banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর): বৃদ্ধের নাম আমীর আলী পঁচু। বয়স আশির কোটা পেরিয়ে গেছে। বাড়ি শ্রীপুর পৌর এলাকার লোহাগাছ (মধ্যপাড়া) গ্রামে। এক সময় কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও বয়সের কারনে এখন আর তেমন কোন কাজ করতে পারেন না।

এক ছেলে ও মেয়ের জনক হওয়ার পরও বর্তমানে তাঁর খোঁজ খবর কেউ নেয় না বলে জানায় সে। অনেকটা অভিমানেই নিজের বাড়ির আঙিনায় কবর খুঁড়েছেন। এখন কবর পানেই দিন অতিবাহিত হচ্ছে তাঁর।

ওই বৃদ্ধের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, কবরের পাশে বসে অঝরে কাঁদছে সে। জীবনে কি পেলেন আর কি হারালেন তার হিসেব যেন মিলছেনা তাঁর।  জীবন একটি হিসেব ছাড়া  গল্পের সাথে তুলনা করেছেন তিনি।

যদিও আমীর আলীর ভাষ্য জীবনে অনেক কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করেছি, এখন আর শরীরে পরিশ্রম মানে না। এক ছেলে ও মেয়ে থাকার পরও বৃদ্ধ বয়সে সন্তানেরা তার তেমন কোন খোঁজ খবর নেয় না। মৃত্যুর পর তার কবর হবে কিনা বা কোথায় হবে তারও কোন ভরসাও নেই এমন বিশ্বাসেই বাড়ির আঙিনায় তিনি কবর খুড়ে পাঁকা করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় আব্দুর রউফ সরকার জানান, তাদের  পারিবারিক কবরস্থান থাকার পরও বাড়ীর আঙিনায় কেন কবর খুঁড়েছেন তা আমাদের বোধগম হচ্ছে না। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা কথা শুনা যাচ্ছে।

এছাড়াও তিনি কাটাখালির মোজাদ্দেদীয়া দরবার শরীফের একজন মুরিদ। প্রতি বছরই ওই বৃদ্ধের বাড়ীতে অনুষ্ঠান করা হয়। পীর সাহেবও তাকে কবর খোড়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। আর মৃত্যুর কথা বেশী স্মরণ করার জন্য বলেছেন ,তাই জীবনের শেষ দিনগুলি তিনি কবরের পাশেই কাটাতে চান।

এ ব্যাপারে আলহাজ্ব হযরত মাওলানা কাজী মুফতি মঈন উদ্দিন আহমেদ জানান,এমন কর্মকান্ড হয়তো ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। কারন সে কখন,কোথায় এবং কিভাবে মারা যাবে সেটা একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। সে ক্ষেত্রে তার লাশ দাফন-কাফন ঐ অবস্থায় করা হবে। এছাড়াও ইসলাম ধর্মের অনুসারী-দের কবরের ভিতরের অংশের পাকাকরণের কাজ হতে বিরত থাকা উচিৎ।

ট্যাগ: banglanewspaper শ্রীপুর মৃত্যুর আগেই কবর