banglanewspaper

মোঃ নাছির উদ্দিন, কক্সবাজার: বৈরি আবহাওয়াকে অপেক্ষা করে শেষ মুহুর্তে ঈদ আনন্দকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলার সব উপজেলার সর্বত্রই জমে উঠেছে ঈদ বাজার।কক্সবাজার জেলার  বিভিন্ন মার্কেটের তৈরী পোশাক দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখার মত।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকছে বিপণি বিতানগুলো। মার্কেটেগুলোতে যেন তিল ধরার ঠাঁই নেই। অভিজাত থেকে ফুটপাত সর্বত্রই মানুষের ভিড়। দুই হাত ভরা শুধু শপিং ব্যাগ আর ব্যাগ। পরিবারের সদস্য আর স্বজনদের চাহিদা মেটাতে পছন্দের পোশাকের খোঁজে ছুটছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে। ঈদ মার্কেটকে কেন্দ্র করে গোটা জেলায় চলছে যেন কেনা কাটার মহোৎসবে।

এদিকে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মেয়েদের থ্রিপিচ হিসাবে ভারতীয় সিরিয়ালের নায়িকাদের পোশাক তরুণীদের মন কেড়েছে। তাছাড়া তরুণীদের জন্য দোকানিরা এনেছেন, জর্জেট, সিল্ক আর সুতি কাপড়ের উপর জরি চুমকি পাথরের কটি ওয়ালা লং জামা, দিলনাশি, আভনি, মাহেশমাতি, গুজরাটি, এঞ্জেল, মাসাককালি, কাশিশ, বাজিরাও, বাগি ড্রেস, লেহেঙ্গা।

এদিকে প্রতিটি মার্কেটকে নিত্য নতুন বিভিন্ন ব্যান্ডের কাপড়ের সমাহার নিয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছেন দোকানীরা। প্রায় প্রতিটি দোকানেই দেশী বিদেশী নামী দামী ব্যান্ডের ছেলে মেয়েদের বিভিন্ন পোশাক সমাহার ঘটাতে দোকানীরা যেন এক প্রকার প্রতিযোগীতায় নেমেছে।

ফলে নিত্য নতুন পোশাকে ইতিমধ্যে ভরে গেছে সবকটি মার্কেট। তবে আয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাধ ও সাধ্যের সমন্ময় ঘটাতে অধিকাংশ ক্রেতায় হিমসিম খাচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কক্সবাজারের নিউ মার্কেট,সুপার মার্কেট,রক্ষিত মার্কেট,হকার মার্কেট,বার্মিজ মার্কেট,
 রামু চৌমুহনীর কে.এ.নিউ মার্কেট,কে এ সুপার মার্কেট, সরওয়ার প্লাজা, জাহেদ কমপ্লেক্স, রাহাত প্লাজা, জরি হাউজ,শাপলা লেডিস কর্ণার,মজিদিয়া মার্কেট,তাহের প্লাজাসহ বিভিন্ন মার্কেটে নারী পুরুষের উপচে পড়া ভিড়। চলছে জমজমাট কেনা বেচা।

তাছাড়া অভিযাত বিপণি বিতান ও মার্কেট গুলোকে সাজানো হয়েছে বাহারি রঙ্গে। ওইসব বিপণি বিতান ও মার্কেট গুলোতে শোভা পাচ্ছে ভারতীয় সিরিয়ালের নায়িকাদের পোশাক ,স্কাট, টপস, থ্রিপিচ,জিন্স পেন্ট, জামদানি শাড়ি, বেনারশি, কাতান, সিল্ক, জর্জেট জয়পুরি, ছেলেদের নবাবী পাঞ্জাবী,শেরওয়ানী, ফতুয়া, টি শার্ট পেন্ট এবং ছোট ছেলে মেয়েদের জন্য বাহারি ডিজাইনের তৈরী পোশাক। তাছাড়া রয়েছে জামদানি বেনারশি, কাতান, সিল্ক, জর্জেট জয়পুরি শাড়ী ও। তবে গরমের কারনে হাল্কা সুতি কাপড়ের প্রধান্য বেশী রয়েছে বলে একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন।

শাপলা লেডিস কর্ণারের রুমি জানায়, অন্য বছরের তুলনায় এবার বেচা-কেনা অনেক ভাল। রমজানের শুরু থেকেই ক্রেতাদের বেশ আনাগুনা লক্ষ্য করা গেছে। ঈদ যতই এগিয়ে আসছে বেচা কেনা ততই ভাল হচ্ছে।

এদিকে ক্রেতারা বলেন গত বছরের তুলনায় এবছর কাপড়ের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যে থ্রিপিচ যে খানে ১১-১২শ টাকা বিক্রি হত এখন ১৫-১৬ শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বিত্তশালিরা তাদের আয় দিয়ে মনেরমতো কেনা কাটা করতে পারলেও মধ্য ও নিম্ম আয়ের লোকজন এ ক্ষেত্রে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।

কাউয়ারখোপ এলাকার ওয়াহিদা বলেন, পরিবারের সদস্যদের ঈদ পোশাক কিনতে মার্কেটে আসছি। মার্কেটে অনেক পোশাক দেখেছি কিন্তু মনে হচ্ছে অনেক দাম। অবশেষে ৩ হাজার ৫শ টাকা দিয়ে দুটি থ্রিপিচ কেনা হয়।
একই এলাকার রাদিয়া আক্তার বলেন, ছেলে ও মেয়েকে ঈদের নতুন পোশাক কেনার জন্য ঘুরে ঘুরে শেষ পযর্ন্ত থ্রি পিচ, শার্ট ও জিন্স প্যান্ট কেনা হয় বলে জানায়। তিনি বলেন পোশাকের দাম অনেক বেশী মনে হচ্ছে।

এদিকে ঈদে গজ কাপড়ের কদর কমেনি। বেশী ভাগ নারীই নিজেদের মনের মতো করে পছন্দের নকশা তৈরী করে গজ কাপড় কিনে পোশাক বানাচ্ছেন। এজন্যই এখন গজ কাপড়ের দোকানে উপচে পড়া ভিড়। একরঙ্গা, চিকেন জর্জেট, মাখন সিল্ক, ক্রাশড চায়না জর্জেট, টিসুসহ বিভিন্ন রকমের গজ কাপড় বিক্রি হচ্ছে দোকানগুলোতে।

তাছাড়া ফুটপাতের দোকান গুলোতে সমান তালে স্বল্প আয়ের লোকজন কেনা কাটা করছেন। অপরদিকে জুতা,চুড়ি, কসমেটিকস ও বিভিন্ন গহনার দোকান গুলোতে বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।
 

ট্যাগ: banglanewspaper কক্সবাজার