banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্হিবিভাগ ও জরুরী বিভাগে ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধি-দের (রিপ্রেজেন্টিটিভ) কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা দুর্ভোগ পড়ছে। রোগীরা আসার আগেই হাসপাতাল কম্পাউন্ডে উপস্থিত থাকে বিক্রয় প্রতিনিধিরা।

তাদের দৌরাত্মে ডাক্তারদেরও চিকিৎসা সেবা দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

যদিও বিক্রয় প্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম এবং সময় বেধে দেওয়া রয়েছে। সকালে ৯টার আগে ও দুপুর ১টার পর চিকিৎসকদের সাথে রিপ্রেজেন্টিটিভদের দেখা করার নিয়ম বেধেঁ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারা সে সব সময় নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলাটি শিল্প এলাকা হিসাবে পরিচিত। এখানে প্রায় ৬ লাখ লোকের বসবাস। এছাড়া শত শত শ্রমিক বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতিদিন এই হাসপাতালে কমপক্ষে ৫শ থেকে ১হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন। শিল্প এলাকা হওয়ায় রেগীর সংখ্যা মাঝে মাঝে হাজারো ছাড়িয়ে যায়।

স্বাস্থ্য কমপেক্সটি ৫০ শয্যায় বিশিষ্ট হলেও এর জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল এখনও যুক্ত করা হয়নি। একটি পূর্ণাঙ্গ ৫০শয্যা হাসপাতালে কমপক্ষে ২১জন চিকিৎসক থাকা প্রয়োজন অথচ এখানে আছে মাত্র ৬ জন। তাছাড়া বর্তমানে গাইনী বিভাগে ১জন ও সার্জারী বিভাগে ১জন কনসালটেন্ট দিয়ে চলছে সেবা কাজ। অপারেশনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এনেস্থেসিয়েস্ট পদটিও শূন্য রয়েছে।

এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৫টি পদের মধ্যে ৩টিই খালি রয়েছে। আয়ার ২টি পদ থাকলেও বর্তমানে আছেন ১জন। সারা দেশে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সর্বশেষ প্রায় ১০হাজার নার্স নিয়োগ করা হলেও এই হাসপাতালে পদ খালি থাকার পরেও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স ছাড়া সব কটিতেই ৫০ শয্যা পূর্নাঙ্গভাবে চালু আছে।

হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে আসা লোহাগাছ গ্রামের রোমা আক্তার বলেন, ‘এখানে রোগীর প্রচুর ভীড় হয়। সিরিয়ালে দাড়িয়ে থাকতে থাকতে অনেক সময় কেটে যায়। সকালে এসে ১২ পর্যন্ত অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায় না।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে হাসপাতাল বর্হিবিভাগে লম্বা লাইন। কিন্তু সকালে বর্হিবিভাগের চিকিৎসক ও রোগী আসার আগেই হাসপাতাল কম্পাউন্ডে বিভিন্ন ঔষধ রিপ্রেজেন্টিটিভদের ভীড়। পুরো কম্পাউন্ডের বিভিন্নস্থানে রিপ্রেজেন্টিটিভদের অংসখ্যা মোটরসাইকেল ছড়ানো ছিটানো লক্ষ্য করা যায়।

আর চিকিৎসকরা তাদের চেম্বারে বসার সাথে সাথে রিপ্রেজেন্টেটিভদের ভীর জমে। কিন্তু দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিয়ে আসা রোগীরা রিপ্রেজেন্টেটিভদের কারণে চিকিৎসকের জন্য আবারও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। তাদের কাছ শেষ হলে শুরু হয় রোগীদের চিকিৎসা সেবা। এরপর ডাক্তারদের রুম থেকে রোগীরা বের হলে আবারোও ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের দ্বারা শুরু হয় নানা দুর্ভোগ।

এদিকে রোগীরা চিকিৎসকের রুম থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে তাদের হাতে থাকা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র টেনে নিচ্ছে এবং ছবি তুলতে দেখা যায়। এদের কাছ থেকে কোন সিরিয়াস রোগীও রেহায় পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে অভিযোগের তীর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষের দিকেই। ভূক্তভোগী রোগী ও তাদের অভিভাবকদের দাবি ডাক্তারদের ব্যাক্তি স্বার্থে ওইসব বিক্রয় প্রতিনিধিদের জন্য কোন নিয়ম-নীতি করছে না। আর কোন নিয়ম-নীতি করলেও তারা তা মানছে না। তবে রিপ্রেজেন্টেটিভরা যে কোন নিয়ম-নীতি মানছে না সে ব্যাপারে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মইনুল হক জানান, ‘শিল্পাঞ্চল হওয়ায় হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এত বিশাল জনসংখ্যার একটি উপজেলার জন্য হাসপাতালে এখনও ৫০ শয্যা সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি রিপ্রেজেন্টেটিভদের সকালে ৯টার আগে ও দুপুর ১টার পর চিকিৎসকদের সাথে দেখা করার সুযোগ রয়েছে। এ নিয়ম না মানলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাজীপুর জেলার সিভিল সার্জন সৈয়দ মুঞ্জুরুল হক জানান, ‘বিষয়টি রোগীর সেবা প্রদানে প্রতিবন্ধক। এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ট্যাগ: Banglanewspaper শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধি