banglanewspaper

মোস্তাফিজুর রহমান, বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা তালতলীর পায়রা নদীর এক ভাঙনের ঘাঁ শুকাতে না শুকাতে ফের ভয়াবহ ভাঙন কবলে পড়েছেন উপকূলের বাসিন্দারা। বর্ষায় অতি বৃষ্টি ও নদীর ভাঙন আরো তীব্র আঁকারে রূপ নিয়েছে।

গতকাল বিকাল ৩টা দিকে চোখের পলকে ৩৩ শতাংশ ভেঙ্গে নদিতে বিলিন হয়ে যায়। অপর দিকে গত ১৪ তারিখ রিন বেরিবাধঁ ভেঙ্গে পাঁচশত পরিবার পানি বন্দি হলে। মাত্র ৭০ পরিবারকে ৫’শ টাকা করে দেওয়া হয় ও ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার আশ্বাস দিলেও ১১ দিনে এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য পায়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

নদীর তীর রক্ষা বাঁধ দ্রুত নির্মাণ না করা গেলে, সময়ের ব্যবধানে পায়রা’র করাল গ্রাসে নবনির্মিত বাঁধ বিলিন হয়ে যাবে। এতে ভেস্তে যাবে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকারের হাজারও টাকার প্রকল্প। বেরিবাঁধ নির্মাণে অর্থবরাদ্ধের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী।

২৭ জুন সরেজমিনে তেতুলবাড়িয়া পূর্ব নলবুনিয়া ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চলতি বর্ষার মৌসুমে পায়রা’র নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে তলিয়ে গেছে এই উপজেলার পূর্ব নলবুনিয়ার অধিকাংশ এলাকা। দানবের মত গ্রাস করে নিঃস্ব করে দিয়েছে ওই অঞ্চলের মানুষগুলোকে।

স্থানীয়দের দাবী, নদীর তীর রক্ষায় তেুুলবাড়িয়া থেকে পূর্ব নলবুনিয়া ১ কিলোমিটার যথেষ্ট নয়, ভাঙ্গন প্রতিরোধে ৫ কিলোমিটার স্থায়ী বেরি বাঁধ নির্মাণ কাজ করা অতি জরুরি। তা না হলে ভাঙ্গন কবলে পড়ে এলাকার সাধারণ মানুষ নদী গর্ভে তলিয়ে যাবে। তাই দ্রুত অর্থবরাদ্দের মাধ্যমে স্থায়ী রক্ষা বাঁধ নির্মানের দাবী স্থানীয়দের।

স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ডেও গ্রাম প্রলিশ মো. সেলিম জানান, ‘২০ কেজি করে চাল দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো চাল কেউ পায় নাই। ঈদের ২ দিন পরে চাল দেওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোনো চাল বিতরণ করা হয়নি। গতকাল বিকাল ৩টার সময় আমাদের এলাকার ৩৩’শতাংশ জায়গা জুড়ে বেরিবাঁধ ভেঙ্গে যায়। এমনও অনেকে ভয় ও মানবেতর জীবনযাপন করছে।’

নদীর পাড়ের দোকানদার নজরুল বলেন, ‘গত ১৪ তারিখ রিন বেরিবাঁধ ভেঙ্গে বাড়িসহ কয়েক একর ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে গিয়েছিলো। নিঃস্ব হয়ে নদীর পাড়ে দোকান ব্যবসা করে সংসার চাই, তাও কয়েক’ বার ভাঙ্গল কবলে পড়ে স্থানান্তর করতে হয়েছে। সেই ঘাঁ শুকাতে না শুকাতে ফের ভয়াবহ ভাঙ্গনে রুপ নিয়েছে পূর্ব নলবুনিয়া। বাঁধ রক্ষায় দ্রুত নদীর স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।’

সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোসা. ফিরোজা বলেন, ‘ঈদের আগে প্রশাসনের সহযোগিতায়  ৫‘শ টাকা করে ৭০ পরিবারকে দেওয়া হয়। কিন্তু ২০ কেজি করো চাল এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’

উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন, ‘গতকাল বিকালে ৭০ জনের নামে ডিউতে সাক্ষর হইছে। আজ সেই ডিউ নিয়ে গেছে চেয়ারম্যান হয়ত দু’একদিনের মধ্যে ২০কেজি করে চাল বিতারণ করা হবে।’

উপজেলা নিবার্হী অফিসার ফারজানা রহমান বলেন, ‘ঈদেও আগে আমি নিজে গিয়ে প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছি। আর বিশেষ করে ঈদের বন্ধ ও ডিসি অফিস থেকে বরাদ্ধ দিতে দেরি হওয়াতে ঐ ৭০ পরিবারকে ২০ কেজি চাল বিতরণ করতে সমস্যা হয়েছে। বাঁধ নির্মাণ কাজের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মতিউর রহমান বলেন, ‘আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার হবে। অর্থবরাদ্দ পেলে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।’

ট্যাগ: Banglanewspaper বরগুনাবাসী অভিশাপ পায়রা নদী