banglanewspaper

অরুন সরকার: অরুন সরকার,ফাইল ছবি।হামলা-মামলার রাজনীতির গন্ডির ভেতরে থেকে ঘরে ঘরে আদায় করা হচ্ছে ট্যাক্স ।  অথচ দেশে বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে অনেক প্রবীণ নবীন লেখক ও সাংবাদিকেরা রয়েছেন কিন্তু রহস্যজনক কারনে তারা নীরব বললেই চলে । লেখা বা বুঝার ভাষা আজ অনেকেই হারিয়ে ফেলেছেন শুধুমাত্র হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয়ে । তাই বলে কি” কলম থেমে থাকতে পারে । দেখা যাক এবার দেশের অন্যতম কিছু কিছু অনাকাংকিত ন্যাক্কারজনক ঘটনার হাল-হকিকত ।

প্রথমেই বলতে হয় কোঠা সংস্কার ছাত্র আন্দোলন নিয়ে । কারন সত্য পথে কোঠা সংস্কার আন্দোলন করতে গিয়ে এখন অনেক ছাত্র পঙ্গু হতে চলেছেন আবার কেউ কেউ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন । কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই “যে বা যারা ন্যায়ের কন্ঠকে রোধ করতে গিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে কোঠা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলে পরেছিলো তারা আজ অধরা ।” যদিও মুছে যায়নি সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত কিছু কিছু ভিডিও-ছবি । ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার চিত্র স্বাক্ষি হয়ে রয়েছে সমগ্র বিশ্বে । এতে যে ছাত্রলীগনামধারি কলংকিত ছাত্ররা জড়িত রয়েছে তা আজ বুঝতে কোন লোকের নিকট অভাব রইলনা । কি চমৎকার আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল ! নিজেরাই কথা দেয় আবার নেজিরাই কথার খেলাপ করে । লোক লজ্জা ভয় কিছুই তাদের নেই বললে চলে, আছে শুধু একনায়তন্ত্রের রাজ্য চালানোর হিমাঘর। দেশে-বিদেশে কোঠা সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের বিষয়টি এখন সমালোচিত । কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ওই হামলাকারী দুর্বৃত্তদের শেল্টারদাতা হয়ে প্রাচীর নির্মান করে রেখেছে । ‘সহযোগীতায় সরকার, যোগান দিচ্ছে পুলিশ আর হামলা চালাচ্ছে দুর্বৃত্তরা ?’ এই তিনটি থিম ব্যবহার করছে একনায়তন্ত্র অপচেষ্টাকারীরা । গণতন্ত্রের ভাষা চিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা আজ সরকার সরাসরি জড়িত হচ্ছে । মানুষের প্রতিবাদের ভাষাকে রোধ করতে তারা নিজের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে । এ কোন রাজনীতি !

এদিকে দেখা যায়, একটি অঙ্গরাজ্যের মতো গ্রাম-গঞ্জ, শহড়-নগর পর্য্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে গরীব-ধনীর বিশ্লেষন না করে প্রতিটি ঘর থেকে আদায় করা হচ্ছে সরকারের নামে ট্যক্স । যা পুরনো শাসনামলের পুর্বের রাজ্যের রাজার আমলকেও হার মানাচ্ছে । গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষের অধিকার হরন করে ধীরে ধীরে চিনিয়ে নেয়া হচ্ছে তাদের মৌলিক অধিকার । যদিও ওয়ান ইলিভেনের শাসনামল ছিল যেমন তেমন ঠিক তেমনি আজ স্বাধীন রাষ্ট্রের হাল-হকিকত বেসামাল । গোঠা জাতী এহেন কার্যকলাপে হতভম্ভ ! জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তৎকালীন সময়ে এরকম কোনকিছু জনস্বার্থে করে যেতে পারেননি । তার চিন্তা চেতনা ছিল সূদুর। সবসময় তিনি দেশ ও দশের জনগণের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে গেছেন সর্বদা । সেই স্থলে তার মানস কণ্যা দেশ নেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মঙ্গলে কাজ করে গেলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের আশাকুন্ঠায় আদৌ পৌছাতে পারেননি । তবে যে তার আর্দশ ও নীতি বড়ই কঠিন । হয়তবা এই কুঠিনাটি বিষয়গুলো তিনি আজও খতিয়ে দেখছেননা বা তার নিকট সেই সংবাদগুলো যথাযথ পৌছেনি । তবে সারাদেশে এনিয়ে যে একটি গুজব ছড়িয়েছে জনমনে তা বলার ওপেক্ষা রাখেনা । যেকোন সময় বিষয়টি জনমনে বিস্ফোরীত হওয়ার আশংকা রয়েছে । এতে আওয়ামী লীগ সরকার সামনের নির্বাচনে এর খেশারত দিতে হবেনা তাও বলা যাচ্ছেনা । যেহেতু ভোটের মালিক এদেশের জনগণ । তাই বিরোধিদলও যে এসূযোগকে কাজে লাগাবেনা সেটাও বলা অসম্ভব ।

