banglanewspaper

আন্তর্জাতিক আরকাইভস দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন। শুক্রবার (৮ জুন) বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

শনিবার (৯ জুন) আন্তর্জাতিক আরকাইভস দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আরকিভিস্ট, আরকাইভস ব্যবহারকারী, গবেষক এবং আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

আবদুল হামিদ বাণীতে উল্লেখ করেন, সুশাসন, তথ্যভাণ্ডার ও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে ১৯৭২ সাল থেকে জাতীয় আরকাইভস কাজ করে আসছে। জাতীয় আরকাইভস আজ বাংলাদেশের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভূ-রাজনীতি, নিজস্ব ভাষা এবং সংস্কৃতি বিবেচনায় বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে নিজের স্থান করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় আরকাইভসের সংগ্রহশালায় রক্ষিত পুরাতন নথিপত্র দেশ-বিদেশের সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, গবেষকসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য ইতিহাস চর্চার অমূল্য দলিল। তাই আন্তর্জাতিক আরকাইভস দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘আর্কাইভস: গভর্নেন্স, মেমোরি, অ্যান্ড হেরিটেজ’ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আশা করি, এ দিবসটি পালনের মাধ্যমে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদফতর আরকাইভসের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে সমর্থ হবে।’

‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরিত করতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস সহজে, স্বল্প ব্যয় ও সময়ে জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভসকে একটি আধুনিক ও উন্নত আরকাইভস হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, গবেষকসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক আরকাইভস দিবস-২০১৮ উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘আন্তর্জাতিক আরকাইভস দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে জাতীয় আরকাইভস শিগগিরই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধশালী কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেছেন।

আরকাইভস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের সৃষ্ট নথিপত্রই আগামী দিনের ঐতিহাসিক দলিল তথা মূল্যবান আরকাইভাল উপকরণ বলে বিবেচিত হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ‘রোল মডেল’। সম্প্রতি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের ক্যাটেগরিতে উন্নীত হয়েছে। এ স্বীকৃতি বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা আরো বৃদ্ধি করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। গত সাড়ে ৯ বছরে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে।

“জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগার বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উপাত্তসমূহ সংরক্ষণ করা হয় জাতীয় আরকাইভসে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস চর্চা, শিক্ষা ও গবেষণা, রেফারেন্স ইত্যাদি ক্ষেত্রে জাতীয় আরকাইভসের গুরুত্ব অপরিসীম।”

ট্যাগ: banglanewspaper রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী