banglanewspaper

রোজার মাস প্রায় শেষের দিকে। আল্লাহর রাসুল সা. রোজাদারদের অনেক সুসংবাদ দিয়েছেন। এখানে কয়েকটি হাদিস পেশ করা হলো- আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (অর্থাৎ জিহাদ-কালীন বা প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনকল্পে) একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ ঐ একদিন রোজার বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নাম হতে সত্তর বছর (পরিমাণ পথ) দূরে রাখবেন।’ বুখারি ও মুসলিম

রাসূল (সা.) আরও ইরশাদ করেন, রোজা অবস্থায় তোমাদের কেউ যেন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হয়, তবে সে যেন বলে, আমি রোজাদার (কাযিখান, হাশিয়া আলমগিরী ১ম খণ্ড, পৃ. ২০৯-২১০)।

পাশবিক প্রবৃত্তি ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে রোজাদারের নিরন্তর অনুশীলন শুধু আল্লাহতায়ালার ক্ষমার জন্যই। বান্দার সব ইবাদত, আল্লাহর কাছে রোনাজারি সবই ক্ষমার লক্ষ্যেই করা হয়। রোজাকে আল্লাহর রেজামন্দি হাসিলের কাক্সিক্ষত মাধ্যম বানাতে হলে জিহ্বার হেফাজতের সঙ্গে সঙ্গে চোখ, কান ও অন্যান্য সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে হেফাজত করতে হবে, এসব থেকে বিরত রাখার নামই রোজা।

রোজা মূলত তাকওয়ার পরিপূরক। আল্লাহর ভয় তথা তাকওয়া বান্দার অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং রোজা সেই অন্তরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমার জন্য প্রস্তুত করে। যে রোজা পালন করেও তাকওয়ার শিক্ষা নিজের অন্তরে ধারণ করেনি, সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার অযোগ্য। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা এবং সেই মতে বদ আমল বর্জন করেনি, তার পানাহার পরিত্যাগ করার আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই (আলামগিরী, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩০৯-১০)। কিন্তু প্রকৃত রোজাদার আল্লাহর তাকওয়ার আলোকিত মুসাফির, সেই ক্ষমার পথ ধরে নাজাতের দরজায় পৌঁছে যায়।

আবু হুরাইরা রা. কর্তৃক বর্ণিত, নবি সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে নেকির আশায় রমজানের রোজা পালন করে, তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ বুখারি ও মুসলিম

সাহল ইবনে সায়াদ রা. থেকে বর্ণিত, নবি সা. বলেছেন, ‘জান্নাতের মধ্যে এমন একটি দরজা আছে, যার নাম হল রাইয়ান’; সেখান দিয়ে কেবল রোজাদারগণই কিয়ামতের দিনে প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া আর কেউ সেদিক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে, রোজাদাররা কোথায়?’ তখন তারা দ-য়মান হবে। (এবং ঐ দরজা দিয়ে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে) তারপর যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেখান দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।’ বুখারি ও মুসলিম

 

ট্যাগ: banglanewspaper রোজা