banglanewspaper

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিজের নির্বাচনি এলকায় গেলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে পুলিশ তার বাড়ি ঘিরে রেখেছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, ‘এটা শুধু আমার কথা নয়, সমস্ত নোয়াখালীর মানুষের কথা। এসপি এবং ওসিও বিষয়টি আমাকে এভাবেই বলেছেন।’

বুধবার (২০ জুন) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার বলতে দ্বিধা নাই। যখনই এসপি এবং ওসি’র সাথে আমি কথা বলেছি, তারা আকার-ইঙ্গিতে বলেছেন, মন্ত্রী (ওবায়দুল কাদের) সাহেবের নির্দেশ আছে, আপনাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া যাবে না। আর উনাকে (ওবায়দুল কাদের) জিজ্ঞেস করা হলে উনি বলেন, এটা বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে হচ্ছে।’

‘কিন্তু আমাদের দলের মধ্যে কোনো বিভক্তি নাই। সুতরাং উনি (ওবায়দুল কাদের) মিথ্যা কথা বলেছেন। উনি মিথ্যুক। কারণ, পুলিশ আমাকে বলেছে, মন্ত্রী সাহেব এসেছেন, আপনি এলাকা থেকে চলে যান। আমি বলেছি, আমার লাশ যাবে, কিন্তু আমি যাবো না’— বলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি আরো বলেন, ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ নিশ্চিত হয়েছে যে আগামী নির্বাচনে তাদের পরাজয় অবধারিত। এ কারণেই এ ধরনের আচরণ করেছে তারা। তাই আমরা বলতে পারি, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হলে, নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ কোনো আসনে জয়লাভ করতে পারবে না।’

নোয়াখালীতে ১৩টি আসন রয়েছে উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে কোনো নির্বাচনে আমরা (বিএনপি) ১১টি আসন পেয়েছি, আবার কোনোবার ১৩টি আসন পেয়েছি। সুতরাং বলতে পারেন, নোয়াখালী বিএনপির একটি ঘাঁটি। তাই আমরা যেন কেউ মাঠে নামতে না পারি, এজন্য পুলিশকে দিয়ে সরকার এগুলো করছে।

টানা সাত দিন তাকে বাড়িতে অবরুদ্ধ রাখা হয়েছিল অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে একটি ইফতার মাহফিলও আমি করতে পারি নাই। কারণ, ইফতার মাহফিল পুলিশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। এ ছাড়া ঈদের দিন আমি বড় মসজিদে এবং বড় জামায়াতে নামাজ পড়তে পারি নাই। কারণ আমাকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। তাই বাড়ির কাছে যে মসজিদ ছিল, সেখানেই নামাজ পড়তে হয়েছে।’

‘ঈদের দিন বিকেলে আমার দু’টি জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি যেতে পারি নাই। কারণ আমার বাড়ির পাশের রাস্তা পুলিশ ট্রাক দিয়ে বন্ধ করে রেখেছিল’— বলেন মওদুদ।

‘বিএনপির সামনে এখন তিনটি বিষয় মুখ্য’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা; দ্বিতীয়ত, জাতীয় ঐক্য তৈরি; তৃতীয়ত, আগামী নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আয়োজন করতে বাধ্য করা।’

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে স্বৈরাচার সরকারের পতন সম্ভব নয় মন্তব্য করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং সেই কর্মসূচি সফলও হবে।

এই কর্মসূচি কী ধরনের হবে?— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৯৬৯ ও ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার পতনে যে ধরনের আন্দোলন হয়েছে, এবারও সেই ধরনের আন্দোলন হবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকারের সব অন্যায় ও অত্যাচারের জবাব আমরা দেবো, আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যরা।

ট্যাগ: banglanewspaper ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