banglanewspaper

এস. এম. আশরাফুল হক রুবেল, কুড়িগ্রাম: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টির পানিতে কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ২৮ সেন্টিামিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

ফলে কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীর অববাহিকার চরাঞ্চলের প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার ঘর-বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে পটল, ঢেড়স, মরিচসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত। এসব এলাকার কাঁচা সড়ক তলিয়ে থাকায় ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

অন্যদিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উপর দিয়ে হিমালয় থেকে নেমে আসা দুধকুমর নদে পাহাড়ী ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ৬ টি ইউনিয়নের ২৫ টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর নলেয়া,বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের চর বলদিয়া,মাহিগঞ্জ চান্দনীয়া,ফকিরপাড়া,আসাম পাড়া,গনাইরকুটি,পাইকেরছড়া ইউনিয়নের চর পাইকেরছড়া,পাইকডাঙ্গা,ছিট পাইকেরছড়া,শিলখুড়ি ইউনিয়নের শালঝোড়,দক্ষিণ তিলাই ,চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর, বলদিয়া ইউনিয়নের চর সতিপুরী, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের হেলডাঙ্গা,চর বারুইটারী গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস,এইচ,এম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী জানান, উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে র প্রায় ২৫ টি গ্রামে বন্যায় পানি উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাসহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বঙ্গসোনাহাট ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ শাহজাহান আলী মোল্লাহ জানান,ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সর্বাপেক্ষা বন্যায় তার ইউনিয়নে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতবারের বন্যায় ক্ষতির ঝুকির রেশ না কাটতেই এবারের বন্যায় তার ইউনিয়নে যাতায়াতের রাস্তাঘাট নষ্ট এবং নতুন করে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। অনতি বিলম্বে বন্যার্তদের জরুরী ত্রান সাহায্য এবং নদীর বাঁধ নির্মাণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানান।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ৪৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রাবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানিও।
 

ট্যাগ: banglanewspaper কুড়িগ্রাম