banglanewspaper

ইবি প্রতিনিধি: দফায় দফায় নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হবার পর নজিরবিহীন নিরাপত্তায় গত ৩ জুন থেকে অনুষ্ঠিত হতে থাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পুরাতন  মোট আটটি বিভাগের ২৭ টি পদের ৭টি নিয়োগ বোর্ড। নিয়োগ বোর্ডে এবারই প্রথম বারের মতো শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, ভাষাগত দক্ষতা ও একাডেমিক রেজাল্টকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন এ প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই নানা আলোচনা সমালোচনা করতে থাকেন একটি পক্ষ। বেশ কিছু একাডেমিক ভাল ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন প্রার্থী। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও এর বাইরের একটি মহল বিরোধীতা করে আসছেন। এছাড়া পরবর্তিতে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে গৃহীত পরীক্ষায় নকল ধরা পড়ার অভিযোগ বেশ কটি নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ধোয়াশা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বিরুদ্ধে নিয়োগ বোর্ডে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তোলা হয়। প্রক্টর প্রফেসর ড: মোঃ মাহবুবর রহমান উপাচার্য প্রফেসর রাশীদ আসকারীর অত্যন্ত আস্থাভাজন বলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন প্রশাসনের বাইরে থাকা কিছু শিক্ষক। এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-উর- রশিদ আসকারী।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষক নিয়োগে অধিক মেধাবীদের গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক আবেদনে প্রার্থীর যোগ্যতা পূর্বের থেকে বৃদ্ধির পর হতে নিয়োগ বোর্ডকে ঘিরে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল শুরু হতে বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, নিয়োগ বোর্ড কে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই অসত্য ও বানোয়াট অভিযোগ করছেন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর রাশীদ আসকারী, তিনি বলেন- এবারই প্রথম নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক রেজাল্ট, লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা ও ভাষাগত দক্ষতাকে যোগ্যতার মাপকাঠি ধরা হয়েছে যা অতীতে কখনই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলনা।

লিখিত পরীক্ষায় অনেক ভাল ফলাফল করে অনুত্তীর্ণ হওয়া বিষয়ে তিনি বলেন-“ আমাদের নতুন যোগ্যতার মাপকাঠি ছিল কেবল ভাল ফলাফল অর্জনকারী মেধাবীরাই শিক্ষক হবার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাই শিক্ষা জীবনের সকল পর্যায়ে ভাল ফলাফল অর্জনকারীরাই কেবল আবেদনের সুযোগ পেয়েছেন।এখানে তো কোন খারাপ ফলাফল করা পরীক্ষার্থী ছিলনা। সেক্ষেত্রে অনেক ভাল রেজাল্টধারী মেধাবী প্রার্থী যেমন পাশ করবেন তেমনিভাবে অনেকেই অনুত্তীর্ণ হবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কাউকে ফেল করানো হয়েছে মর্মে অভিযোগ করা হলে পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নের ব্যবস্থা চালু রয়েছে, এ নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করার কিছু নেই”।

তিনি আরো বলেন, ৭ টি বোর্ডের অধিকাংশ এক্সপার্ট অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিলেন, তারা যখন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেখানে নতুন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যারা নেতিবাচক মন্তব্য করছেন তারা আসলে একটি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই করছেন। এছাড়া আমার প্রশাসন যেকোন ধরনের দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে আসছে।নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন জালিয়াতি কিংবা কোন প্রার্থীর সাথে অর্থ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাথে সাথে তার প্রার্থীতা বাতিল করা হবে। এছাড়া নিয়োগের পরেও যদি কারো বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায় সেটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় বাতিল করা হবে। আমি মনে করি যেকোন সময়ের চেয়ে স্বচ্ছতার সাথে কোয়ালিটি নিশ্চিত করে শিক্ষক নির্বাচন করা হচ্ছে।

কর্মচারী বোর্ডে নকল বিষয়ে তিনি বলেন –“ একজন পরীক্ষার্থীর নিকট হতে নকল সাদৃশ্য বস্তু পাওয়া গেছে মর্মে অভিযোগ এসেছে।যারা পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন আমি তাদের সাথে কথা বলেছি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি-না সেটা বলার সময় শেষ হয়ে যায়নি।চুড়ান্ত নিয়োগের পর সকল বিষয় পরিস্কার হবে”। তিনি সিন্ডিকেটের চুড়ান্ত ফলাফলের পূর্বে ধারনা প্রসূত বিতর্ক সৃষ্টি না করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর ব্যাপারে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড: মোঃ মাহবুবর রহমানের সাথে। তিনি এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা প্রশাসনিক পদবী মাত্র, যার কাজ কেবল নিরাপত্তা প্রদান করা্, কাউকে চাকুরীতে নিয়োগ দেওয়া নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয় যাকে বলা হয় প্রক্টর । আর এই ব্যক্তিকে সহযোগীতা করার জন্য কয়েকজন সহকারী প্রক্টর থাকেন যাদের কাজ শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু এবং সুন্দর পড়ালেখার পরিবেশ তৈরীর স্বার্থে একাডেমিক, প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার স্বাভাবিক পরিবেশ বিদ্যমান রাখতে যখন যা করনীয় তাৎক্ষনিক তা নিশ্চিত করা।আমি দায়িত্ব নেবার পর থেকে দিনরাত পরিশ্রম করে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এর সফলতার কথা সবাই জানেন।যারা আমার সফলতায় ঈর্ষান্বিত তারাই আমাকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত করে ফাঁসানোর হীন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সেই সাথে কিছু ব্যাক্তি হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যে আড়াল থেকে কলকাঠি নেড়ে প্রশাসনকে বিতর্কিত করে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছতে চায়’।

তিনি আরো বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েকদিন ধরেই চলছে শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড এবং এই নিয়োগ প্রক্রিয়াই রয়েছে লিখিত এবং ভাইভা পরীক্ষা যেখানে একজন এক্সপার্ট, একজন সিন্ডিকেট সদস্য, বিভাগীয় সভাপতি এবং প্রধান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহাদয়ের উপস্থিতিতে লিখিত এবং ভাইভা পরীক্ষা সম্পন্ন হয় আর প্রচলিত রীতি অনুসারে এই লিখিত এবং ভাইভা পরীক্ষা সহ অনান্য রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে কাউকে মনোনীত করা হয় যা প্রকাশ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার পর, তার আগে কেউ বলতে পারে না যে কার চাকরি হবে কার হবেনা।সেখানে আমি কাউকে নিয়োগ দিয়ে দিয়েছি কিংবা দিচ্ছি এটা কল্পনাপ্রসূত মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়।

তিনি আরো বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কাজ শুধু নিয়োগ বোর্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেন কোন ভাবেই কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।আমি আইন শৃংখলা বাহিনীসহ সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে আমার দায়িত্বটুকু সঠিক ভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি মাত্র।এবং প্রক্টরিয়াল বডির নিরলস পরিশ্রমের ফলে এত হুমকির পরও কোন ধরনের বিশৃঙ্খল ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে নিয়োগ বোর্ড সমাপ্ত হয়েছে। এখন কে নিয়োগ পাবে কিভাবে পাবে এগুলো নিয়োগ বোর্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিগণ ছাড়া আর কেউ বলতে পারবেনা। কিন্তু তার পরেও কিভাবে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেশী মানুষ আগে থেকেই বলে বেড়াচ্ছেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হচ্ছে এটা বোধগম্য নয়”।

ট্যাগ:  banglanewspaper ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়