banglanewspaper

এম মতিউর রহমান মামুন: বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখন জঙ্গিবাদের বিপক্ষে  শক্ত আবস্থান নিলেন এবং জিড়ো টলারেন্স ঘোষণা করলেন,  জঙ্গিবাদ নির্মূল শুরু হল  তখনও দেখেছি একশ্রেনীর বুদ্ধিজীবী'রা  কড়া সমালোচলা করেছেন। সমাচোনার বিষয় বস্তু হল  জঙ্গিরা মরছে কিন্তু পুলিশ বা র্যাব সদস্য  মোরছেনা কেন? আবার হলিআর্টিসান  ও  শোলাকিয়াতে যখন আমাদের দেশের গর্বিত পুলিশ সদস্য যখন প্রাণদিয়ে কয়েক লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলিমকে বাঁচালেন, হলিআর্টসানের জঙ্গিদের হামলাম প্রাণ দিলেন তখন  সমবেদনা প্রাকাশ করেনি তাঁরা!  

আজ যখন মাদকের ভয়াবহতা, যুব সমাজের অধপতন রোধে  মাদকমুক্ত দেশ গড়নের কাজে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা  কাজ শুরু করছেন তখন আবার ঠিক তারাই সমালোচলা শুরু করছেন। সমালোচনার ধরণও একই রকম,  মাদকসেবী মরছে কিন্তু পুলিশ মরছেনা কেন ইত্যাদি। প্রতিত্তোরে ধন্যবাদ অন্তে এই বলা যেতে পারে আমাদের গর্বিত পুলিশ, র্যাব সদস্য'রা তাদের নিজ সদ্যস্যদের ঠিক রেখেই অভিযান পরিচালনা করতে পারছেন  অতিতের মত তাঁদের প্রাঁণ দিতে হচ্ছেনা এতো  যথাযথ যোগ্যতার প্রামানই দিচ্ছেন তাঁরা। 

প্রায় মাস খানেক ধরে একটা গোষ্ঠী  মাদকবিরোধী অভিযানে সরকার ও পুলিশ প্রসাশনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে তাতে আমার জিজ্ঞাসা সমাজ থেকে মাদক উৎপাটন কি আমাদের নৈতিক দ্বায়িত্বের মধ্যেই পরেনা?  শুধু প্রচার পচারনার মাথ্যমে দেশ থেকে কি মাদক উঠে যাবে?  মাদকবিরোধী যে অভিযান সরকার পরিচালনা করছে সেই অভিযান সফল করার কাজে সরকারকে সহযোগিতা করা কি একজন সচেতন নাগরিকের কর্তব্যের মধ্যেই পড়েনা? তা না করে শুধু সমালোচনা ও বিরোধিতামূলক  কথাবার্তা বলে সকল অভিযান ভেস্তেদিলে সমাজ যে অন্ধকার তলিয়ে যাবে তাতে কোর সন্দেহ নেই। 

আমাদের জানা আছ  জামায়াত- বি এন পি জোট আমলে ২০০৩/০৪ সালে যাদের প্রকাশ্য মদদে দেশের উত্তরাঞ্চেলে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিলো  তাঁরা খালেদা -নিজামী সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। খালেদা সরকার যদি তখন জঙ্গিবাদ দমন করতেন তাহলে হলিআর্টসান, শোলাকিয়ার মত হাজার ঘটনা থেকে দেশ রক্ষা পেত। বরং খালেদা সরকারের মন্ত্রী'দের প্রকাশ্য সহয়োগিতায় দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হলো, অতছো তাদের বিপক্ষে তখন কথা বলার সাহস কারাও ছিলনা। তৎকালীন সময় নওগাঁর আওয়ামীলীগ নেতা  ইসরাফিল আলম তাঁর নির্বাচনী এলাকায় জঙ্গিবাদের বিপক্ষে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরের রসানলের শীকার  হয়েছিলেন।

আমরা জোট সরকারকে দেখেছি জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে আর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারকে দেখছি জঙ্গিবাদ, মাদকমুক্ত   বাংলাদেশ গড়তে। বঙ্গবন্ধু মদের লাইচেন্স বাতিল করেছিলেন, জিয়াউর রহমানের সময় নতুন করে লাইচেন্স দিয়ে মাদক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।  পরিস্কার বলা যেতে  পারে  একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যাই পারেন জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও মাদকের ভয়ালগ্রাস  থেকে জাতীকে মুক্ত করতে আর কেউ নন। বঙ্গবন্ধু পেরেছিলেন সসস্ত্র সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে আমাদের কে মুক্ত করতে আতএব তাঁর কন্যার উপর আমাদের সেই বিশ্বাস বা আস্থা রাখা ছাড়া পথ কোথায়?  

