banglanewspaper

ইতিহাসের ধারাবাহিক সংস্করণে ‘বিচ্যুতি ও আচ্ছনতা’ ‘বাম’ সংগঠনের পুরনো অভ্যাস। ‘আহমদ ছফার’ ‘অলাত চক্রে’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারতে আশ্রিত আওয়ামী লীগ প্রতিনিধির কাছে প্রতিবেশী ভারতীয় ভূখণ্ডে হামলার জন্য বাংলার সীমান্ত অঞ্চলকে ব্যবহারে ‘বামের’ প্রস্তাব তারই প্রমাণ।

বৈদেশিক বিভ্রান্ত আচ্ছন্নতায় ‘হাতুড়ী-কাস্তে’ খচিত লোগো সর্বস্ব এই সংগঠনগুলো আজও সেই টানেল থেকে বেরোতে পারেনি। যার সাক্ষ্য ‘বঙ্গবন্ধুর’ ‘দর্শন এবং চিন্তা’ বিমুখ এই সংগঠনগুলোর ‘বৈদেশিক আদর্শ আশ্রয়’।

প্রবাদ-প্রবচন যেকোনো জাতি সত্ত্বার বোধের বহিঃপ্রকাশ। সে হিসেবে জীবনবোধ সৃষ্টিতে ‘আগে ঘর তবে তো পর’। অর্থাৎ, ঘরের যে জনক-জাতির পিতা সেই তাঁকে না বুঝে না মেনে তারা ছুটেছেন হাজার মাইল দূরের আদর্শকে ধারণে !

অথচ নির্বোধেরা বোঝে না যেকোনো তত্ত্ব বা দর্শন মূলত ঐ সমাজের প্রেক্ষাপট নির্মিত। সে হিসেবে এই ‘বঙ্গের’ একমাত্র তত্ত্ব বা দর্শন ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন’। কারণ গ্লাসের বহিরাবরণ আর যাই হোক মানসিক কিংবা জাগতিক তৃষ্ণা মেটাতে পারে না।

তবে শঙ্কার বিষয় হল, অজুহাত-ইস্যু ভিত্তিক জনবিচ্ছিন্ন এই বিষফোঁড়াগুলো কখনই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না করা। আর এ কারণে এদের অবস্থা ‘সালাদের’ মত। এরা ভাত-পোলাও-খিচুড়ি সবটার সাথেই যায়।

সম্প্রতি ‘কোটা সংক্রান্ত’ বিষয়ে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা’ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে পড়ার টেবিলে ফেরত যাওয়া শিক্ষার্থীদের বিএনপি-জামায়াত-শিবির-ছাত্রী সংস্থার নেতৃত্বে সমর্থন এবং সহযোগিতা অন্তত সেটারই বহিঃপ্রকাশ।

তাত্ত্বিক ‘ফ্রাঞ্জ ফানোর’ ‘জগতের ভাগ্যহত লাঞ্ছিত’ গ্রন্থে ‘স্বতঃস্ফূর্ততার চোরা ফাঁদ’ অংশে উল্লেখিত ‘শুধু অংশগ্রহণে সফলতা নয় বরং সেখানে চাই যথার্থ সময় এবং সিদ্ধান্তের প্রয়োজন’। সে হিসেবে বাঙ্গালী প্রজন্ম সঠিক সিদ্ধান্তে টেবিলে ফিরে গেছেন।

যদিও বামাতি-জামাতিরা এখনও কিছু ছাত্রী সংস্থার কর্মীকে ঢাল হিসেবে তারুণ্যের সরল আবেগকে বিভ্রান্তের টানেলে নিতে চাচ্ছে। আর পেছনে রয়েছে স্পষ্ট পক্ষপাত এবং ভিশনারি পরিকল্পনা !

