banglanewspaper

ম্যাচটি নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই জিতে নিতে পারতো ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইয়েরি মিনার গোলে তাতে বিলম্ব হলো। (৯০+৩) মিনিটে কলম্বিয়ার ইয়েরি মিনা গোল করে ম্যাচে ১-১ সমতা আনায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। তাতেও ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়নি। যে কারণে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারেও ছিল টানটান উত্তেজনা। 

তবে, শেষ হাসি হেসেছে ইংল্যান্ডই। টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে হ্যারি কেনের ইংল্যান্ড। আর বিদায় নিয়েছে কলম্বিয়া। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ৭ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় সুইডেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংলিশরা। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল ২০০৬ সালে।

টাইব্রেকারে প্রথমে কিক নেয় কলম্বিয়া। দলটির অধিয়াক রাদামেল ফ্যালকাও প্রথম কিকটি নিতে এসে গোল করতে সক্ষম হন। এরপর আসেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেন। তিনিও গোল করেন। তারপর কলম্বিয়ার দ্বিতীয় কিকটি নিতে আসেন কুয়াদ্রাদো। তিনিও গোল করেন। এরপর ইংল্যান্ডের রাশফোর্ডও গোল করতে সক্ষম হন। টাইব্রেকারে স্কোর তখন ২-২। উভয় দলই সমানে সমান।

কিন্তু তৃতীয় কিকে গিয়ে পিছিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তৃতীয় কিকে কলম্বিয়ার মুরিয়েল গোল করলেও মিস করেন ইংল্যান্ডের হেন্ডারসন। তবে, চতুর্থ কিকে গিয়ে স্কোর আবার সমান হয়। চতুর্থ কিকে কলম্বিয়ার উরিবে মিস করলেও গোল করেন ইংল্যান্ডের ট্রিপিয়ার। শেষ কিকে কী হয় সেদিকেই তখন সবার নজর। স্টেডিয়ামের গ্যালারি তখন নিস্তব্ধ। এমন সময় কলম্বিয়ার বাক্কা এসে গোল করতে ব্যর্থ হন। 

তবে, দারুণভাবে গোল করতে সক্ষম হন ইংল্যান্ডের ডায়ার। সেই সাথে জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের। উল্লাসে ফেটে পড়েন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় ও দর্শকরা।

স্পার্তাক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল করতে পারেনি কোনো দল। তাই গোলশূন্য সমতায় থেকে বিরতিতে যায় তারা। অবশ্য বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। ১৬তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো ইংলিশরা। কিন্তু অল্পের জন্য হয়নি। ডানদিক থেকে ব্যাক পোস্টে হ্যারি কেনকে লক্ষ্য করে ক্রস দেন ট্রিপিয়ার। 

হ্যারে কেন হেড করেন। কিন্তু বল চলে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। ৪১তম মিনিটেও সুযোগ এসেছিল ইংল্যান্ডের সামনে। ডি-বক্সের কিছুটা সামনে ফ্রি-কিকের সুযোগ পেয়েছিল তারা। ফ্রি-কিক নেন ট্রিপিয়ার। তার বাঁকানো শট সাইডবারের পাশ দিয়ে চলে যায়।

(৪৫+২) মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ পান কলম্বিয়ার কুইন্টেরো। কিন্তু তিনি শটটি ভালোভাবে নিতে পারেননি। তার দুর্বল শটটি সহজেই ঠেকিয়ে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড।

বিরতির পর ৫৪তম মিনিটে কর্নার কিক পায় ইংল্যান্ড। ডি-বক্সের মধ্যে কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বল খোঁজার চেষ্টায় ছিলেন হ্যারি কেন। কিন্তু কার্লোস সানচেজ তাকে বাধা দেন। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন এবং কার্লোস সানচেজকে হলুদ কার্ড দেখান। এর আগে জাপানের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেছিলেন কার্লোস সানচেজ।

পেনাল্টির সুযোগ পেয়ে ৫৭তম মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। পেনাল্টি থেকে গোল করেন হ্যারি কেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে হ্যারি কেনের এটি ষষ্ঠ গোল। টুর্নামেন্টে তিনিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা।

ম্যাচে তখন ৯০ মিনিটের খেলা শেষ। চলছে ইনজুরি টাইমের খেলা। েইংল্যান্ডের খেলোয়াড় ও দর্শকরা হয়তো মনে মনে উল্লাসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন সময়ই নাটকীয়ভাবে ম্যাচে সমতা আনে কলম্বিয়া। (৯০+৩) মিনিটে গোল করে ম্যাচে ১-১ সমতা আনেন ইয়েরি মিনা। যার ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। হুয়ান কুয়াদ্রাদোর নেয়া কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বল হেড করে জালে পাঠান মিনা।

নকআউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ কলম্বিয়ার হয়ে খেলতে পারেননি হামেস রদ্রিগেজকে। সেনেগালের বিপক্ষে গত ম্যাচে ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্বে তাদের সর্বশেষ ম্যাচে কয়েকটি পরিবর্তন আনলেও আজ শক্ত একাদশ নিয়েই মাঠে নামে। ইংলিশরা তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ওই ম্যাচের একাদশই আজ রাখেন গ্যারেথ সাউথগেট।

‘জি’ গ্রুপ থেকে গ্রুপ রানার আপ হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিল ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিল কলম্বিয়া।

ট্যাগ: Banglanewspaper নাটক ইংল্যান্ড