banglanewspaper

নুর কাদের সরকার ইমরান, নীলফামারী: নীলফামারীর ডোমারে কথিত সাংবাদিক নামধারী ৪ যুবককে আটক করে ঘড়ের ভেতর বেঁধে  রেখেছে এলাকাবাসী। পরে পুলিশ গিয়ে এলাবাসীর রোষানল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে।

ঘটনাটি ঘটেছে, মঙ্গলবার (১৯জুন-২০১৮) রাত ১০টার দিকে ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের আজিজার মিয়ার হাটে। এলাকাবাসী জানায়, কথিত সাংবাদিক নামধারী এক যুবকের নাম আনিছুর রহমান মানিক। সে দীর্ঘদিন যাবত ওই এলাকার কিছু যুবককে সাথে নিয়ে সহজ সরল লোকজনের কাছে বিভিন্ন প্রকার হুমকী এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছে।

ঘটনার রাতে ডোমার কলেজ পাড়া এলাকার মৃত আজিজার রহমানের ছেলে আনিছুর রহমান মানিক,জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ফজলু মামুদের ছেলে আতাউর রহমান, ৩নং ওয়ার্ডের ছাবেদ আলীর ছেলে শাহিন আলম ও মৃত নছিয়ার রহমানের ছেলে হামিদার রহমান মিলে ওই এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মানিক মিয়া নামের এক মানবাধিকার কর্মীকে ঘড়ে আটকে রেখে বিভিন্ন হুমকী দিয়ে সাদা ষ্ট্যাম্পে সাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাটী এলাকাবাসী এবং মানিক মিয়ার পরিবারের লোকজন জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করে কথিত সাংবাদিক আনিছুর রহমান মানিকসহ অপর ৩জনকে আটক করে রাখে। প্রায় ৩ঘন্টা আটক থাকার পর ডোমার থানার পুলিশ গিয়ে তাদের এলাবাসীর রোষানল থেকে উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে মানবাধিকার কর্মী মানিক মিয়ার বাবা মোসলেম উদ্দিন এ প্রতিবেদককে জানান, তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।তারা এলাকায় জুয়া খেলা,মাদকের ব্যবসা,বাল্য বিবাহ,জাল টাকার ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে। আমার ছেলে এর প্রতিবাদ করলে তারা আমার ছেলেকে আটক করে মারপিঠ করে তার কাগজপত্র কেড়ে নেয়। এ ঘটনা জানতে পেরে আমি সেখানে গেলে তারা আমার মাথা ফাটিয়ে দেয়। পরে এলাকাবাসী তাদেরকে আটক করে রাখে।

আমরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে আমার হাত-পা ধরে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পায়। মানবাধিকার কর্মী মানিক মিয়া জানায়, তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তারা মোবাইল ফোনে আমাকে ডেকে নিয়ে ঘড়ের মধ্যে আটকে রেখে আমার পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেয়,কি ঘুষি মারে এবং সাদা ষ্ট্যাম্পে সাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আমার পরিবারের লোকজন সেখানে গেলে তারা আমার বাবার মাথা ফাটিয়ে দেয়। পরে এলাকাবাসী তাদের আটক করে রাখে।

পুলিশ  এসে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। কথিত সাংবাদিক নামধারী ওই যুবকেরা নিজেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক কখনোবা মানবাধিকার কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।এ ব্যাপারে ডোমার থানার এসআই শফিক জানায়,আমরা সেখানে যাওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাচানের ছেলে মিজানুর রহমান বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। জোড়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন পরে আমার ছেলে গিয়ে মিমাংসা করে দেন।
 

ট্যাগ: banglanewspaper ডোমার