banglanewspaper

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মরুভূমির বুকে গড়ে উঠছে আগামী বিশ্বের সবচেয়ে উচু স্থাপনা। সৌদি আরবের জেদ্দা নগরীর লোহিত সাগরের তীরে এই দারুণ এই স্থাপনাটির নির্মাণকাজ চলছে। আকাশচুম্বী এই স্থাপনাটি উচ্চতায় ৩ হাজার ২৮০ ফুট বা ১ হাজার মিটার।

২০২০ সালে এই গগনচুম্বী ভবনটি উদ্বোধন করা হলে এটি দুবাইয়ের বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে যাবে। এই অসাধারন স্থাপনাটি তৈরি করতে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে।

জেদ্দা ইকোনমিক সিটির মূল স্থাপনা জেদ্দা টাওয়ারটির আয়তন ব্যবসায়িক ও আবাসিক জায়গা প্রায় ৫৭ মিলিয়ন বর্গফুট (৫.৩ মিলয়ন বর্গমিটার)। যেখানে ভবিষ্যতে হোটেল, আবাসিক স্থাপনা, অফিসসহ টুরিস্টদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থাপনার সমাহার থাকবে।

কিন্তু জেদ্দা টাওয়ার নির্মাণ খুব দ্রুত শেষ হবে বলে মনে হয় না। ২০১৩ সাল থেকে শুরু হওয়া জেদ্দা টাওয়ারের অন্যতম দুজন বিনিয়োগকারী হলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ আল ওয়ালিদ বিন তালাল ও বকর বিন লাদেন।

বিন তালাল যিনি খ্যাতনামা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী হিসেবে সুপরিচিত। আর বকর বিন লাদেন সৌদি আরবের বিখ্যাত নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিন লাদেন গ্রুপের প্রধান ও জেদ্দা টাওয়ার কন্সট্রাকশন কোম্পনীর চেয়ারম্যান । এই দুজনকেই সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের দূর্নীতি বিরোধী অভিযানের সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল। যাই হোক, জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানী ২০২০ সালের মধ্যেই জেদ্দা টাওয়ারের কাজ শেষ করবে বলে জানিয়েছে।

জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানির সিইও মোনিব হমুদ বলেন, ২০২০ সালে, আমরা আপনাদের টাওয়ারটি দেখাতে পারব। আপনি টাওয়ার দেখতে পারবেন, আপনি শপিং মল দেখতে পারবেন, এর পাশপাশি আরও অনেক প্রকল্পও দৃশ্যমান দেখতে পারবেন।

২ দশমিক ৬ মিলিয়ন বর্গফুট বা ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৬ বর্গমিটার আয়তনের বিশাল এই স্থাপনাটি ২৫২ তলা বিশিষ্ট হবে। ভূমি থেকে ২ হাজার ১৭৪ ফুট উপরের পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চতম পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থাকবে এই টাওয়ারে।

অন্যান্য সুবিধার মধ্যে থাকবে একটি পাঁচ তারকা হোটেল ৯৭ টি এপার্টমেন্ট ও ৭টি ডুপ্লেক্স। জেদ্দা টাওয়ারের ৭টি তলার ৩২৫ টি রুমে থাক অফিসগুলো থাকবে।
এই টাওয়ারের লিফটগুলো রেকর্ড পরিমান উচ্চতা ২ হাজার ১৬৫ ফুট বা ৬৬০ মিটার উচ্চতায় আসা যাওয়া করবে। লিফটগুলো ১ম তলা থেকে ঘন্টায় সাড়ে ১২

মাইল বেগে উঠা নামা করবে। লিফটগুলো অতিথিদেরকে ১৫৭ বা ১৫৮ তলায় সাড়ে ৬৬ সেকেন্ডের মধ্যে পৌঁছে দেবে। নির্মাতারা মনে করছেন জেদ্দা টাওয়াটি মক্কা ও মদিনার প্রবেশপথ হিসেবে খ্যাত জেদ্দা নগরীর ঐতিহ্যগত পরিবর্তন এনে দিবে।

জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানীর প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা হিশাম জুমা বলছিলেন, জেদ্দা টাওয়ার নির্মাণের আগে এখানে মানুষ বসবাস করবে বলে কেউ বিশ্বাস করতো না। আমারা এখানে একটি স্বাধীন নগরী গড়ার কাজ করছি। যার ফলে এখান থেকে আপনাকে চলে যেতে হবে না। এই টাওয়ারটি জেদ্দা নগরীর আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

হামুদ বলছিলেন, জেদ্দা সমগ্র বিশ্বে আধুনিক শহরের ধারণার পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আগে আপনি দুবাই নগরীর কথা বলতেন এখন আপনাকে জেদ্দা নগরীর কথা বলতে হবে।

সৌদি আরবের সরকারি পরিকল্পনা অংশ হিসেবে সৌদি ভিশন ২০৩০ এর আওতায় জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণ কাজ চলছে। সৌদি আরবের তেল নির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে ভিন্ন আঙ্গিকের নতুন অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার অন্যতম ভিত্তি হতে যাচ্ছে জেদ্দা টাওয়ার।

ট্যাগ: banglanewspaper বিশ্ব জেদ্দা টাওয়ার