banglanewspaper

নাটোর প্রতিনিধি: ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে নাটোরের গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারী কলেজসহ উপজেলার বিভিন্ন কলেজে একাদশ শ্রেণীতে অতিরিক্ত ভর্তি ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী মফস্বল অর্থাৎ উপজেলা পর্যায়ের পৌরসভা এলাকাসহ প্রতিষ্ঠানে সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে এক হাজার টাকা, জেলা সদরের পৌরসভা এলাকার জন্য দুই হাজার টাকা এবং ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশী হবেনা। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এর অতিরিক্ত ফি আদায় করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাছাড়া দরীদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উল্লেখিত ফি যতদুর সম্ভব মওকুফের ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। সরকারী বিধিমোতাবেক রেজিষ্ট্রেশন ফি ১২০, ক্রীড়া ৩০, রোভার ১৫, রেডক্রিসেন্ট ৮, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সাত এবং বিএনসিসি পাঁচ টাকা অর্থাৎ ১৮৫ টাকাসহ মফঃস্বলের কলেজ গুলোতে এক হাজার টাকার অতিরিক্ত নেওয়ার কথা নয়।

মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে প্রতষ্ঠানগুলো তাদের ইচ্ছেমত ফি আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যমতে, বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারী কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য এক হাজার আটশ’ টাকা, খুবজীপর মোজাম্মেল হক কলেজে এক হাজার পাঁচশ’ টাকা, রোজী-মোজাম্মেল মহিলা কলেজে এক হাজার দুইশ’ টাকা, নাজিরপুর ডিগ্রী কলেজে এক হাজার পাঁচশ’ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কারিগরী ও স্কুল এ্যান্ড কলেজে নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি ফি নেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানান।

একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায়, জোহা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষের সাথে যোগসাজসে উপজেলার একমাত্র শাহীন কম্পিউটার ওই কলেজের সকল শ্রেণীতে ভর্তি ও ফরম ফিল আপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে ওই কম্পিউটার থেকে ভর্তি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারী কলেজে ৮শ’ অনুমোদিত সিট রয়েছে। মানবিক- ৩৫০, বানিজ্য- ১৫০ ও বিজ্ঞান বিভাগে ৩০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। হিসাব মতে দেখা যায় সরকারী বিধি বহির্ভূত অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়েছে ছয় লাখ ৮০ হাজার টাকা। খুবজীপুর মোজাম্মেল হক কলেজে অনুমোদিত সিট রয়েছে সাড়ে চারশ’। অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা। নাজিরপুর কলেজে অনুমোদিত সিট রয়েছে পাঁচশ’। অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজে সব মিলে ভর্তি হবে দেড়শ’। এতে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়েছে ২১ হাজার টাকা।

ভর্তি হতে আসা ববিতা খাতুন ও জাকারিয়া জানায়, এক হাজার ৮৫০ টাকা দিয়ে জোহা সরকারী কলেজে ভর্তি হয়েছি। একটি মাত্র কম্পিউটারের দোকান ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করায় পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম ওপেন করে দেওয়ার দাবি জানায় তারা।

রোজী-মোজাম্মেল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ইব্রাহিম হোসেন জানান,  এক হাজার দুইশত টাকা নেওয়া হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে সাত থেকে আটশ’ টাকাতেও ভর্তি করানো হচ্ছে।

খুবজীপুর মোজাম্মেল হক কলেজের উপাধ্যক্ষ আবু সাঈদ জানান, বেতন ও অন্যান্য টাকাসহ এক হাজার পাঁচশ’ টাকা নেওয়া হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে এক থেকে দুইশ’ টাকা কমেও ভর্তি করা হচ্ছে।

বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ রেজাউল করিম জানান, অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তির টাকা জমা হচ্ছে। সরকারী বিধির বাহিরে কোন অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছেনা। শাহীন কম্পিউটারের সাথে যোগসাজসের কথা অস্বীকার করে তিনি আরো জানান, অন্য কম্পিউটার অপারেটররা হয়তঃ বুঝতে পারছেনা কিভাবে ভর্তি করতে হয়।

ট্যাগ: Banglanewspaper গুরুদাসপুর জোহা সরকারি কলেজ