banglanewspaper

মধ্যে দিনে আধোঘুমে, আধো জাগরণে/ বোধকরি স্বপ্নে দেখেছিনু আমার সত্তার আবরণ / খসে পড়ে গেল আজানা নদীর স্রোতে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সংসয়টাই  প্রাকাশ করেছিলেন আওয়া লীগের বর্ষীয়ান নেতা আব্দুল জলিল। তাঁর অবর্তানে প্রিয় নওগাঁর আওয়ামী লীগের আবস্থা কি হবে? তাঁর সমস্ত জীবনে মেধা মননে প্রিয় সংগঠণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যে  সৃষ্টি করেছেন  তা কি মুছে যাবে? নওগাঁ বাসী  কি তাঁর সৃষ্টিকর্ম লালন করতে পারবে । পতিসর বাংলোতে মৃত্যুর কিছুদিন আগে এমন সংসয়ই প্রকাশ করেছিলেন জননেতা আব্দুল জলিল সাহেব। আমি তখন তার পাশেই দাঁড়িয়ে   কথা শ্রবণ করছিলাম। তাঁর স্বপ্নছিলো প্রিয় পুত্র নিজান উদ্দীন জলিল জন ব্যারিস্টারি শেষ করার পর তাঁর জীবদ্দশায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনিতীতে হাল ধরাবেন কিন্তু শে সময় পান নি তিনি।

বঙ্গবন্ধুর সহচর জননেতা আব্দুল জলিল

৭০- এর সাধারণ নির্বাচনের কিছু পূর্বে  ব্যরিস্টারি পড়তে লন্ডনে আবস্থান করছিলেন। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু তখন তাঁর সকল প্রিয় সহচর কে একত্র করার লক্ষে  আব্দুল জলিল সাহেব কে টেলিফোনে বলেছিলেন " হ্যালো উত্তর বঙ্গের জেনারেল আব্দুল জলিল", আমাদের কে নির্বাচনে জিততে হবে, সারা বাংলায় নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে হবে, নৌকার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হবে। পূর্ব বাংলার সব গুলো আসনে নৌকা মার্কাকে জিতাতে হবে। তুমি দ্রত দেশে ফিরে এসো, দেশকে যদি মুক্ত করতে না পারি, দেশের মানুষকে যদি বাঁচাতে না পারি কি হবে তোমার ব্যারিস্টারি পড়ে?"

বঙ্গবন্ধুর এমন ফোন পেয়ে জননেতা আব্দুল জলিল দেশে ফিরে আসেন। মাত্র দু'মাস বাঁকি ছিল তাঁর ব্যারিস্টার হতে। আব্দুল জলিল সাহেব দেশে ফিরে বর্ষামাসে ডিঙি নৌকাতে মাইক নিয়ে ভেসে ভেসে বঙ্গবন্ধুর নৌকার পক্ষে ভোট প্রর্থনা করেন। ঐ নৌকাতে জলিল সাহেবের সঙ্গে আমার পিতা প্রচারে ছিলেন, তাঁর কাছেই আলোচ্য গল্প আমার শুনা। সেই সময় আমার পিতা নিজ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাচীবিক দায়িত্ব পালন করেছেন। দুই শত টাকা বিঘা দরে জমি বেঁচে দলের কাজে ব্যায় করেছন। তাই জলিল সাহেব বাবাকে আনেক ভালবাসতেন। আমরা নওগাঁর মানুষ, জলিল সাহেব আমাদের রাজনৈতীক দেবতা, গুরু , মহাগুরু তা অশীকার করার  পথ নেই। আমি মুক্তি যুদ্ধ দেখিনি তাঁর বিশাল ভুুমিকার কথা পড়েছি। শুনেছি যুদ্ধের পর বিশাল অংকের টাকা দেশের কথা চিন্তা করে ব্যাংকে ফেরত দেওয়ার কথা। বাংদেশ আওয়ামী লীগে বলিষ্ঠ নেত্রীত্ব দেখেছি, লাগি- বৈঠা আন্দোলনের তাঁর সিংহগর্জন এখন আমার কানে ভাসে। তাঁর বর্নাঢ কর্মময় জীবন আমাদের ইতিহাস। তাঁর প্রমান পেলাম আওয়ামী লীগের কাউন্সিলেন আগে জননেতা আব্দুল জলিল সাহেবের প্রিয় নওগাঁর কি অবস্থান তা জানতে সুদুর জার্মানির কোলন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোন করেছেন বঙ্গবন্ধুর আর্দশে বিশ্বাসী আব্দুল জলিলি ভক্ত এক বাঙালি অধ্যাপক, গবেষক।

ব্যক্তিগত আমার সংগে তাঁর পরিচয়ের কারণ তিনি রবীন্দ্র গবেষক বলে। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন, শ্রদ্বেও নেতা আব্দুল সাহেবের অবর্তমানে আমরা নওগাঁবাসী  কেমন আছি? আমরা কেমন আছি তা খুব সহজেই বলতে পেরেছি, বাঁকি সব আমার জন্য কঠিন কারণ আমি রাষ্ট্রীয় পলিটিকস্ বুঝিনা, যতটুকু বুঝি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ্য প্রতিষ্ঠা হলেই দেশ এগিয়ে যাবে। তাই যতটা পারি জাতির পিতার আদর্শের বাঁণী প্রচার করে নৌকায় ভোট প্রর্থনা করি। যাহোক তাঁর আরও যে জিজ্ঞাসা ছিল " জলিল সাহেবের প্রিয় নওগাঁ থেকে এবারে কেউ কেন্দ্রিয় কমিটিতে স্থান পেয়েছে কি না ? সামনে নির্বাচনে আব্দুল জলিল সাহেবের সুযোগ্য উত্তরসূরী  নিজাম উদ্দীন জলিল জন নৌকার নমিনেশন পাবে কি না?  বাঁকি আসনে কারা নমিনেশন পেতে পারে।   এম, পি ইসরাফিল আলম জিততে পারলে সামনে তাঁর পজিশন কি হবে" এমন আরও কিছু। ইসরাফিল আমল কে নিয়ে তাঁর আগ্রহের কারণ জামাত বি এন পি হটাও আন্দোলনে পল্টনে যেদিন ইসরাফিল আলমকে রাস্তায় ফেলে অমানবিক নির্যানত করছিল ঠিক সেই সময় আধ্যাপক স্যার পল্টনে গাড়ি থামিয়ে পুরো ঘটনা দেখেছিলেন এবং তাঁর প্রতিবাদও করেছিলেন।  কার কি পজিশন হবে তা আনেকাংশে নির্ভর করবে বঙ্গবন্ধু কন্যার উপর। কেননা বিগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তরুণ, সৎ, পরিশ্রমি, যোগ্য, দক্ষ, ত্যাগি নেত্রীত্বকে এগিয়ে রেখেছেন।

বাঁকিটা নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ ক্রমে করবেন, কেননা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাতৃত্বের আসনে আছেন, দেশে শত সহস্র শন্তান তাঁর মুখপানে চেয়ে আছেন।  ' মা' তাঁর সঠিক কাজটাই করবেন। নওগাঁর সাধারণ মানুষের চাওয়া আব্দুল জলিল সাহেবের উত্তরসূরি নিজাম উদ্দীন জলিল জন নওগাঁ ৫ সদর  আসনের যোগ্য প্রার্থী তাঁকে নমিনেশন দিলে তাঁরা বিপুল ভোটে তাঁকে নির্বাচিত করবেন। নওগাঁর সাধারণ মানুষের ভাষ্য তাঁরা জলিল সাহেবের কাছে ঋণী, কোন কিছুর বিনিময়ে তাঁর ঋণ শোধ করতে পারবেন না তাঁরা,  তাই তাঁর উত্তরসূরিকে একটা ভোট দিয়ে ঋণের বোঝা কিছুটা হালকা করতে চান । পিতার আদর্শ্যে ধারণ করে ব্যারিস্টার  জন ইতপূর্বে বেশ কিছু সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজে নিজকে নিয়োজিত করেছেন। লেখক রবীন্দ্রস্মৃতি সংগ্রাহক ও গবেষক

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: banglanewspaper হ্যালো উত্তরবঙ্গ