banglanewspaper

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মাদক ও জঙ্গি-সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। মাদকবিরোধী অভিযান চলবে।’

মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে ‘বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ ঘটছে অভিযোগ তুলে কবি ও সংস্কৃতিকর্মীরা তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, হাসান আজিজুল হক, নির্মলেন্দু গুণসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় লেখক-অধ্যাপকগণ গত শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন, যা অভিহিত করা হচ্ছে বন্দুকযুদ্ধে নিহত বলে।“গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় এমন মৃত্যু কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। সংবিধানে প্রদত্ত জীবনের অধিকার এভাবে কেড়ে নেওয়া যায় না।’

তবে সরকার প্রধান এ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বুধবার (৬ জুন) গণভবনে আইনজীবীদের সন্মানে আয়োজিত ইফতার পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে শান্তিপ্রিয় দেশ। সেভাবেই দেশকে গড়ে তুলতে চাই।’

ঢাকা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন জেলা বার সমিতিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের বিজয়ী হওয়ায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ঢাকাসহ সারা দেশে আইনজীবী সমিতিতে যারা বিজয়ী হয়েছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। বিজয়ের এই ধারাবাহিকতা যেন অব্যাহত থাকে। আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনও অবস্থা মোকাবিলা করা এবং যে কোনও পরিস্থিতিতে বিজয়ী হওয়া কঠিন কোনও কাজ না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বারে যারা পূর্ণ বিজয় লাভ করেছেন, তাদের আমি অভিনন্দন জানাই। আর যারা আংশিক জয়লাভ করেছেন, তাদেরও আমি অভিনন্দন জানাই। যারা পূর্ণ প্যানেলে বিজয় লাভ করেছেন, তাদের কাছে আমার আবেদন থাকবে, আগামীতে যেন সমানভাবে জিতে আসতে পারেন, সে লক্ষ্যেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন। আর যারা খণ্ডিত আকারে জয়লাভ করেছেন, আগামীতে যেন পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে নিতে হবে।’

জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার কানাডার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

গ্রুপ-৭ যোগদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সাতটি ধনী দেশ যাকে গ্রুপ সেভেন বলে। সেই দেশের নেতারা আমাকে দাওয়াত দিয়েছেন। তারা বাংলাদেশের উন্নয়নের ম্যাজিকটি জানতে চান। আমরা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। শুধু আশ্রয়ই নয়, তাদেরকে খাওয়া-পড়ারও ব্যবস্থা করেছি। এতে সমগ্র আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের হাতকে শক্তিশালী করেছে।’ 

সারা বিশ্ব অতীতে কখনোই বাংলাদেশের পাশে এমনভাবে দাঁড়ায়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক দেশের সমর্থন পেয়েছিলাম, অনেকের পাইনি। কিন্তু এখন সবাই সমর্থন দিয়েছেন। আমি দেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরবো। রোহিঙ্গাদের কথা তুলে ধরবো। বাংলাদেশ যে উন্নয়ন হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে।’

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে এবং পরের বছরের প্রথম তিন মাস বিএনপির আন্দোলনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কথাও এসময় তুলে ধরেন তিনি।
 

ট্যাগ: banglanewspaper প্রধানমন্ত্রী