জঙ্গিবাদী সমস্যা আমাদের একার নয় সারা বিশ্বের, আমাদের দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে ২০০৩ সালে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে। ২০০৪ সালে সায়ক আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাইয়ের নেত্রীত্বে আত্রাই বাণীনগর, মান্দা, রাজশাহীর বাঘমারা, নাটোরের নলডাঙ্গায় সসস্ত্র হত্যা যজ্ঞের মধ্যেদিয়ে। পরের বছর ২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট একযোগে ৬৩ জেলায় শ'পাঁচেক বোমা ফাটিয়ে তাদেব অস্তিতের জানান দেয। ২০০৪ সালের জঙ্গিবাদের উত্থান জামাত- বি এন, পির প্রকাশ্য মদদে তা সবার ভালো করেই জানা আছে। বংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি বলে তৎকালিন সরকার জঙ্গিবাদ প্রতাষ্ঠা করেছিলেন তা ব্যাখ্যা করার নিঃপ্রয়োজন। প্রশ্ন আসে তারা যদি জঙ্গিবাদ না চান তখন তারা দমন করলেন না কেন?

খালেদা - নিজামী সরকার পুলিশি পাহারায় উত্তর বঙ্গে জঙ্গিবাদের আস্তানা প্রতিষ্ঠা  করেছে তা  অশীকার করার উপায় নেই । বঙ্গবন্ধু কন্যা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর জঙ্গিরাদ নির্মুলে বার বার তাগিদ ও দিয়েছেন।  শেখ হাসিনা  মহুমাত্রিক সন্ত্রাস মোকাবিলায় সন্মলিতভাবে কাজ করার আহবান জানিয়েছিলেন। সেই লক্ষে  তিনি  রেডিসন হোটেলে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৭ টি দেশের প্রতিরক্ষা গয়েন্দা প্রধানদের সন্মিলনে সংসয় প্রকাশ করে বলেছিলেন ' বিশ্ব যে আজ বহুমাত্রিক সন্ত্রাসীর হুমকির সন্মখিন তা কোন দেশের পক্ষে একক ভাকে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

দ্য ফিউচার চ্যালেন্সস এ্যান্ড অপরচুনিটি ফর সিকিউরিটি কো - অপারেশন প্রতিপাদ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ড এবং বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের যৌথ আয়োজনের সন্মিলনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছিলেন ' বিশ্ব আজ একটি ক্রান্তীকাল অতিক্রম করছে, দেশে দেশে উগ্রজঙ্গিগোষ্টির উত্থান ঘটছে এসব জঙ্গিগোষ্টী সাধারণ মানুষের জানমালের পাশাপাশি বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি স্বরুপ'

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার  ঐ সন্মিলনের কয়েক ঘন্টা পর  আল- কায়েদা নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের নতুন শাখা খোলার ঘোষণা দিয়ে ৫৫ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা পাকাশ করেছিলেন  তাতে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারতের কিছু অংশের কথা উল্লেখ করা হয়েছিলো।  খবরটা বিশ্ব মিডিযায় প্রচারের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা যথাযথ শতর্কতা জারি করেছিলেন। পরের দিন ৪ সেপ্টেস্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে দৈনিন প্রথম আলো'র অনলাইন ডেস্কে ' আলকায়েদার নিশাণায় বাংলাদেশ' শিরনামে খবরটা প্রকাশিত হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের পর আবৈধ আস্ত্র উদ্ধার ও জঙ্গিবাদ দমনে যথেষ্ট পদেক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ২০০৯ সালে জঙ্গি দমন ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত ১৭ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি গঠণ ও জাতীসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নিষিদ্ধ ঘোষিত সব সন্ত্রাসীদলকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা, ২০০৯ সন্ত্রাস বিরোধী আইন প্রনয়ন এবং ২০১২ সন্ত্রাসবাদ বিস্তারে অর্থের জোগান বন্ধে অর্থ প্রচার প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন। এবং পরর্বতীতে জঙ্গিবাদ বিরোধী সফল অভিযান।   বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য নেত্রীত্বে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ ও মাদক মুক্ত হবে বিশ্বের সব দেশের আগেই , কেননা বঙ্গবন্ধু পেরেছিলন তাঁর কন্যাও পারবেন আর কেউ নন।

 

লেখক রবীন্দ্রস্মৃতি সংগ্রাহক ও গবেষক

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: banglanewspaper শেখ হাসিনা