banglanewspaper

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লাললমনিরহাট: ছোট ভাইয়ের দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে, তাই ভাইকে বাঁচাতে বোনের একটি কিডনি দিবেন। ভারতে চিকিৎসা করাতে খরচ হবে প্রায় ৮/৯ লাখ টাকা। সেই টাকা তো বোনের কাছে নেই। এমনকি পরিবারের সব কিছু বিক্রী করেও এত টাকা হবে না। যা কোনোভাবেই জোগাড় করার সামর্থ্য নেই হতদরিদ্র পরিবারটির। ফলে ভাইকে কিডনি দিয়ে বাঁচাতে চেয়েও চিকিৎসার টাকার অভাবে ছোট ভাইকে বাচাঁতে পারবে কিনা জানেন না বোন। বড় বোন আয়শা আক্তারের আকুতি কিডনি আমি দিবো, কিন্তু চিকিৎসার টাকা কে দিবেন? আমার ভাইটিকে বাঁচান, কেউ সহযোগিতা করুন। আপনাদের সামন্য সহযোগতিায় আমার ভাইটি বেঁচে যাবেন। অল্প বয়েসে সে দুনিয়া থেকে চলে যাবে এটা কোনভাবেই মানতে পারছি না। টাকা হলেই আমার ভাইটি বেঁচে যাবে বলে আয়শা আক্তারের আকুলতা।  

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের কলেজছাত্র মোজাহারুল ইসলামের (১৯) দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন দ্রুতসময়ে তার অন্তত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। তা না হলে তাকে বাঁচানো যাবে না। মোজাহারুলের বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার শ্রুতিধর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মমেদ আলীর ছেলে। সে কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক ডিগ্রী কলেজের ছাত্র।

মোজাহারুলের পরিবার জানায়, কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক ডিগ্রী কলেজ থেকে চলতি বছর অনুষ্ঠিত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মোজাহারুল ইসলাম। পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। প্রথমে তার পরিবার ভেবেছিল চিকিৎসা করালে সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান, মোজাহারুলের দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। মোজাহারুলের স্বপ্ন ছিল, পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন হয়তো পূরণ হবে না। বর্তমানে মোজাহারুল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

মোজাহারুলের প্রতিবেশী ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোজাহারুলের বাবা কৃষক। অল্প একটু জমি আছে। সেই জমিতে চাষাবাদ করে কোনোমতে সংসার চলে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম মোজাহারুল। সন্তানের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে জানার পর মা-বাবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে মোজাহারুলকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে আছে পরিবারের সদস্যরা। ধার-দেনা ও অন্যের সহযোগিতা নিয়ে মোজাহারুলকে রংপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে গত মে মাসে ছেলেকে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপালো হাসপাতালে নিয়ে যায়।

চেন্নাইয়ের চিকিৎসকরা পরিবারকে জানিয়েছেন, মোজাহারুলকে বাঁচাতে কমপক্ষে জরুরি ভিত্তিতে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। আর কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজন ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা। যদি কিডনি কিনতে হয় সেক্ষেত্রে দ্বিগুণ টাকা লাগবে। এ অবস্থায় একটি কিডনি দিয়ে ভাইকে বাঁচাতে চান বড় বোন আয়শা আক্তার। এখন কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য ৮ লাখ টাকা সহযোগিতা পেলেই বেঁচে যাবেন কলেজ ছাত্র মোজাহারুল।

এ নিয়ে মোজাহারুলের বড় বোন আয়শা খাতুন বলেন, ছোট ভাইয়ের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। কিডনি কেনে তা প্রতিস্থাপন করে তাকে বাঁচানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। আমরা গরিব মানুষ। দিনে এনে দিনে খাই। কিভাবে কিডনি কিনব, কেমন করে ভাইকে বাঁচাব? কোনো উপায় নেই। তাই ভাইকে বাঁচাতে আমি আমার একটি কিডনি দিতে চাই।

কিন্তু সেই কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজন টাকা। আর সে টাকা পেলেই হয়তো বেঁচে যাবে আমার ছোট ভাইটি।
মোজাহারুলের বাবা মমেদ আলী বলেন, আমার বড় মেয়ে কিডনি দিয়ে ছোট ভাইকে বাঁচাতে চায়। কিন্তু তা প্রতিস্থাপনের খরচ বাবদ ৮ লাখ টাকা জোগাড়ের সামর্থ্য আমাদের নেই। আমরা গরিব মানুষ। এ অবস্থায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সকলেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো বোনের দেয়া কিডনিতে বেঁচে যাবে ভাই। তাই আপনাদের কাছে আমার আবেদন আপনারা একটু সহযোগীতার হাত বাড়ালেই হয়তো ছেলেকে বাঁচানো সম্ভব, দয়া করে আমার ছেলেকে বাঁচান।

এলাকাবাসীর আবেদন অসুস্থ মেধাবী ছাত্র মোজাহারুলকে বাঁচাতে সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। সবার সহযোগিতা পেলে বাঁচবে মোজাহারুল। তাকে সাহায্য পাঠানো যাবে বিকাশ নম্বর-(০১৭৩৭৯৯৭৮৯৩)। এছাড়া লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ শাখার রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৯১৭৫ সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরে তাকে সাহায্য পাঠানো যাবে।
 

ট্যাগ: banglanewspaper কিডনি