banglanewspaper

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আমাদের দেশের কোথাও এমনকি বাংলাদেশের সংবিধানে নেই যে, প্রধানমন্ত্রী যা বলবেন তাই আইন। কিংবা প্রধানমন্ত্রী যা বলবেন তাই আইন হবে, এমনটাও কোথাও লেখা নেই। ফলে তিনি যেটাই বলুক না কেন, সেটার যদি প্রজ্ঞাপন না হয় এটার তো আসলে কোন কার্যকারিতা নেই। সরকার যদি সত্যি মনে করে যে, কোটা বাতিল করবে বা সংস্কার করবে, তাহলে শুধু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কেন?

সমস্ত মন্ত্রীসভা মিলে বক্তব্য দিলেও কোন কাজ হবে না, যতক্ষন পর্যন্ত না কোন প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এই কোটা সংক্রান্ত সরকারের একটি লিখিত নোটিশ আসবে। লিখিত নোটিশ না আসা পর্যন্ত কোন কিছুতেই আমরা বা কারো পক্ষেই এটা আশ্বস্ত হওয়া সম্ভব না যে, সরকার কোটা বাতিল করতে যাচ্ছে নাকি সংস্কার করতে যাচ্ছে?  আমার মতে এই কনফিউশন দূর করার জন্য অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

কোটা আন্দোলন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীরঃ

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে আবারও আন্দোলন শুরু হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমরা একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছি, বলেছি আমরা এটা করবো। বাস্তবায়নে সময় তো লাগতে পারে। এরপর আবার আন্দোলন, আলটিমেটাম দেওয়া, সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি; এটা তো বাড়াবাড়ি।

সোমবার (১৪ মে) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন নিয়ে কথা উঠলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

সূত্র জানায়, বৈঠকে কোটা সংস্কারের আন্দোলন নিয়ে আলোচনা উঠলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি তো সিদ্ধান্ত দিয়েই দিয়েছি। আমরা তো বলেছি, আমরা এটা করবো। কিন্তু এখনই এটা করতে হবে, এটা কী? আমি তো বলেছি, কোটা থাকবে না। এরপরও আলটিমেটাম দেওয়া, হুমকি দেওয়া, সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া, এটা কী? এর তো কোনো যুক্তি নেই।

আলোচনায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ সিনিয়র কয়েকজন মন্ত্রী অংশ নেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, কেউ কেউ এটা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। যেহেতু আপনি এর একটা সমাধানের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সেটা দ্রুত করা যায় কিনা দেখেন।

এদিকে, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘোষণার প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে শাহবাগ মোড় আটকে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা।

সোমবার বেলা ১১টা থেকে শতাধিক আন্দোলনকারী শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

শাহবাগ মোড় আটকে থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, এলিফেন্ট রোড, মৎস ভবন, বাংলা মোটর এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়।

মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে; প্রেসক্লাব থেকে হাই কোর্ট হয়ে আসা যানবাহনকে মৎস্য ভবন মোড় থেকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। মালিবাগ ও কাকরাইল মোড়ে সৃষ্টি হয়েছে যানজট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহবাগ হয়ে আসা যানবাহনকে শাহবাগ থানার সামনে আটকে দেওয়া হয়েছে। গাড়িগুলো নীলক্ষেত মোড়, কাঁটাবন ঘুরে আসার চেষ্টা করার কারণে নীলক্ষেত মোড়েও যানজট তৈরি হয়েছে।

মিরপুর, গাবতলী এবং উত্তরামুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে রমনা পার্কের পাশের সড়কে। কাকরাইল, হেয়ার রোড এবং রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে যানজট লেগেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান,“আমরা ধৈর্য্য ধরে আছি। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি।”

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ‘ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবি তুলেছিল। কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণের দাবিও জানিয়েছিল তারা।

ট্যাগ: banglanewspaper ঈদ