banglanewspaper

ফরহাদ খান, নড়াইল : ‘ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্ত স্মৃতি সংসদ’ এর ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে সাংবাদিক ও ফোকলোর গবেষক সুলতান মাহমুদকে সভাপতি এবং চিত্রশিল্পী ও কণ্ঠশিল্পী সবুজ সুলতানকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়।

গত ৮ জুন (শুক্রবার) শহরের ‘মনিকা অ্যাকাডেমি’ মিলনায়তনে নীহার রঞ্জন গুপ্তের ১০৭তম জন্মজয়ন্তী উৎসব শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ১৭ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।

এতে সহ-সভাপতি মনোনীত হয়েছেন-চিত্রশিল্পী আলী আজগর রাজা ও সহকারী অধ্যাপক বেলাল সানী, সহ-সাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধি আজগর ঝিলিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ খান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারজিন আহমেদ, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক হাদিউজ্জামান হৃদয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক চিত্রশিল্পী নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক মিলন বিশ্বাস তন্ময়, সহপ্রচার সম্পাদক হৃদয় হোসেন এবং শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সৌরভ। নির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন-সহকারী অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, কবি কামনা ইসলাম, কবি ও লেখক দ্বিজেন্দ্র লাল রায়, আবৃত্তিকার মোদাব্বির হোসেন ও মনিকা আক্তার লতা।

নীহার রঞ্জন গুপ্তের স্মরণে নড়াইলে এই প্রথম কোনো কমিটি গঠিত হলো। কমিটির সদস্যরা জানান, নীহার রঞ্জন গুপ্তের কর্মজীবন ও তার স্মৃতি রক্ষার্থে কাজ করবে এ কমিটি। 

প্রসঙ্গত, ‘কিরীটি রায়’ চরিত্রখ্যাত জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্ত ১৯১১ সালের ৬ জুন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম সত্যরঞ্জন গুপ্ত ও মায়ের নাম লবঙ্গলতা দেবী। নীহার রঞ্জন গুপ্ত গোয়েন্দা ও রহস্য কাহিনী লেখক হিসেবে যেমন জনপ্রিয়, তেমনি চিকিৎসক হিসেবেও স্বনামধন্য। বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ‘কিরীটি রায়’ এর স্রষ্টা হিসেবে উপমহাদেশে স্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি। তার পরিবার ছিল বিখ্যাত কবিরাজ বংশীয়। উইকিপিডিয়াসহ (মুক্ত বিশ্বকোষ) বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে নীহার রঞ্জন সম্পর্কে এসব তথ্য পাওয়া যায়। 

নীহার রঞ্জন গুপ্ত পেশায় চিকিৎসক হলেও মানব-মানবীর হৃদয়ের কথা তুলে ধরেছেন সুচারু ভাবে। ‘রহস্য’ উপন্যাস লেখায় ছিলেন সিদ্ধহস্ত। লন্ডনে অবস্থানকালীন সময়ে গোয়েন্দা গল্প রচনায় আগ্রহী হয়ে উঠেন তিনি। ভারতে এসে প্রথম গোয়েন্দা উপন্যাস ‘কালোভ্রমর’ রচনা করেন। এতে গোয়েন্দা চরিত্র হিসেবে ‘কিরীটি রায়’কে সংযোজন করেন, যা বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যে এক অনবদ্য সৃষ্টি। পরবর্তীতে ‘কিরীটি রায়’ চরিত্রটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে বাঙালি পাঠকমহলে। তিনি বাংলা সাহিত্যে রহস্য কাহিনী রচনার ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেখক ছিলেন। কেবলমাত্র রহস্য উপন্যাস নয়, তার সামাজিক উপন্যাসগুলোও সুখপাঠ্য। যা পাঠক হৃদয় আকৃষ্ট করে এখনো। এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫টি উপন্যাসকে বাংলা ও হিন্দি ভাষায় চলচ্চিত্রায়ণ করা হয়েছে। এছাড়া শিশুদের উপযোগী সাহিত্য পত্রিকা ‘সবুজ সাহিত্য’ এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। নীহার রঞ্জন গুপ্তের উপন্যাসের সংখ্যা দুইশতেরও বেশি। নীহার রঞ্জন গুপ্ত ১৯৮৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্তের আপনজন কেউ নেই। পৈত্রিক বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে ভগ্নদশায় থাকার পর ২০১৭ সালে সংস্কার করা হয়েছে। তার পৈত্রিক ভিটায় রয়েছে দ্বিতল বাড়ি, পুকুরসহ গাছপালা।

ট্যাগ: bdnewshour24 নীহার রঞ্জন