banglanewspaper

শৈলেন চন্দ্র মজুমদার। নন এমপিওভুক্ত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গণিতের শিক্ষক। পেশায় একজন শিক্ষক হলেও পেটের তাগিদে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে মানুষ গড়ার এ কারিগরকে। সপ্তাহের ছুটির দিন ও বিদ্যালয়ের ছুটির পর বাকি সময়টুকু কাঠমিস্ত্রির কাজ করে মাসে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় হয়, তা দিয়েই চলে তার সংসার।

‘দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এমপিওভুক্তির আশা নিয়ে চাকরি করে যাচ্ছি। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও আলোর মুখ দেখেনি তা। এ কারণে বাধ্য হয়েই দাবি আদায়ের জন্য মাঠে নেমেছি। সরকারের কাছে আমার আবেদন সরকার যেন আমাদের জন্য ডাল-ভাত খেয়ে বেচে থাকার ব্যবস্থা করে। আমরা আর কিছু চাই না।’, বলছিলেন এই শিক্ষক।

সোমবার (১৮ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের উল্টোপাশে এমপিওভুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শত শত শিক্ষক। এখানে শৈলেন মজুমদারও একজন আন্দোলনকারী। গণিতের এই শিক্ষক বলেন, ‘সেই ২০০১ সাল থেকে এমপিওভুক্তির আশা নিয়ে চাকরি করে আসছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। কাঠমিস্ত্রির কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাচ্ছি।’

নিজের পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার বাবার নাম মনোরঞ্জন মজুমদার। আমি ১৯৮৭ সালে এসএসপি পাস করি। অষ্টম শ্রেণিতেও বৃত্তি পেয়েছিলাম। ১৯৯১ সালে বিএসসি পাস করে প্রথমে আমি ব্রাকে চাকরি করি। পরে ওই চাকরি ছেড়ে দিয়ে ২০০১ সালে বরগুনার তালতলী উপজেলার বড়ইবাড়িয়া ইয়াতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসার বিজ্ঞান ও গণিতের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। এরপর ১৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষকতা করে আসছি। প্রতিষ্ঠানটিকে সরকার থেকে বারবার এমপিওভুক্তির আশ্বাস দেওয়া হলেও আজও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা আর চলতে পারছি না।’

এদিকে, দাবি আদায়ের জন্য আজ থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। গত ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। গত ১০ জুন থেকে ফের আন্দোলন শুরু করে শিক্ষকেরা।

ট্যাগ: banglanewspaper শিক্ষক