banglanewspaper

শরীফ আনোয়ারুল হাসান রবীন, মাগুরা : আমাদের দেশের মানুষ যখন লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে ঘরে-বাইরে হাজার টাকার খরচ করে বিশাল রকমারি বিভিন্ন দেশের পতাকা তৈরি ও প্রদর্শনে ব্যস্ত, ঠিক তখন আমাদের মাতৃভূমির জাতীয় পতাকা জরাজীর্ণ ছেড়া অবস্থায় সোভা পাচ্ছে। খোদ সরকারী দপ্তর বাংলাদেশ পরমাণু গবেষনা কৃষি ইনস্টিটিউট (বিনা) উপ-কেন্দ্র মাগুরা এর অফিসে উড়ছে ছেঁড়া পতাকা। সরকারি দপ্তরেই আজ নেই জাতীয় পতাকার সুরক্ষা, যা জাতীয় পতাকা উত্তোলন আইনে দন্ডনীয় অপরাধ।

মঙ্গলবার (০৬ জুন) বাংলাদেশ পরমাণু গবেষনা কৃষি ইনস্টিটিউট (বিনা) উপকেন্দ্র মাগুরায় অফিসে এমনি চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। এসময় জাতীয় পতাকার রং মলিন হয়ে যাওয়াসহ ছেড়া জরাজীর্ণ অবস্থায় উড়তে দেখা যায়, যা হয়তো নজরেই আসেনি সংশ্লিষ্টদের। যা দেশের প্রতি আমাদের অনুভূতি, মমতা, সম্মান, শ্রদ্ধাবোধের বর্তমান অবস্থার প্রতিকী হয়েই দাড়িয়ে আছে যেন।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাগুরা বিনা উপকেন্দ্রর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সম্পা রানী ঘোষ বিডিনিউজ আওয়ারের প্রতিবেদককে সঠিক কোন উত্তর না দিয়ে বারবার শুধু অফিসে দেখা করার জন্যই বলেন তিনি। 

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, পতাকার একটি আইন আছে। এবং সেখানে পতাকা অবমাননার শাস্তির বিধানও আছে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই এটি অন্যান্য দেশের মতো যাচ্ছেতাই ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। আইনটি সবার জানা দরকার এবং পতাকা আইন অনুযায়ী ব্যবহার হচ্ছে কিনা সেটি মনিটরিং দরকার। 

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক মনে করেন, পতাকার অবমাননাকর ব্যবহার একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে পতাকাসদৃশ কাপড় আর পতাকার আকারে ব্যবহার দুটি ভিন্ন বিষয়। যখন পতাকা আকারে ব্যবহারের কথা আমরা ভাববো, তখন যেন মনে রাখি এটিকে একটা জায়গায় ঝুলিয়ে দিলেই হলো না। ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের এই দেশটি অর্জন, এই লাল সবুজ পতাকা।’

আমাদেও আর ভাষা নেই, আমরা চরম লজ্জিত, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে যেন এমনি অনুভুতি সকলের।

আইন অমান্যকারীর শাস্তি:
পতাকা আইন অমান্যকারীদের জন্যে এক বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তি দেওয়া যাবে।

 

ট্যাগ: banglanewspaper মাগুরা