banglanewspaper

শাফিউল কায়েস: বন্যার সাথে যুদ্ধ করছে মৌলভীবাজার এলাকাবাসী। এ যুদ্ধের হার মানা মানেই মৃত্যু, নিজের জমানো সব সম্পত্তি হারিয়ে ফেলা বিনা কারণে। এ যুদ্ধের সংবাদ হঠাৎ করেই এলাকাবাসীর কোন প্রস্তুতি ছিলো না।

টানা পাঁচদিন পর মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মনু ও ধলাই নদের পানি নেমে যাওয়াতে প্লাবিত এলাকা থেকে দ্রুত গতিতে পানি কমতে শুরু করেছে। বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা মানুষ। তবে পানি যতো কমছে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়িগুলোতে জলকাদায় দুর্ভোগ ততই বাড়ছে।

বন্যায় প্লাবিত হয়েছে প্রায় দুই হাজার ৯৬০ হেক্টর আউশ ধান। বন্যার পানির স্রোতে ও পানিতে তলিয়ে থাকায় জেলার রাস্তাঘাট ও ব্রীজ-কালভার্ট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পানি কমে যাওয়ায় নিজ ঘরে ফিরে তা মেরামত করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। জেলা প্রশাসন ও বেসরকারি উদ্যোগে বন্যা কবলিতদের মাঝে ব্যাপক হারে ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। যাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে তারা নিজ ঘর বাসযোগ্য করার জন্য সারাদিন কাজ করছেন। অনেকে আবার প্লাবিত এলাকা পাড়ি দিয়ে নিজেদের বাড়িঘরে ফিরছেন।

তবে বাড়িঘরে ফিরলেও সেখানে রাত্রিযাপনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। যার কারণে তারা দিন শেষে আবারও আশ্রয় কেন্দ্রেই ফিরছেন বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন।

বন্যায় কবলিত মৌলভীবাজারের এলাকাবাসীঃ উজান থেকে নেমে আসা পানি এবং টানা চারদিনের বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের মনু নদ ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে উপজেলা সংযোগ সড়ক প্লাবিত হওয়ায় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজার। বিভাগীয় শহর সিলেটের সঙ্গেও রয়েছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ৩ লাখের ওপর মানুষ পানিবন্দি অবস্থায়  কাটাচ্ছেন।

উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ধলাই নদীর পানি স্বাভাবিক অবস্থায় আছে এবং মনু নদের পানি আজ রোববার বিপদসীমার ১৪৯ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে।

দিন দিন লোকালয়ে পানির পরিমান বেড়েই চলেছে। জেলার কুলাউড়া, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ঘরবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল কলেজ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এখনও পানি রয়েছে। সব মিলিয়ে মৌলভীবাজারের প্রায় দুইশত গ্রাম বন্যা কবলিত।

বন্যায় মৌলভীবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি কমঃ ঈদের ছুটিতে অনেকে সিলেটে বেড়াতে যান, জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। তবে এ বছর ঈদুল ফিতরের আগে অব্যাহত বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই সেখানে পর্যটকের উপস্থিতিও অনেকটা কম।

মৌলভীবাজারের পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছেঃ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নয়নাভিরাম মাধবপুর চা বাগান হৃদ, গারোটিলা, খাসিয়া পুঞ্জি ও সবুজ গালিচা ভরা চা বাগান। ঈদের সময় এসব এলাকা পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে। তবে এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেভাবে পর্যটক আসেনি।

মাধবপুরের চা বাগারে মাঝখানে থাকা হ্রদ ছিল সবার আকর্ষণ। কমলগঞ্জের কুরমা সংরক্ষিত বনের গভীরে রয়েছে হামহাম জলপ্রপাত।প্রত্যেক বছরে থাকতো দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় তবে এবার বন্যার কারণে পর্যটকের উপস্থিতি কমেছে আশাবিরুপ ভাবে।

মৌলভীবাজারে বন্যার্তদের সাহায্যার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েনঃ মৌলভীবাজারে বন্যার্তদের সাহায্যার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।শুক্রবার (১৫ জুন) রাতে মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল জানান, বন্যার্তদের উদ্ধার ও বাঁধ রক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সেনাবাহিনী বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন। সেনাবাহিনী নিবিড়ভাবে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বন্যাদুর্গত এলাকায় যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুতি রয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী পার্থ জানান, আমরা খুব উদ্বিগ্ন। সর্বশেষ (রাত ৯টায়) মনুর পানি চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

ট্যাগ: banglanewspaper মৌলভীবাজার বন্যা পরিস্থিতি কমছে পানি