banglanewspaper

ইবি প্রতিনিধি : নজিরবিহীন কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আধুনিক, স্বচ্ছ ও ইউজিসি নির্ধারিত মানদন্ডকে অনুসরণ করে নতুন পদ্ধতিতে গত ৩ জুন থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। নিয়োগ বোর্ডে এবারই প্রথম বারের মতো শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, ইংরেজিতে দক্ষতা ও একাডেমিক ফলাফলকে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে বলে জানা যায়।প্রাথমিক পর্যায়ে এ নিয়ে কিছু মতানৈক্য থাকলেও অবশেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন প্রগতিশীল শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নিয়োগ পদ্ধতিকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার এ পরিবর্তন বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় তিন কর্তাব্যক্তি মাননীয় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার সহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে।এ ছাড়া গত ১২ জুন বিডিনিউজআওয়ারে প্রকাশিত সংবাদের মন্তব্যের প্রতি নজর রাখা হয়।সেখানেও নিয়োগের এই আধুনিক ও মানসম্মত প্রক্রিয়াকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হঠাৎ এই পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতম উপাচার্য লেখক ও গবেষক প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারি।তিনি বলেন, আমাদের  প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে ওয়াল্ড ক্লাস ইউনিভার্সিটিতে পরিনত করা।আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে আমার প্রশাসন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে এসেছে।তারই অংশ হিসেবে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, গ্রহনযোগ্য এবং আধুনিক করে গড়ে তোলা হয়েছে,যাতে করে যোগ্যতম শিক্ষক আমরা নিয়োগ দিতে পারি।আমরা যদি আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভাল আউটপুট পেতে চাই তাহলে অবশ্যই আমাদের ভাল ইনপুট দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি আউটপুট হয় তবে শিক্ষক  হলেন ইনপুট। যদি ভাল ইনপুট দিতে না পারি তাহলে ভাল আউটপুট প্রত্যাশা করা যায়না।

তিনি আরো বলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯ বছরের পথচলায় অতীতে কখনো শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার প্রচলন ছিলনা। নতুন প্রক্রিয়ায় আমরা প্রথমেই লিখিত পরীক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছি।বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনাতেও ছিল লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ, আমরা সেটা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি।মৌখিক পরীক্ষার সাথে যোগ করা হয়েছে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা। কারণ আমাদের প্রধান লক্ষ্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিনত করা।আমাদের দু একটি বিভাগ বাদ দিলে অধিকাংশ বিভাগে ইংলিশ মিডিয়া্মে শিক্ষা প্রদান করা হয়।তাই আমরা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ভাল ইংলিশ পারদর্শীদের গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি।বর্তমানে শিক্ষার মান ও শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টিতে সফলতার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে সুনাম কুড়িয়েছি।আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের সাথে বিভিন্ন সেমিনার ও চুক্তি সম্পাদন করা হচ্ছে নিয়মিত। সেখানে আমরা যদি যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগে ব্যর্থ হই তবে আমাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

আমরা আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়িয়েছি যাতে করে ভাল ছাত্ররা শিক্ষকতায় আসতে পারে।তার পরেও অতীতের যে  কোন সময়ের চেয়ে অধীক প্রার্থী চাকরির জন্য আবেদন করছে।অতীতে অপেক্ষাকৃত কম রেজাল্ট  চাওয়া হতো তার পরেও অগ্রহী প্রার্থী কম  পাওয়া যেতো। এ থেকেই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে নতুন পদ্ধতিতে আগ্রহ ও বিশ্বস্ততা বাড়ছে।

এ ছাড়া আমি পুর্বেও বলেছি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কোন ধরণের অনিয়ম, অবৈধ অর্থের লেনদেন কিংবা প্রার্থীর যে কোন ধরণের রাষ্ট্র বিরোধীতার সংশ্লিষ্টতা পেলে আমার প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এমনকি উপর্যুক্ত অভিযোগ যদি নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পরেও পাওয়া যায় তবুও তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রফেসর রাশীদ আসকারী নতুন এই যুগপোযুগী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য সকলের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন এবং যে কোন ধরণের সুচিন্তিত মতামত প্রদানের জন্য আহবান জানিয়েছেন।

নতুন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান উপাচার্য মহোদয়ের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে বলেছেন, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি উন্নততর জায়গায় নিয়ে যেতে হলে নতুন নতুন আধুনিক বিভাগ খোলার যেমন প্রয়োজন, সেসব বিভাগ সুন্দরভাবে চালাতে তেমনি দরকার উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ। বর্তমান প্রশাসন সেই কাজটি সততার সাথে করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনর্থক গুজবে কান না দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক প্র‌ফেসর ড. সে‌লিম তোহা ব‌লেন, ইবি প্রশাসনের চলমান নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড  সঠিক ও সুন্দরভাবে পরিচলিত হচ্ছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গতিশীলতার পথে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ এখন সময়ের দাবী। আর সেই কাজটিই করছে বর্তমান প্রশাসন। কল্পনা প্রসূত অনুমান ভিত্তিক কোন ধারনা দিয়ে ইবি প্রশাসনের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত না করে প্রশাসনের গতিশীল,নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়াকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি নিবেদন রাখছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে যেন কেউ বাধাগ্রস্থ করতে না পারে সে জন্য আমি এবং আমার প্রক্টরিয়াল বডি আইনশৃংখলা বাহিনীকে সাথে নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি।এবং কোন ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ছাড়াই সফলভাবে নিয়োগ বোর্ডগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমি সকলের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। এবং সুষ্ঠুভাবে নিয়োগ বোর্ড পরিচালনার জন্য আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

নতুন নিয়োগ পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুয়েল রানা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ ছাত্রলীগ চায় যথাযথ নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনেই যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ হোক,যাতে করে শিক্ষার মান উন্নয়ন ঘটে।বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে পদ্ধতি চালু করেছেন তা অত্যন্ত যুগয়োপযুগী।এ জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন ভাল কাজে ছাত্রলীগ অতীতে যেমন পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে”

এ ছাড়া  বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় এতোদিন মেধাবীদের মধ্যে যারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল তারাও নতুন এ  পদ্ধতি চালু হবার পর থেকে আশায় বুক বাঁধছেন।অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষকতার জন্য আবেদন করার অগ্রহ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন।

জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পুরাতন  মোট আটটি বিভাগের ২৭ টি পদের ৭টি নিয়োগ বোর্ডের অধীনে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারই প্রথম নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বেশ কটি ধাপ পার হতে হচ্ছে চাকরী প্রার্থীদের।প্রাথমিক বাছাই, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ইংলিশের দক্ষতাকে মানদন্ড ধরে শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে।নতুন এ পদ্ধতি সর্বমহল থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে। 

 

ট্যাগ: banglanewspaper ইবিতে শিক্ষক নিয়োগ