“হামলা-মামলা বর্তমান সময়ের জন্য একটি নেশা-পেশায় পরিণত হয়েছে । কখনও আইসিটি আইনে আবার কখনও বিরোধ ঠেকাতে । দ্বিধা-দ্বন্ধ,প্রতিহিংসা ঘিরে রেখেছে রাজনীতির অঙ্গনকে । রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট হলে যেমন কাউকে তখন দোষারোপ করার থাকেনা ঠিক তেমনি কারো ভুলের মাশুল অন্য কেউ নিতে চাইবেওনা । আর সারাজীবণ কেউ রাজনীতির অধিকার ধরে রাখতেও পারবেনা । কারন দেশের জনগণ কোন সময় কোনদিকে মোর নিবে তা বলা খুবই কঠিন । তাছাড়া প্রতিটি সেক্ঠরে রয়েছে বিভাজন-ভাঙ্গন । তাই সময় থাকতে হাল না ধরলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতেই পারে । হাতে গুণতে হবে সময়, পরিচয় দিতে হবে বুদ্ধিমত্তার-জয় করতে হবে জনগণের মন,নিশ্চিত করতে হবে প্রতিবাদের ভাষাকে। খবর নিতে হবে এর পেছনে মদদদাতা কে বা কারা ইন্ধন যোগাচ্ছেন । তারা দলের বাইরের লোক না ভেতরের।”

“এই সমাজে যে বা যারা উচ্চ শিখরে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা সকলেই কমবেশি শিক্ষালাভ করেছেন । কিন্তু সেই শিক্ষারমানকেও গুরুত্ব দিতে হবে । কারন আপনে আমি মনে রাখতে হবে কোন না কোন শিক্ষক আমাদের পাঠদান করিয়েছেন । যারা আমাদের পিতৃতুল্য । অথচ আজ সেই শিক্ষকরাা (বিদ্যালয়) এমপিওভূক্ত দাবীতে ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে আমরন অনশনে যোগদিয়েছেন । অনেকে দাবী আদায় করতে গিয়ে এখন নানান রোগে আসক্ত হয়ে মৃত্যুসজ্জায় । তাদের অপরাধ কি ? ‘আমরন অনশনে যাবার ঘোষণা কি সরকারের নজর কাড়ছেনা । যেখানে নীতি আর্দশবান একজন দেশ নেত্রী শেখ হাসিনার মত নারী শক্তি রয়েছেন সেখানে কেন এতো গলদ ! বিষয়টি আজ সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে চাউড় করা হচ্ছে এতে যে, সরকারপক্ষ বির্তকিত হচ্ছেনা তা বলার ওপেক্ষা রাখছেনা । না তাদেরকেও শেষ পর্য্যন্ত সইতে হবে জেল জুলুম নির্যাতন,কোনটি ? জাতী আজ হতবাক । প্রতিবাদ করছে শিক্ষকরা আর সংবাদ প্রকাশ করছে মিডিয়া । এর শেষ কোথায় ?’সামনে আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন । সেই নির্বাচনে ক্ষুদ্র পরিসর গোষ্ঠিওযে এক হয়ে মরন কামড় দিবেনা তার নিশ্চয়তা কি ? তাই সবার উর্ধ্বে থেকে জাতীর স্বার্থে অন্যায়কে বিতাড়িত করে সকল সমস্যার সমাধান করা বুদ্ধিমানের কাজ । সেখানে শিক্ষক/ছাত্র ও ট্যক্স নিয়ে রাজনীতি কেন ?” 

লেখক: সাংবাদিক

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: banglanewspaper শিক্ষক