banglanewspaper

এম. পলাশ শরীফ, বাগেরহাট: বাংলার আপেল খ্যাত পেয়ারা এখন বাগেরহাট সদর  উপজেলায় বাণিজ্যিকভিত্তিতে চাষ হচ্ছে। বাণিজ্যিকভিত্তিতে চাষ হওয়া এ পেয়ারাটি থাই জাতের। কৃষকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে থাই পেয়ারা চাষ। বাগেরহাট সদর উপজেলায় অনেকে থাই পেয়ারা চাষ করে স্বাবলম্বি হচ্ছে।

উপজেলার শহরের সাবেক অগ্রাণী ব্যাংক কর্মকতা শেখ আবু হোসেন যাত্রাপুর ইউনিয়নের বেনেগাতী এলাকায় এক একর জমি বন্দবস্ত নিয়ে  প্রথমবারের মত প্রায় এক হাজার থাই পেয়ারার চারা রোপন করে অর্থিক ভাবে লাভোবান হয়েছে। তার দেখাদেখি বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে থাই পেয়ারার বাগান। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার বাগানগুলোতে ফল এসেছে ভালো। এ বছর প্রায় অর্ধ কোটি টাকার পেয়ারা বিক্রি করার আশা করছেন এখানকার চাষীরা। অর্থকরী ফল এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর থাই পেয়ারার চাহিদা থাকায় এ পেয়ারার আবাদ দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।

বাগেরহাট সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাণ্যিজিক ভিত্তিতে থাই জাতের পেয়ারার বাগান করেছে সাবেক অগ্রাণী ব্যাংক কর্মকতা শেখ আবু হোসেন। পেয়ারার চাহিদা থাকায় বিঘা প্রতি এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দাস এ প্রতিনিধিকে জানান, থাই পেয়ারার আবাদ এলাকায় বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার চাহিদা পুরন করছে যেমন তেমনি এলাকায় কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ব্যবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। আগামী বছর পেয়ারার আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে কৃষি বিভাগ মনে করছে। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাই পেয়ারা বাজারজাত হচ্ছে। 

এ প্রতিনিধি সরেজমিনে গেলে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শেখ আবু হোসেন জানান, আমি দু’বছর ধরে এক একর জমিতে পেয়ারা চাষ করে লাভবান হয়েছি। আরো জানান, প্রতি বিঘা পেয়ারা চাষে প্রথম বছর ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে জৈবসার বাবদ বছরে ৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তবে এ পেয়ারা একটু বড় হওয়ার পর পলিথিন দিয়ে বেঁধে না দিলে পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে যায়। এ আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারলেই পেয়ারা চাষে সফলতা পাওয়া যাবে। স্থানীয় বাজারে এ পেয়ারার দাম ভাল পাওয়া যাচ্ছে।
 

ট্যাগ: banglanewspaper বাগেরহাটে