banglanewspaper

মনির হোসেন জীবন, নিজস্ব প্রতিনিধি: পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ঈদের ছুটি কাটিয়ে এরই মধ্যে জীবিকার তাগিদে অনেকে ফিরেছে কর্মস্থলে। একটু আগে ভাগে আসার চেষ্টা থাকে সকলের কিন্তু প্রিয়জনদের ছেড়ে আসতে কার ভাল লাগে। তাইতো ঈদের ছুটির শেষ দিনে নিজ বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষজন। 

তবে অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি অফিস খোললেও আগামীকাল (২৩শে জুন, শনিবার) গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভারের বেশিরভাগ পোশাক কারখানা একযোগে খুলছে। ফলে রাজধানী’তে প্রবেশের অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা চন্দ্রা ত্রিমোড়ে এখন কর্মস্থলে ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড়। 

শেষ দিনে মানুষের কর্মস্থলে ফিরতে মহাসড়কে যানজটের কোন ঝামেলা না থাকলেও অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত বাড়তি ভাড়া আদায়ের। যাত্রীদের একপ্রকার জিম্মি করেই বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন। আর শেষ দিনে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাত্রা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। 

অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় নেই কোন গণপরিবহন। তাছাড়া অন্যান্য সময় যে সব লেগুনা বা অটোরিকশা থাকে তা আজ তেমন নেই বললেই চলে। ফলে চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে রাজধানী’তে ( সাভার, আবদুল্লাহপুর, নবীনগর হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক) প্রবেশের এবং গাজীপুর অভিমুখে দেখা দিয়েছে পরিবহন সংকটের। 

আর পরিবহন সংকটের অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ইচ্ছেমত বাড়তি ভাড়া। ভাড়া নিয়ে কোন কথা বলারও যেন সুযোগ নেই। বাস, লেগুনা, অটোরিকশা, ভ্যান সব কিছুতেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের যেন হিড়িক পড়েছে। আর বাড়তি ভাড়া দিতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে সাধারণ যাত্রীরা বলে অনেকে অভিযোগ করেছে। 

টাঙ্গাইল মির্জাপুর থানার বাসিন্দা শরিফ। তার গন্তব্যস্থল গাজীপুরের সালনা। কথা হয় তার সাথে তিনি জানান, চন্দ্রা থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে কোন গণপরিবহন ছেড়ে যাচ্ছে না। অনেকক্ষন অপেক্ষা করার পর একটি বাস আসলেও তাতে ভাড়ার পরিমাণ এত বেশী যে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তা প্রায় তিনগুন। 

তিনি জানান, চন্দ্রা থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তার ভাড়া ২৫-৩০ টাকা অথচ এখন ৭০-১০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।  কিন্তু কি করবো নিরুপায় হয়েই আমাদের যেতেই হচ্ছে। এটা এক ধরণের হয়রানি বলে তিনি মনে করেন। 

বগুড়া থেকে আসা হানিফ মিয়া জানান, তিনি যাবেন সাভারের হেমায়েতপুরে। অন্যান্য সময় এই মহাসড়কে বিভিন্ন সিটিং সার্ভিস নামে গণপরিবহন থাকলেও আজ সেগুলোর দেখা নেই। তাই বাধ্য হয়েই লেগুনা’তে চড়ে বসেছেন। ভাড়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন অন্যান্য সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে তাকে গন্তব্যে পৌছঁতে হচ্ছে। এরপরও আবার গাড়ি বদল করতে হবে। চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে নবীনগরের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা অথচ আজ নেয়া হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত। 

ঈদ শেষে সড়ক পথে কর্মস্থলে ফেরা মানুষদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়কগুলোতে কোথাও কোন যানজট নেই। তবে কিছু বাসস্ট্যান্ড ঘিরে রয়েছে পরিবহনের জটলা। তবে মহাসড়কেই নেই পর্যাপ্ত গণপরিবহন। আর যেসব পরিবহন রয়েছে সেগুলোতে আদায় করা হচ্ছে ইচ্ছেমত বাড়তি ভাড়া। 

তবে পরিবহন সংশ্লিষ্ট’রা জানান, ঈদের সময়ে গণপরিবহনের একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন স্থানে রিজার্ভ ( ভাড়ায়) চলে গেছে। সেই পরিবহনগুলো এখনো টার্মিনালে এসে পৌছঁতে পারেনি। ফলে সড়কে গণপরিবহনের কিছুটা সংকট রয়েছে। আর বাড়তি ভাড়া আদায় বিষয়ে কোন ধরণের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র মতে জানা যায়, মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে তারা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

ঈদের ছুটি শেষে প্রিয়জনদের ছেড়ে জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সাবার ঐকান্ত প্রচেষ্টায় পারে বিপুল সংখ্যক এসব জনগণের স্বস্তির যাত্রা নিশ্চিত করতে বলে মনে করেন সমাজের সচেতন মহল। 
 

ট্যাগ: banglanewspaper কর্মস্থলে ফেরা