banglanewspaper

কাজী আশরাফ, লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধিঃ আলোকিত মানুষ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে যে প্রতিষ্ঠানটি আজ থেকে দুই যুগ আগে শিক্ষাপ্রেমী নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত সাবেক চেয়ারম্যান শিকদার মাহবুবুর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত “নবগঙ্গা মহাবিদ্যালয়” নামে যাত্রা শুরু করেছিল সেই প্রতিষ্ঠানটি আজকের “নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজ”।

শুরুতে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক ও ১২ জন কর্মচারী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী। প্রতিষ্ঠানে এখন প্রায় ১ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী, ৪২ জন শিক্ষক ও ১২ জন কর্মচারী রয়েছেন।

সাড়ে ৪ একর জমির উপর নির্মিত মহাবিদ্যালয়ে সমৃদ্ধ পাঠাগারের পাশাপাশি রয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে খেলার মাঠ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান নড়াইলে বেশকিছু জনহিতকর কাজ করেছিলেন। তারই অংশ হিসেবে এ অঞ্চলে ছেলে-মেয়েদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে উদ্যোগ নেন তিনি। ১৯৯৪ সালে তিনি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী আহসান মঞ্জুর এলাহী, কাজী ইবনে হাসান, সরদার নুরুল ইসলাম, সৈয়দ জাফর আলী, বিএম হেমায়েত হোসেন, আব্দুল আজিজ মোল্যা, রুহল আমিন মৃধা, নেওয়াজ আহম্মেদ ঠাকুর, সৈয়দ জহিরুল ইসলাম, মোল্যা মনিরুজ্জামান, আবুল কাশেম খান, শেখ দবির হোসেন, শেখ নায়েবুল ইসলাম, মো. আত্তাব উদ্দিন বিশ্বাস, আব্দুল মালেক মোল্যা, আব্দুল আলিম চান মিয়া, লুৎফর রহমান বিশ্বাসসহ বেশ কিছু শিক্ষিত ব্যাক্তিদের সহযোগিতা নিয়ে গড়ে তোলেন নবগঙ্গা মাহবিদ্যালয় যা বর্তমানে নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজ নামে আত্মপ্রকাশ করেছে।

এই প্রতিষ্ঠানটি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার  দক্ষিন দিকে দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থিত। শুরুতে কলেজটিতে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন খন্দকার মোঃ আতিউর রহমান।

শিক্ষকদের একনিষ্ঠ পাঠদান ও তত্যাবধায়নে ইতিমধ্যে জেলার গন্ডি ছাড়িয়ে দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে “নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজ”। ২০১০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক শাখায় দেশের মধ্যে প্রথাম স্থান অধিকার করে এই মহাবিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী মোঃ নুরুল ইসলাম।

এই প্রতিষ্ঠানের অন্য ছাত্র বর্তমানে এডিশনাল জজ হিসেবে কর্মরত আছেন। অলোকেশ কুমার ঘোষ তিনিও এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগি অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মো. তাজুল ইসলাম ২০০১ সালে এইচএসসি পাশ করেন। তিনি বর্তমানে এমবিবিএস পাশ করে চিকিৎসা সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাহিত্যে এই মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজের অবস্থান করেছে সুদৃঢ়। মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কোলাহল মুক্ত এ মহাবিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক আমাদেরকে আন্তরিকতার সাথে পাঠ দান করে থাকেন। এখানে লেখাপড়া করতে আমাদের খুবই ভালো লাগে।

ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক আব্দুল আলীম শেখ জানান, ‘মফস্বল এলাকায় অবস্থিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অত্যান্ত সুনামের সহিত শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ ভাবে দেখভাল ও অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয় সাধণ করে প্রতিষ্ঠানের ফলাফলকে আরও সম্মানজনক স্থানে নিতে আমাদের চেষ্টার ত্র“টি নেই। ইতিমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের অবস্থান করে নিয়েছে।’

বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশারফ হোসেন মোল্যা বলেন, ‘অত্র মহাবিদ্যালয়টিতে কোলাহল মুক্ত শান্ত পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শিক্ষকবৃন্দ অত্যান্ত দায়িত্ববান। তাঁরা আন্তরিকতার সাথে শ্রেনীকক্ষে পাঠদান করে থাকেন। আগামীতে শিক্ষার মান আরও উন্নত করার লক্ষে গভর্নিং বিডির সহায়তায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে কাজ করছি। ইতিপূর্বে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো রেজাল্ট করে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন দপ্তরে যেমন দক্ষতার সাথে কাজ করছে। সকলের সহযোগিতা পেলে আগামীতে এই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও আলোকিত মানুষ তৈরি হবে।’

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বহু প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী মাহাবিদ্যালয়টি বিগত কয়েক বছর ধরে ভালো রেজাল্ট করে আসছে। ধাপে ধাপে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নীতি নৈতিকতায়, মেধায় তালিকায় এমনকি খেলা ধুলায়ও জেলার গন্ডি পেরিয়ে দেশের মধ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে।’

ট্যাগ: Banglanewspaper লোহাগড়া নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজ