায় গত ১৫ এ এপ্রিল থেকে ওই ইউনিয়নে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং চলবে ১০ জুন পর্যন্ত। 

রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নে প্রকল্পভূক্ত  রাস্তাগুলো  হলো-(১) রোয়াইলবাড়ি বাজারের মোরগ মহাল হতে রোয়াইলবাড়ি গ্রামের কিচমতপাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত সংস্কার,(২) কলসহাটি বিপ্লভ চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে কান্দাপাড়া হয়ে জসিম উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত  রাস্তা সংস্কার (৩) রোয়াইলবাড়ি বাজারের ব্রীজ হতে ইটারবাড়ি আমতলা দুঃখু মিয়ার বাড়ি হয়ে আমতলা সীমানা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও (৪) হরিপুর নতুন বাজার পাকা রাস্তা হতে পুরানবাড়ি রাস্তা সংস্কার। প্রকল্পের কাজ শেষ হতে আর মাত্র ৩/৪দিন বাকি থাকলেও এখনো টানানো হয়নি প্রকল্পের সাইনবোর্ড। যার ফলে রাস্তায় কোন প্রকল্পের কাজ হচ্ছে কি-না স্থানীয় কিছুই বলতে পারে না।

গত ৫ জুন মঙ্গলবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ফতেপুর এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক পাওয়া যায়। তারা কাজ করে বাড়ি ফিরছেন। জানতে চাইলে তারা বলেন,কলসহাটি বিপ্লভ চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে কান্দাপাড়া হয়ে জসিম উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত  রাস্তা সংস্কার কাজের শ্রমিক তারা। এই প্রকল্পে তালিকাভূক্ত শ্রমিক কতজন জানতে চাইলে তারা জানায়,তা বলতে পারব না তবে ১২/১৩ জন লোক আমরা প্রতিদিন কাজ করি। পরে প্রকল্প এলাকা গিয়ে কোন শ্রমিক কাজ করতে দেখা মেলেনি। তবে রাস্তার কিছু অংশে মাটি কাটা হয়েছে। ওই প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য হামজা মিয়া বলেন,আমার প্রকল্পে ৬০ জন শ্রমিক রয়েছে ঠিকই তবে প্রতিদিন সবাই কাজ করে না ২৬ জন নিয়মিত কাজ করে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শ্রমিকরা ফতেপুর রাস্তায় একটু সমস্যা ছিল সেখানেই কাজ করছে।

রোয়াইলবাড়ি বাজারের ব্রীজ হতে ইটারবাড়ি আমতলা দুঃখু মিয়ার বাড়ি হয়ে আমতলা সীমানা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে গিয়ে কোন শ্রমিকের দেখা তো যায়নি এবং এই প্রকল্পে কোন কাজ হয়েছে এমন চিহ্ন চোখে পড়েনি। ওই প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুল হেকিমের সাথে মুটোফোনে কথা হলে তিনি বলেন,তার প্রকল্পে ৬০ জন শ্রমিক থাকলেও  ২৫/২৬ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। আজ (৫জুন সোমবার) সকালে শ্রমিকরা কাজ করতে গেলে যে জায়গা থেকে মাটি কাটবে সেই জায়গা পানি জমে থাকায় তারা চলে গেছে। 

এদিকে রোয়াইলবাড়ি বাজারের মোরগ মহাল হতে রোয়াইলবাড়ি গ্রামের কিচমতপাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত সংস্কার কাজে গিয়েও কোন শ্রমিক কাজ করতে পাওয়া যায়নি। ওই প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য মদিনা আক্তার জানায়,তার প্রকল্পে ৮৩ জন শ্রমিক কাজ করার কথা এখন কেউ কাজ করে না। চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে শুধু সভাপতি করে রেখেছে তিনি আর কিছুই জানেন জানিয়ে এ বিষয়ে চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কথা বলতে পরার্মশ দেন মদিনা আক্তার। পরে ইউপি চেয়ারম্যান এস এম ইকবাল রুমীর মুটোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা যায়নি।

অপর দিকে হরিপুর নতুন বাজার পাকা রাস্তা হতে পুরানবাড়ি রাস্তা সংস্কার কাজেও কোন শ্রমিক পাওয়া যায়নি। তবে স্থানে স্থানে মাটি কাটার কিছু চিহ্ন রয়েছে। ওই প্রকল্পে সভাপতি ইউপি সদস্য ফারুখ আহমেদের মুটোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কেন্দুয়া থেকে আসতেছি এবং তার শ্রমিকরা কেরাদিঘি গ্রামে একটি রাস্তায় কাজ করছেন। প্রায় ৫ মিনিট পরে প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন আপনি কোথায় আমার শ্রমিকরা আমার সামনে দাড়িয়ে রয়েছে তারা কাজ করে আসছে। ওই ইউপি সদস্যের অবস্থান জানতে চেয়ে প্রতিবেদক তার কাছে আসছে বলে জানালে ইউপি সদস্য ফারুখ বলেন আমি চেংজানা মসজিদের কাছে এবং বাড়িতে চলে যাচ্ছি বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।

সুত্র আরো জানিয়েছে ,অনুপস্থিত শ্রমিক বেশির ভাগই ভিআইপি তারা কাজ করে না কিন্তু প্রকল্পের সভাপতিরা কাগজে-কলমে হাজিরা দেখিয়ে অনুপস্থিত শ্রমিকদের চুক্তির মাধ্যমে টাকা তুলে বরাবরের মতো এবারও প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ পায়তার করছেন। ভিআইপি শ্রমিকের তালিকায় রয়েছে প্রকল্প কমিটির সদস্য ও  ইউপি চেয়ারম্যানের নিজেস্ব লোক এবং কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক নেতাকর্মীর  অনুসারীরা। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগে সাইনবোর্ড টানানোর নিয়ম থাকলেও তা করেনি প্রকল্প সভাপতিরা। অপর দিকে শ্রমিকের হাতেও দেওয়া হয়না জবকাট।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মর্কতা সাইফুল ইসলামের মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকতাদিরুল আহমেদ জানান,বিষয়টি আপনার মাধমে জেনেছি, খোঁজ নেব  অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

ট্যাগ: banglanewspaper কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্প