banglanewspaper

ইবি প্রতিনিধি: শিক্ষকেরা হলেন মানুষ গড়ার কারগর। শিক্ষকের চরিত্রই শিক্ষার্থীদের কাছে আদর্শ। কিন্তু কতিপয় শিক্ষক নামের আদর্শহীন মানুষের জন্য শিক্ষকতা পেশা কলঙ্কিত হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে যৌন  হয়রানি একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁডিয়েছে। শিক্ষকদের হাতে একছত্র ক্ষমতা থাকার কারণে তাদের সহজ টার্গেটে পরিনত হয় অসহায় ছাত্রীরা।ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির ঘটনা নতুন নয়। তবে একই বিভাগের মাত্র ৫জন শিক্ষকের মধ্যে তিনজনের বিরূদ্ধেই গুরুতর যৌন হয়রানির অভিযোগ ভাবিয়ে তোলে।

ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের তিনজন শিক্ষকের বিরূদ্ধে সরাসরি ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও বিভিন্ন কু প্রস্তাব ও নিপীড়নের একের পর এক অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব ঘটনার মধ্যে বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আসাদুজ্জামান কে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়। তবুও থেমে থাকেনি বিভাগের বাঁকি শিক্ষকদের অপকর্ম।

কিছুদিন আগে বিভাগের আরেকজন শিক্ষক মোঃ আব্দুল হালিমের ঝিনাইদহের ভাড়া বাসার আলমারী থেকে একই বিভাগের ছাত্রীকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।সে ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

সর্বশেষ যুক্ত হয় ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক সঞ্জয় কুমারের নাম। ছাত্রীকে ফেল করানো, কু-প্রস্তাব ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরূদ্ধে।হুমকি ও নিপীড়নে সেই ছাত্রী মানসিক ভারসম্য হারিয়ে ফেললে সোচ্চার হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তারা সেখান থেকে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। অন্যথায় কঠোর আন্দলনের হুশিয়ারি দেন।

ছাত্রী হয়রানির  সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সচেতন মহল, ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরজ করছে।ফিন্যান্স বিভাগের একাধীক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে অধিকংশের আচরণ ইঙ্গিতপূর্ণ, প্রতিবাদ করলে ইনকোর্স, ভাইভা ও কোর্স পরীক্ষায় ফেল করানোর হুমকি দেওয়া হয়। এজন্য অনেকেই প্রতিবাদ করার সাহস পায়না, আবার অনেকেই  জড়িয়ে পড়ে তাদের ফাঁদে।”

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন হলের আবাসিক ছাত্রীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের হয়রানির শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আবাসিক ছাত্রী বিডিনিউজ আওয়ার২৪'কে বলেন, হলের দায়িত্বরত প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষক বৃন্দ পুরুষ হওয়ায় তারা তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেনা।তাছাড়া এসব হলে দায়িত্বরত অনেকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর সাথে ঘনিষ্টতার গুঞ্জন রয়েছে। তাই তিনি ছাত্রী হলে নারী শিক্ষকের মধ্য হতে প্রভোস্ট নিয়োগের দাবী জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে জড়িত ও বাংলা বিভাগের একজন নারী সহকারি অধ্যাপক বিডিনিউজ আওয়ার২৪'কে বলেন, মেয়েদের হলে ও প্রতিটি বিভাগে নির্দিষ্ট অনুপাতে পুরুষ ও নারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া দরকার। তাছাড়া ছাত্রী হলে অবশ্যই নারী শিক্ষকের মধ্য থেকে প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষক দিতে পারলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। তাছাড়া তিনি এসব সমস্যা থেকে উত্তরনে ছাত্রীদের মানসিক সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে সাইকোলজিস্ট নিয়োগের দাবী জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রেজুয়ানুল ইসলাম বিডিনিউজ আওয়ার২৪'কে বলেন, “ ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ও ছাত্রী সমান সুযোগ পাক।এবং কোন ছাত্রী যেন হেনস্তার শিকার না হয় তার জন্য তিনি সকল প্রকারের ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেন। তিনি প্রত্যেক ছাত্রী হলে সাইকোলজিস্ট দিয়ে কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করার ব্যাপারে আশু পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান।

ট্যাগ: banglanewspaper ইবি