banglanewspaper

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকারের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকের দ্বারা সৃষ্ট মানসিক চাপের কারণে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন ওই ছাত্রী বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থী ও একজন তার একজন সহপাঠি।

বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, দুই ছাত্রী উল্লিখিত শিক্ষকের ১২৩ ও ১২৫ নম্বর কোর্সে ফেল করেন। পরে সম্পূরক পরিক্ষা দিয়ে পাস করেছেন তাঁরা। সর্বশেষ গত ১ জুলাই তৃতীয় সেমিস্টারের ভাইভা (সাক্ষাৎকার) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ওই শিক্ষক মানসিকভাবে হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। এরপর থেকে মেয়েটি ভেঙে পড়েন এবং অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। ওই শিক্ষক বেশ কিছুদিন থেকে নানা ভাবে তাকে ফোন করে ও এসএমএসে হুমকি ও হেনস্তা করেছেন বলে তিনি সহপাঠীদের জানান। 

সহপাঠীরা জানান, ভাইভার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁকে হলে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তাঁকে তাঁর আবাসিক হলের একটি কক্ষ থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপরও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় তাঁর পরিবারকে জানানো হয়।

এদিকে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ভাই এসে মেয়েটিকে হল থেকে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ভাই বলেন, ‘আমার বোন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের স্ট্যান্ডধারী ছাত্রী। সে বড় ধরনের কোনো কারণ ছাড়া মানসিক ভারসাম্য হারানোর কথা নয়।”

এদিকে মানসিক চাপ ও হুমকিধমকির বিষয়টি অস্বীকার করে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার বলেন, ‘আমি তাকে কোনো হুমকিধমকি দিইনি। আর কোর্সে ফেল করানোর বিষয়টিও মিথ্যা। কারণ, পরীক্ষায় দ্বিতীয় পরীক্ষক থাকেন। আমি তাকে একা ফেল করাতে পারি না। আর ভাইভা বোর্ডে তার অসংলগ্ন আচরণ ধরা পড়ে। ভাইভা বোর্ডে এক্সটারনাল সহ অনেকেই তার আচরণের অসংলগ্নতা দেখেছেন।

আমি যদি তার ফলাফলে কোন প্রভাবিত করে থাকি তাহলে বিভাগীয় পরীক্ষা কমিটি আছে সেখানে অভিযোগ করতে পারতো তা না করে যেখানে সেখানে আজে বাজে মন্তব্য করার পেছনে অবশ্যই কোন উদ্দেশ্য আছে, কিংবা সে  অন্য কোন কারণে মানসিক ভারসম্য হারিয়ে ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর মেয়েটিকে বিশ্ববিদ্যলয় চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়, পরে পরিবারের লোকজন  আসলে তাকে বাড়ি নিয়ে যায়।তার মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে শিক্ষার্থী হেনস্তাকারী যেই হোক দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকরী বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হবে নারীদের অভয়ারণ্য। এখানে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স জারি আছে। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে মেয়েটির সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি কিছু বলতে চা্ননি। এ সময় তাকে অসংলগ্ন আচরণ করতে দেখা যায়।

বিভাগের একাধিক শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ছাত্রীর কয়েকদিন ধরে অসংলগ্ন আচরণ করার কথা স্বীকার করেন, তবে আসলে কি কারনে এমন হয়েছে সেটা কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারেন নি।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যলয় জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে সঠিক ঘটনা উম্মোচন করার দাবী জানানো হয়েছে।

ট্যাগ: Banglanewspaper ইবি ছাত্রী হেনস্তা