banglanewspaper

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডের চিয়াং রাইয়ের থাম লুয়াং গুহা থেকে এপর্যন্ত মোট ৬ কিশোর উদ্ধার হয়েছে। এখনও গুহার ভিতরে আছে আরও ৬ কিশোর এবং তাদের কোচ এক্কাপোল চিন্থাওয়ং। রবিবার রাতে প্রথমে চারজন তারপর আরও দু'‌জনকে বের করে আনে উদ্ধারকারী দল। উদ্ধার হওয়া কিশোরদের সবাইকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন চিকিত্‍সকরা।

সোমবার সকাল থেকে ফের জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। কিন্তু নতুন করে বৃষ্টি এবং গুহার ভিতর অক্সিজেনের দেখা দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন উদ্ধারকারীরা। সেজন্য সকালেই গুহার কাছে পৌঁছে গিয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স। পাম্প করা হচ্ছে টাটকা অক্সিজেন। আরও অক্সিজেন সিলিন্ডার আনার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। কারণ গত শুক্রবার এক থাই নেভি সিল অফিসার অক্সিজেনের অভাবেই দমবন্ধ হয়ে মারা যান।

থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম গুহার একটি থাম লুয়াং। গত ২৩ জুন বেড়াতে গিয়ে বন্যার কারণে সৃষ্ট প্লাবনে আটকা পড়ে ফুটবল দলটি। এর ৯ দিন পর ২ জুলাই তাদের জীবিত থাকার খবর দেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। তারা গুহায় ঢোকার পর হঠাৎ ভারী বৃষ্টি এবং এতে সৃষ্ট বন্যায় ডুবে যায় গুহামুখ। ভেতরেও ঢুকে পড়ে পানি। প্রথমে ধারণা করা হচ্ছিল, এই গুহায় কিশোরের দল মাসব্যাপী থাকতে পারবে। তবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, আবারও বৃষ্টির পানি গুহায় ঢুকে যেতে পারে। তাই দ্রুত তাদের বের করে আনতে রোববার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এখন প্রশ্ন, কীভাবে চলেছে উদ্ধারকাজ। বিবিসিসহ কয়েকটি গণমাধ্যম সেই প্রতিবেদন ছাপিয়েছে।

গুহাটি সাপের মতো প্যাঁচানো। এর ভেতরে অনেক ফাটল আছে, যা উদ্ধারকারীদের জন্য যেকোনো সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। থাম লুয়াং গুহাটির কোথাও কোথাও ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু, কোথাও কোথাও অত্যন্ত সরু আবার কোথাও কোথাও সেটি পানিতে পূর্ণ হয়ে আছে। কাজটা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেটা স্পষ্ট হয়েছে একজন উদ্ধারকারী ডুবুরির মৃত্যুর ঘটনায়। থাই নৌবাহিনীর সাবেক একজন অভিজ্ঞ ডুবুরি তিন দিন আগে গুহার ভেতরে বাচ্চাদের কাছে অক্সিজেনের ট্যাংক পৌঁছে দিয়ে ফিরে আসার সময় মারা যান।

বন্যার পানিতে নিমজ্জিত গুহার যে শুকনো উঁচু জায়গাটিতে দুই সপ্তাহ ধরে দলটি আশ্রয় নিয়ে আছে, তাদের উদ্ধারে ৯০ জন অভিজ্ঞ ডুবুরি কাজ করছেন। দুজন ডুবুরির তত্ত্বাবধানে একেকজন কিশোরকে বের করে আনা হচ্ছে। পুরো পথ পার হতে তাদের অন্তত ছয় ঘণ্টা করে সময় লাগছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আটকে পড়াদের দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বের করা সম্ভব হবে। পানিতে ডুবে যাওয়া সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে এদের বাইরে আনার জন্য ডুবুরিরা নানা ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন।

থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে থাকা শিশুদের উদ্ধারকাজে ব্যবহার উপযোগী একটি ছোট আকারের সাবমেরিন তৈরি করেছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এলন মাস্ক। গতকাল রোববার এক টুইটে পরীক্ষামূলকভাবে ওই সাবমেরিন চালানোর কথা জানান তিনি।

গতকাল থাইল্যান্ডের গুহা থেকে চার শিশুদের উদ্ধার করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর একটি সুইমিং পুলে ছোট সাবমেরিন পরীক্ষা চালানোর ভিডিও প্রকাশ করেন মাস্ক।

তবে এ সাবমেরিন উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হবে কি না, তা এখনো জানায়নি থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ।

এ সপ্তাহের শুরুতে থাইল্যান্ডের সরকারকে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দেন এলন মাস্ক। তাঁর স্পেস এক্স ও দ্য বোরিং কোম্পানির প্রকৌশলীরা উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করতে চান।

মাস্কের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুবা গিয়ার পরা তিন ব্যক্তি সুইমিং পুলে টিউবসদৃশ একটি সাবমেরিন পরীক্ষা করছেন।

এ সাবমেরিন দুজন ডুবুরি টানতে পারবেন। এর ভেতরে একটি শিশুকে রেখে তাকে টেনে আনা যাবে। এতে তরল অক্সিজেন প্রতিস্থাপন টিউব ব্যবহার করা হয়েছে। এটি যথেষ্ট হালকা। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি পুলে তা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানান মাস্ক।

বোরিং কোম্পানির মুখপাত্র স্যাম টেলার বলেছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের চার প্রকৌশলী থাইল্যান্ডের সরকারকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

পরে আরও একটি টুইটে মাস্ক বলেছেন, তিনি যে সাবমেরিন নিয়ে কাজ করছেন, তাতে সামনে চারটি ও পেছনে চারটি হাতল রয়েছে। এতে চারটি এয়ার ট্যাংক যুক্ত রয়েছে। এটি সরু পথ দিয়ে নেওয়া সম্ভব।

ট্যাগ: banglanewspaper থাইল্যান্ড লাইভ