banglanewspaper

তাত্ত্বিক ‘ফারদিনান্দ দ্যা সসুর’ অবদানকৃত ‘চিহ্নতত্ত্বের’ (অর্থ উৎপাদন) দুই উপাদান ‘দ্যোতক’ দ্বারা কোনো কিছুর নাম এবং ‘দ্যোতিত’ দ্বারা তার অর্থকে নির্দেশ করেন। সে হিসেবে 'শেখ হাসিনা' নামটি ‘দ্যোতক এবং তার দ্যোতিত’ রূপ ‘গণমানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন’।

যদিও জাগতিক নিয়মানুযায়ী শেখ হাসিনার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ সহজ নয়। কারণ দেশে উত্থিত ভয়াবহ মাদক সমস্যা !

পত্র-পত্রিকার হিসেব মতে, শুধু ধূমপানকে বাদ দিয়েই দেশে ইয়াবা, ফেনসিডিল এবং হেরোইনের মত ভয়াবহ মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ !

বিষয়টি আতঙ্কের। কারণ যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত উন্নয়ন রচনা করছে। সেখানে তাঁর প্রাণ ভোমরা খ্যাত 'তরুণ-যুবা সম্প্রদায়কে' 'আসক্তের উঠোনে' ঠেলে দেয়ার এই বিস্তর আয়োজন ! এর নেপথ্য রহস্য আসলে কি ?

একেবারে খোলাসা করে বললে, এটা স্পষ্টতর 'জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারকে' কাউন্টার দেয়ার একটা ফন্দি-ফিকির। কারণ সকল অপশক্তিই জানে বাংলার ‘তরুণ-যুবা’ সম্প্রদায়ের পূর্ণ ভরসা এখন 'শেখ হাসিনায়' এবং তিনি তার প্রমাণও দিয়েছেন।

বিসিএস, ব্যাংকসহ সকল মর্যাদাপূর্ণ ‘সরকারি’ কর্মক্ষেত্র এখন যোগ্যতার ভিত্তিতে অর্জন করা সম্ভব। বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনের মত কোথাও কোন স্বেচ্ছাচার এবং অনিশ্চয়তায় সুযোগ নেই। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগকে আরো উৎসাহ এবং উদ্দীপনা দিতেও নিয়েছেন নানান উদ্যোগ। ফলে হতাশ হবার কোন সুযোগই নেই।

শুধু তাই নয় অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান মতে, বর্তমানের মত এরকম 'সঠিক নেতৃত্বে' চললে আগামী পাঁচ বছরে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার হবে দ্বিগুণ’। নেতৃত্বের সেই ধারাবাহিকতায় গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী 'শেখ হাসিনার' বর্তমান উদ্যোগ 'মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা'।

বিশ্ব মানচিত্রের প্রায় সব রাষ্ট্রের মত বাংলাদেশেও এখন এই সমস্যা উঁকি দিতে শুরু করেছে। আর তাই 'টেকসই উন্নয়ন এবং ভিশন' বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব রাষ্ট্রের মত একে নির্মূলে অভিযান পরিচালনা করছে।

যদিও সরকারের এই উদ্যোগকে টেকনিক্যালি বা বলা যায় প্রায় খোলাখুলি বিএনপি-জামায়াত 'বিরোধীতা' করেছে। কারণটা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান।

জিয়াই প্রথম এই পবিত্র বাংলার মাটিতে 'হাউজি খেলা, নেশার বিস্তরণ এবং লাকি খানের মত উদ্দাম নৃত্য শুরু করান। নৈতিকতাহীন কালো চশমা পরিহিত হোন্ডা-গুন্ডার আসক্ত শ্রেণী দিয়ে 'যুদ্ধাপরাধীদের সেফ প্যাসেজ' তৈরির পথ নির্মাণ করেন।

যার প্রমাণ মাদকের বিরুদ্ধে চলমাল যুদ্ধে 'বিএনপির রিজভীর' বক্তব্য, এই যুদ্ধে নাকি বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকেই টার্গেট করে মারা হচ্ছে !

তার উদ্ধৃত বক্তব্যে একটা সাধারণ প্রশ্ন জাগে। তাহলে কি সব বিএনপির লোকজনই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নাকি এটা তাদের প্রতিষ্ঠাতা ‘জিয়াউর রহমানের’ যুব সমাজ ধ্বংস চেষ্টার ধারাবাহিক কর্মসূচী ?

এরকম হাজারো দূর পাল্লার বাঁধাকে উপেক্ষা করে 'বেহুলার ভাসান যাত্রার' মত সকল 'একক যুদ্ধে একক গুণেই' জিততে হবে 'দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে'। কারণ এই এক কোটি মাদকসক্তকে ফেরাতে না পারলে এদের আগামী প্রজন্মও হবে আশঙ্কাজনক।

তবে এই সকল যুদ্ধ পরিচালনার পূর্বে আগে নিশ্চিত করতে হবে 'শেখ হাসিনা এবং তাঁর পারিবারিক’ নিরাপত্তাকে। কারণ ‘এই যুদ্ধ এবং তার পরবর্তী যুদ্ধ দুর্নীতির’ বিলাসবহুল গলিতে ‘শয়তান এবং ছদ্দবেশী ফেরেশতা’ একই গলিতে গলাগলি খায়।

 

হায়দার মোহাম্মদ জিতু
সাংগঠনিক সম্পাদক,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: banglanewspaper বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শেখ হাসিনা