banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ রেলওয়ে (বি.আর) কে বলা হয় রেলের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বাবার রেল। যেমন খুশি তেমন চলবে। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা নেই। সৈয়দপুর থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের ঈদ পরবর্তী ২১ জুনের টিকিট দেওয়া হয়।

কিন্তু আজ (২১ জুন) যাত্রীরা স্টেশনে আসলে কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় যে আজ ট্রেনের অফ ডে (ছুঁটি)। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছে হাজার হাজার যাত্রী। পরে যাত্রীরা স্টেশন মাস্টারের কাছে পরবর্তী দিনের টিকিট চাইলে তারা জানিয়ে দেয় যে ২৭ তারিখের আগে কোন টিকিট নেই। 

তাই ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। যাদের সামর্থ আছেন তারা বিকল্প উপায়ে গাড়ি ভাড়া করে যাচ্ছেন। আর  অধিকংশ যাত্রীকে ভেঙে ভেঙে দীর্ঘ পথ পারি দিয়ে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে খুলনাগামী একজন যাত্রী আতিয়ার  রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “কাল থেকে অফিস, আজ পরিবার পরিজন নিয়ে স্টেশনে এসে শুনি ট্রেন নাই এবং ২৭ তারিখের পুর্বে ট্রেনের কোন টিকিট ও নাই। অভিযোগ করলে স্টেশন মাস্টার হাসেন। এখন কী আর করা! দেশে নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা নেই এখন ছেলে মেয়ে নিয়ে কিভাবে এত পথ ভেঙ্গে ভেঙ্গে যাব গরমে তাই বড় দুশ্চিন্তায় আছি। এর একটা ব্যবস্থা হওয়া দরকার। এভাবে তো চলতে পারেনা”।

কুষ্টিয়াগামী যাত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান ক্ষোভ প্রাকাশকরে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি সেখানে লিখেন, এ কোন বিড়ম্বনা! ট্রেনের ২১/৬ টিকেট আছে। যথারীতি স্বপরিবারে যথাসময়ে সৈয়দপুর স্টেশনে। ঘোষনা আজকের রুপসা ট্রেন নেই। কাউন্টারে টিকেট জমা দিয়ে টাকা ফেরৎ নিন। শতশত যাত্রী হা করে তাকিয়ে। অন্য কোন ব্যাবস্থা? উত্তর 'না' ২৭/৬ এর আগে কোন টিকেট নেই! এই ভোগান্তির দায়িত্ব কে নিবেন? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। প্রত্যাশা: দোষী চিহ্নিত করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
 
সৈয়দপুর থেকে খুলনায় চলাচলকারী একমাত্র ট্রেন রূপসা। উত্তর বঙ্গের নীলফামারি, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর সহ অনেক জেলা থেকে সরাসরি সড়ক পথে যাতায়াতের কোন সুব্যবস্থা না থাকায় ট্রেনটির উপর অধকংশ যাত্রী নির্ভরশীল।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ে  চীপ অপারেটিং সুপারেন্টেনডেন্ট (পশ্চিম) এর সাথে। তিনি  বলেন, “আজ রূপসা ট্রেনের অফ ডে। টিকিট কেন বিক্রি করা হলো তা আমার জানা নেই”। 

তিনি এ নিয়ে চীপ কমার্শিয়াল অফিসারের সাথে  কথা বলতে বলেন। তার সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও  তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
উপ মহাপরিচলক (পশ্চিম) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে ফোন কেটে দেন। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৮৫২ কোটি  টাকা লোকসান গোনা নিয়ে সমালোচনার ঝড় চলসে। সাথে যুক্ত হচ্ছে  নতুন নতুন অনিয়ম। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

ট্যাগ: banglanewspaper টিকিট বিক্রি ট্রেন বন্ধ ভোগান্তি