পক্ষপাত, হুমায়ূন আজাদ পঠিত বোধে চিন্তা বা দর্শন অর্জনে মানুষ কোন না কোন অংশে পাল টানে। কাজেই তারা যে এখন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে চলমান রাষ্ট্রযন্ত্রের বিপক্ষ হাল ধরেছেন সেটা আজ স্পষ্ট।

আর ভিশনারি প্রসঙ্গে, শিবির একজন শিক্ষার্থীকে ৩, ৩০ এবং ১০০ বই-গল্প-নিবন্ধ-প্রবন্ধ পড়ানোর মাধ্যমে যথাক্রমে সাথী, কর্মী এবং সদস্য হিসেবে রিক্রুট করে। আত্মবোধ মতে, বই মানুষের চিন্তাকে শাণিত এবং গতিশীল করে।

কাজেই এটা স্বাভাবিক যে আদর্শিক ছদ্দবেশে এত এত গাল গল্প শুনে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারেন। আর তাছাড়া তারা এই প্রক্রিয়াটি চালায় স্কুল-কলেজ মাধ্যমে। যখন সরল মন বোঝে না বুঝতে চায়।

আর এই ভিশনারি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তাদের কোন অর্থ সংকটও পরতে হয় না। কারণ তাদের নিজেদের উপার্জিত অর্থের বিনিয়োগ এখানটায়ই !
তবে এরপরও প্রশ্ন উঠতে পারে এবং উঠে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগেরও’ তো অগণিত নেতা-কর্মী ?

জীবনের বাঁক বদলে একজন ছাত্রলীগ কর্মীর কর্মস্থল যখন ঐ শয়তানী প্রতিষ্ঠানগুলোতে হয় তখন পরিবারের কথা ভেবে হলেও তাদের কিন্তু চুপ থাকতে হয়। তাই এর সমাধান প্রসঙ্গে ভাবনাটাও জরুরী।

অন্যদিকে তাত্ত্বিক ‘গ্রামসি’ কৃত দুই শ্রেণী, প্রান্তিক বুদ্ধিজীবী যারা নিজেরাই উৎপাদন ব্যবস্থায় খেটে ক্ষুন্নিবৃত্তি করেন এমন শ্রেণী এখন প্রায় নির্বাসিত। চারিদিকে এখন প্রলোভন প্যাকেজের পোষাপালিত বুদ্ধিজীবী।

যার দৃষ্টান্ত জাতি রাষ্ট্রের সংকট সম্ভাবনাময়তায় প্রাসঙ্গিক এবং গ্রহণযোগ্য দিক নির্দেশনা দিতে না পারার অক্ষমতা।
এর পক্ষে যুক্তি,  নিত্য নতুন দাবি আদায়ের ফাঁকে ছদ্মবেশী একাত্তরের পরাজিত শক্তির মহড়া এবং উদিত হবার পায়তারাকে বুঝতে না পারা। আদতে কোটা সংস্কারের ছদ্দবেশে মূলত চলছে আদর্শিক লড়াই।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দর্শিত জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন এবং চিন্তাকে মুছে ফেলার চক্রান্ত। এককথায় এ লড়াই সত্যিকারে আদর্শের বিপক্ষে আদর্শ এবং চিন্তার বিপক্ষে চিন্তার।

বাঙ্গালী জাতির অর্জনে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের’ অর্জন-বিসর্জন, ঐতিহ্য এবং সংগ্রাম কম নয়। তবে সেটা তখনই পূর্ণ যথার্থ হয়ে উঠবে যখন ‘ছাত্রলীগ’ দেশ এবং নিজের ইতিহাস এবং বর্তমান উন্নয়নকে সকল বয়সী মানুষের উপযোগী করে তুলতে পারবে।

আর এটা ছাত্রলীগ পারবে। কারণ রক্তের পরও রক্ত বিছিয়ে প্রতিরোধের প্রেম-দ্রোহ-স্পর্ধার অধিকারী সর্বকনিষ্ঠ অথচ সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতার অধিকারী তো তাঁরাই।

 

হায়দার মোহাম্মদ জিতু
সাংগঠনিক সম্পাদক,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: bdnewshour24 ছাত্রলীগ