banglanewspaper

রাসেল আহমেদ, যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ আজ (৪ই জুলাই,২০১৮) দুপুর দুইটায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শেখ হাসিনা হল পর্যন্ত সকল বিভাগের প্রায় ছয়শত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিজলী খাতুনের হত্যার প্রতিবাদে মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন।

“বিজলী ২০১৪ সালে যবিপ্রবির শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞানবিভাগে ভর্তি হয় । ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করলেও সংসারের বোঝা নিয়ে বেশি দিন পড়াশোনা করার সুযোগ হয়নি তার। বিয়ের দুই মাস না পার হতেই তার স্বামী বাঘার পাড়া থানার যোহরপুর ইউনিয়নের সলুয়া গ্রামের নজরুল বিশ্বাসের ছেলে সেলিম বিশ্বাসকে মোটর সাইকেল দিতে হয় বিজলীর পরিবারকে।

এতেই শেষ নয় কিছুদিন পরপর শ্বশুর বাড়ির মানুষদের মনপুঁজ করতে দিতে হত বিভিন্ন আসবাবপত্র আর দিতে দেরি হলেই চলে অমানবিক নির্যাতন। বাবা কালীগঞ্জ থানার জামাদ ইউনিয়নের নাঠোপারা গ্রামের সাইফুল খানের সংসার ঠিকমত না চললেও জামাইয়ের মনতুষ্টি করতে কম করেননি তিনি।

তার পরও যেন সুখ সইলনা বিজলীর, এক বছরের সন্তানকে রেখে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে গেল পরপারে”। এমনটাই বললেন শোকে স্তব্দ বিজলীর ভাই যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক শাহিনুর রাহমান। তিনি বিজলীর জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং বিজলীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন।

শেখ হাসিনা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়রা আজমিরা এরিন বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন নারীর ক্ষমতায়ন বাস্তবায়ন করছেন ঠিক তখন, এই ২০১৮ সালে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী যৌতুকের কারনে মারা যাবে, এটা কখনই মেনে নেয়া যায় না, আমরা বিচার চাই, আমার বোন হত্যার বিচার চাই।’

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক শাহিনুর রাহমান (বিজলীর ভাই),  উপ-প্রচার সম্পাদক ইলিয়াস হাসান রকি, শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, শেখ হাসিনা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়রা আজমিরা এরিন, শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন ইছাদ ওমাহবুব হাসান।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন আসিফ আল মাহমুদ, নাজমুল হাসান পলাশ, আশিকী এলাহি, মারুফ হাসান, শুভ সহ সকল বিভাগের নেতা কর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত পহেলা জুলাই রবিবার রাত আটটার দিকে বিজলীকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ আব্দুর রশিদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিজলীর ভাই শাহিন ও তার সহপাঠীরা হাসপাতালে পোঁছালে লাশ মর্গে থাকলেও বিজলীর শ্বশুর বাড়ির আত্মীয় স্বজন কেঊ হাসপাতালে ছিল না।

বিজলীর শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়রা তার মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বললেও কর্তব্যরত চিকিৎসক গলায় দড়ি দিয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত করেন এবং পরে ময়নাতদন্ত করে হত্যা হয়েছে তা নিশ্চিত করেন।

ট্যাগ: banglanewspaper যৌতুকের কারণ শিক্ষার্থী