banglanewspaper

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের নাগেশ^রীতে কুটির শিল্পের মাধ্যমে আয় করে সাবলম্বী হয়ে বদলে যাচ্ছে নারীদের ভাগ্য। একটি সংগঠনের আওতাভুক্ত হয়ে দলবদ্ধভাবে কাজ করে এখন বেশ সাবলম্বী এসকল নারী। নাগেশ্বরী পৌরসভার দক্ষিণ মধুর হাইল্যা গ্রাম। এ গ্রামের মহিলাদের দলবদ্ধ একটি সংগঠন।

সংগঠনের নাম দিয়েছেন মধুর হাইল্যা যুুব মহিলা উন্নয়ন সমিতি। সংগঠনের উদ্যোক্তা ও সভাপতি জাহানারা বেগম। তিনিই ওই এলাকার মহিলাদের সংগঠিত করে ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করেন সংগঠনটির। ৬০ জন নারী এবং ২০ জন পুরুষ মিলে এই সংগঠনের আওতায় চলতে থাকে বাল্য বিয়ে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নারী নির্যাতন, স্বাস্থ্য সেবাসহ বিভিন্ন সচেতনতা মূলক সামাজিক কার্যক্রম।

এছাড়াও ওই অঞ্চলের মহিলাদের আত্মনির্ভশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেন কুটির শিল্পের। প্রশিক্ষণ নিয়ে তৈরি করেন রকমারী জিনিসপত্র। সমাজ উন্নয়নমূলক এসব কার্যক্রমের জন্য ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে নাগেশ^রী উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মনজুর আলমের সহায়তায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন পায় সংগঠনটি। নিবন্ধন নং-১৯২০৯।

নিবন্ধন পেয়ে বাড়তে থাকে সংগঠনের কাজের গতি। সদস্যরা সংগঠন কক্ষে জমায়েত হয়ে কিংবা বাড়ির উঠোনে বসে তৈরি করেন বাঁশের মোড়া, কাপরের শপিং ব্যাগ, নকশি কাঁথা, পার্পস, মেঝের কার্পেট, পুঁথি দিয়ে তৈরী করেন ভ্যানিটি ব্যাগ, আনারশ, লিচু, আম, কাঁঠাল, ঝুড়ি, ফুলদানী, মিনিব্যাগ কলম বক্স, টিস্যু বক্সসহ হরেক রকম আসবাবপত্র। বসার জন্য, মহিলাদের সঙ্গী ও ঘরের শোভাবর্ধনে বেশ কাজে লাগে এসব আকর্র্ষনীয় জিনিসপত্র। এসব জিনিসের কদরও বেশ।

সংসারে খরচের যোগান দিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের এসব শিল্প অনেক কাজে দেয়। আর তাই বেশ উৎসাহের সাথেই এ কাজ করে চলছে ওই সংগঠনের নারীরা। সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো সহযোগিতা না পেলেও থেমে নেই তাদের কাজ। মধুরহাইল্যা যুব নারী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি জাহানারা বেগম জানায়, একটি মোড়া তৈরী করতে কাচামাল হিসেবে ব্যবহার করেন বাঁশের কাঠি, নাইলনের বেত ও সুতা এবং রং। ১ দিনে জন প্রতি তৈরি করেন ২ টি মোড়া। প্রতিটি মোড়ায় খরচ পরে ১শ টাকা এবং বিক্রি করেন ২শ থেকে ২শ ৫০টাকা পর্যন্ত। এতে লাভ হয় ১শ থেকে ১শ ৫০ টাকা। বিক্রি হয় কুড়িগ্রাম জেলার প্রতিটি উপজেলাসহ নাগেশ্বরীর বিভিন্ন মার্কেটে। অনেক সময় গ্রাহকরা তাদের পছন্দ ও চাহিদা অনুুযায়ী আগে থেকেই অর্ডার দেন। অর্ডার পেয়ে সময় মতো জিনিস তৈরি করে ডেলিভারি দেন গ্রাহকদের।

এভাবে একেক জিনিসে একেক ধরণের লাভ হয়। এ আয় থেকেই তাদের সংসারে বেশ সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। সংগঠনের সদস্য সুমি খাতুন, নাজমা, শামছুন্নাহার বেগম, জরিনা বেগম জানায়, সমিতিতে অন্তর্ভুুক্ত হয়ে বিভিন্ন কাজ শিখে তাদের ছেলে মেয়েদের লেখা-পড়াসহ সংসারের অন্যান্য খরচ চালাতে তাদের আর বেগ পেতে হয় না।

ফলে সংসারে বেশ সচ্ছলতা এসেছে। এতে উৎসাহী হয়ে অনেকেই এসব কাজে জরিয়ে পরছে এবং আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি দারিদ্রতাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে অনেক দূরে। এ ব্যাপারে যুব উন্নয়ন অফিসার মনজুর আলম বলেন, আমরা যুুব উন্নয়নের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করে যাব। যাতে মহিলারাও তাদের ভাগ্যন্নয়ন করতে পারে।
 

ট্যাগ: banglanewspaper নাগেশ্বরী